আপনি কি জানেন এখন থেকে 100 সেকেন্ড পরেই পৃথিবী ধ্বংস হতে চলেছে। এ কথা শুনে হয়তো আপনি চমকে গিয়েছে। যে এটা কিভাবে সম্ভব আর এর উত্তর আমরা জানতে চলেছি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পারমাণবিক বোমা ইউজ হওয়ার পর সবাই এর ভয়াবহতা দেখে চমকে গিয়েছিল। এর সাথে সাথেই যে জীববিজ্ঞানীরা এটম বোম তৈরি করেছিলেন তারাও অনেক মনোক্ষুন্ন হয়ে পড়ে।
1939 সালে আলবার্ট আইনস্টাইন নিজের একটি ইন্টারভিউতে বলেন যে আমি জানিনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হবে কিন্তু যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় তাহলে এটা শিওর যে চতুর্থ বিশ্ব যুদ্ধ অবশ্যই খালি হাতে এবং লাঠিসোটা দিয়ে হবে। কারণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এতো ক্ষয়ক্ষতি হবে যে পুরো হিউমিডিটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি বাই চান্স কেউ বেঁচে যায় তাহলে সেই জাতি এতটা পেছনে চলে যাবে যে তাদেরকে বিভিন্ন যুদ্ধ লাঠিসোটা নিয়ে করতে হবে। এই সব বিষয় গুলোকে দেখে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতের ব্যাপারে চিন্তা করতেই ভয় পাওয়া শুরু করে।
আধুনিক সময়কার হাতিয়ারগুলো এতটা মারাত্মক যে এগুলো জাস্ট কয়েকদিনের মধ্যে পুরো পৃথিবীকে তছনছ করে দিতে পারবে। যাকে বিজ্ঞানীরা Doomsdy নাম দিয়েছেন। যার মানে দাঁড়ায় কিয়ামতের দিন। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিল যে সামনে আসতে চলা টাইমে এটম বমের মতো ভয়ঙ্কর সব হাতিয়ার সবগুলো দেশের কাছেই থাকবে আর এইসব হাতিয়ার গুলোর উপর চিন্তা করে Doomsday Clock বানানো হয়েছে। এই ঘড়ি সময় বলে না ঠিকই কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে এই ঘড়ি বলে পৃথিবী কবে ধ্বংস হতে চলেছে।
এটি জাস্ট আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে বানানো একটি ঘড়ি। এ ঘড়িতে রাত বারোটা বাজার মানে হচ্ছে কেয়ামতের দিন মানে পৃথিবীর বিপর্যয়। 1947 সালে এই ঘড়িতে সর্বপ্রথম টাইম রাত বারোটা বাজার 7 মিনিট আগে সেট করা হয়েছে। আপনার জানার জন্য বলে দেইযে এই ঘড়িটা সময় যতই বারোটা বাজার কাছে যাবে ততই পৃথিবীর বিপর্যয় কাছে আসবে। যখন Doomsday Clock এ সময় বারোটা বাজার 7 মিনিট আগে সেট করা হয় ওই সময় বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে হতে চলা পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিল।
এর জন্য Doomsday Clock এর সময় বারোটা বাজার কাছাকাছি রাখে। কিন্তু এক বছর পর যখন বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অবস্থা ভাল দেখে তখন এই ঘড়িতে সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে Doomsday Clock এ প্রতি বছর জানুয়ারিতে পৃথিবীর অবস্থা দেখে সময়ের সমীক্ষা করা হয়। যদি পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধের পরিস্থিতি অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার সম্ভাবনা থাকে তাহলে এই ঘড়িতে সময় বারোটার কাছাকাছি করে দেয়া হয়। আর যদি পৃথিবীতে শান্তির পরিস্থিতি দেখা যায় তাহলে এই ঘড়িতে সময় বারোটা থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘড়িতে এখনো পর্যন্ত 22 বার সময়ের পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু সময় আগে উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা করা হয়। যার কারণে Doomsday Clock এ সময় দুই মিনিটে গিয়ে দেয়া হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত Doomsday Clock এ সময়ে 11:58 বেজে ২০ সেকেন্ড রয়েছে মূলত করোনা পরিস্থিতির জন্য 2020 সালের ঘড়ির কাটাকে বারোটা বাজার এতটা কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়। এই ঘড়ির অনুযায়ী বারোটা বাজতে আর মাত্র 100 সেকেন্ড বাকি রয়েছে যা থেকে আমরা বুঝতে পারি আমরা বিপর্যয়ের কতটা কাছাকাছি চলে এসেছি।
যদি ঘড়িতে বারোটা বেজে যায় তাহলে ওই সময় কোন দেশের জন্য ভালো হবে না কোনো ধর্ম বা জাতির মানুষের জন্য ভালো হবে না। এটা হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাড়। 14 নভেম্বর 2016 Oxford Union Debate Society লন্ডন এ যুগের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একটি সভায় বক্তব্য দেন। যেখানে কয়েকশো মানুষ স্টিফেন হকিং এর দ্বারা উদ্ভাবন করা নতুন কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাপার সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত ছিল। সবাই ভেবেছিল যে আজকে স্টিফেন হকিং সায়েন্স অথবা মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে নতুন কোন তথ্য শুনাতে চলেছেন।
যখন স্টিফেন হকিং নিজের ভাষণ দেন তখন পুরসভা চমকে যায়। কিন্তু কোন রোমাঞ্চকর ব্যাপারের জন্য নয় বরং ভয়ের কারণে। কারণ হাকিং বলেছিলেন সামনের 1000 বছরের মধ্যে পুরো মানুষ জাতি পৃথিবী থেকে ধ্বংস হতে চলেছে। প্রথমে তো মানুষরা স্টিফেন হকিং-এর কথাগুলোকে মজার ছলে নিচ্ছিল কিন্তু যখন স্টিফেন হকিং যুক্তি উপস্থাপন করেন তখন সবাই চিন্তায় পড়ে যায়। যখন স্টিফেন হকিং এর বক্তৃতা শেষ হয় ততক্ষনে বেশিরভাগ মানুষ তার সাথে একমত হয়ে গিয়েছিল।
তার প্রথম যুক্তি ছিল আজকের আধুনিক হাতিয়ারগুলো বর্তমান যুগের আধুনিক হাতিয়ারগুলো এই মানব জাতির ধ্বংসের সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে। যেমন আমরা জানি যে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় তাহলে সেটা মানুষের শক্তি নয় বরং আধুনিক টেকনোলজির যুদ্ধ হবে। এই যুদ্ধ কোন সাধারন যুদ্ধ না হয়ে এটমিক যুদ্ধ হবে। যার জন্য মারা যাবে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। আজ পুরো পৃথিবী জুড়ে 10 হাজারের চেয়েও বেশি এটমিক হাতিয়ার মজুদ আছে। যেগুলোর পাওয়ার হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে প্রয়োগ করা এটমিক হাতিয়ার গুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
যদি সাধারণভাবে বলি তাহলে এখন পৃথিবীতে এতগুলো এটমিক হাতিয়ার মজুদ আছে যা দিয়ে পুরো পৃথিবীরকে ৩০০ বারের চেয়েও বেশিবার ধ্বংস করা যাবে। স্টিফেন হকিং এর দ্বিতীয় যুক্তি ছিল গ্লোবাল ওয়ার্মিং আসল কারন অামরা মানুষরাই। বর্তমানে আমাদের পৃথিবীর অ্যাভারেজ টেম্পারেচার 14 ডিগ্রি সেলসিয়াস। 2014 তে ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটির রিপোর্ট এসেছিল যেখানে বলা হয়েছিল পৃথিবীর এভারেজ টেম্পারেচার মাত্র 4 ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে এখানে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে যাবে।
আর যেভাবে আমরা এখন গ্রীন হাউজ গ্যাস রিলিজ করছি তাতে হকিং এর ভবিষ্যৎবাণী সত্য হওয়ার কারণ হয়তো খুব দূরে নেই। স্টিফেন হকিং-এর এরপরের যুক্তি হচ্ছে আনএক্সপেক্টেড ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া। যেমন আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে করোনাভাইরাস পৃথিবীতে কত বড় বিপর্যয় ডেকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু যদি গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণ এই পৃথিবীর অ্যাভারেজ টেম্পারেচার আরো বাড়ে তাহলে সামনে আসতে চলার সময়ে করুনার চেয়েও ভয়ানক ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মানে আন্টার্টিকায় বরফের নিচে হাজার হাজার বছর ধরে অনেক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস চাপা পড়ে আছে। যদি পৃথিবীর অ্যাভারেজ টেম্পারেচার বেড়ে যায় তাহলে এই সমস্ত ক্ষতিকারক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া বরফের নিচ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং আমাদের আক্রমণ করবে স্টিফেন হকিং শেষ যুক্তি দিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে যার মানে হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। রোবটের মধ্যে দেওয়া বুদ্ধিমত্তা যেন মানুষের ক্ষতির কারণ না হয় এটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক চিন্তা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তিন ভাগে ভাগ করে। উইয়িক এআই, স্ট্রং এআই, সিঙ্গুলারিটি এআই। বর্তমান সময়ে আমরা উইয়িক এআই ইউজ করছি।উইয়িক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেগুলোর বুদ্ধি মানুষের চেয়ে কম। কিন্তু যে গতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে তাতে কয়েক দশকের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্ট্রং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর পরিণত হবে। স্ট্রং এআই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন মানুষের সমান চিন্তা করতে পারবে।
যদি সত্যিই এসব মেশিন গুলো মানুষের সমান বুদ্ধিমত্তার হয়ে যায় তাহলে যদি এটা আমাদের কথা শুনে তাহলেতো এদেরকে আমরা অনেক ফায়দা কাজে লাগাতে পারবো। কিন্তু যদি এরা আমাদের কথা না শোনে এবং আমাদের বিরোধিতা করে বসে তাহলে এদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যদি রোবটের বুদ্ধি মানুষের বুদ্ধির চেয়েও বেশি হয়ে যায় তাহলে এই এআইকে বলা হবে সিঙ্গুলারিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর এটি হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর এই স্টেজ যা দেখে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।
কারণ এখন আমরা জানি যে আমরা মানুষরা এই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। আমরা পৃথিবীতে অবস্থান করা সব প্রাণীদের ওপর রাজত্ব করে থাকি। কিন্তু যদি রোবট আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে যায় তাহলে কি আমি পৃথিবীতে রাজত্ব করতে পারব। এই প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের ভয়ের কারণ। স্টিফেন হকিং এর মতে যদি মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে আমাদের কাছে মাত্র একটা অংশ নিয়ে আসবে আর সেটি হচ্ছে পৃথিবীর বাইরের কোন গ্রহে গিয়ে সেখানে বসবাস স্থাপন করা এবং সেই গ্রহকে মানুষের বসবাসের মতো উপযুক্ত বানিয়ে নেয়া।
কিন্তু পৃথিবীর বাইরের কোন গ্রহে মানুষদের উপযুক্ত করে বানানো কোন সাধারণ কথা নয়। বর্তমান সময়ে অনেক বিজ্ঞানী চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষের থাকার মত কলনি বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই চেষ্টা সফল হতে আরো অনেক সময় লাগবে। এখন বর্তমান সময়ে আমরা মানুষরা একটা এরকম স্টেজে রয়েছি যেখানে যেকোনো সময় বিশ্ব যুদ্ধের মাধ্যমে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তার সাথে সাথেই হঠাৎ করেই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া আমাদের আক্রমন করছে।
যার কারণে আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।তাছাড়া গ্লোবাল ওয়ার্মিং অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বন্ধুরা যদি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলে একটি লাইক দিন আর্টিকেলটি শেয়ার করুন আপনার কাছের বন্ধুদের সাথে।