অমর একুশে বইমেলা ২০২৩: জানুন বিস্তারিত তথ্য
সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমির মূলমঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি মঞ্চে উপস্থিত না থেকে ভার্চু৵য়ালি গত দুটি মেলার উদ্বোধন করেছেন। ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল এবং চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হয়েছিল। চলুন অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ এর পরিসর কেমন হবে?
এবারের মেলাও হবে দুটি অংশে। বাংলা একাডেমির মাঠে থাকবে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার স্টল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ থাকবে প্রকাশকদের জন্য। উদ্যানের প্রায় ছয় লাখ বর্গফুট এলাকা নিয়ে হবে মেলার পরিসর। একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন) ও মেলা কমিটির সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম জানান, গতবার মেলার এত বড় পরিসর নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। তবে মেলার পরিসর ছোট করা হবে না। কারণ, প্রতিবছরই লোক বাড়ছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে এবার স্টলসহ অন্যান্য সেবার বিন্যাস পরিবর্তন করা হবে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ এর স্টল কেমন হবে?
প্রকাশনার সব স্টল থাকবে স্বাধীনতাস্তম্ভের সামনে থেকে উদ্যানের পশ্চিম অংশে। শিশুদের বইয়ের কর্নার থাকবে মুক্তমঞ্চের কাছে। এই অংশে এবার অন্য কোনো স্টল থাকবে না। ফলে যাঁরা শুধু বই কিনতে চান, তাঁদের আর পূর্ব–পশ্চিম দুই প্রান্ত ঘুরতে হবে না।
পূর্ব প্রান্ত অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশের অংশে থাকবে খাবারের দোকান, মোড়ক উন্মোচন, লেখক বলছি মঞ্চ, নামাজের স্থান, শৌচাগার ও মেলার সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনা। এবার মেলার ভেতরে ক্রেতাদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। গাড়ি পার্কিং থাকবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রান্তের প্রবেশপথের পাশে।
এ ছাড়া এবার ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রবেশপথের সামনে বড় আকারের দুটি ডিজিটাল বোর্ডে মেলার দিকনির্দেশনা থাকবে। উপরন্তু প্রতি সারির সামনে স্টলের নম্বর ও প্রকাশকদের পরিচিতিসহ একটি করে ডিজিটাল বোর্ড বসানো হবে। এতে পছন্দের প্রকাশকদের স্টল খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
সদস্যসচিব জানান, স্টল বরাদ্দের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ৬ ডিসেম্বর, যা শেষ হয়েছে ২০ ডিসেম্বর। ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্পনসরের জন্য ই-টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছ। শিগগিরই চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে অবকাঠামো তৈরির কাজ।
কেমন ছিলো অমর একুশে বইমেলা ২০২২?
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ সম্পর্কে তো জানলেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অমর একুশে বইমেলা ২০২২ সম্পর্কিত তথ্য। গত বছর নির্ধারিত সময়ের পরে শুরু হয়েছিল বইমেলা। ওই বছর প্রায় সাড়ে ৫২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির বই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার। মোট বই প্রকাশ হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টি। মেলার শেষদিনেও ২১৫টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে মানসম্পন্ন বই নির্বাচিত হয়েছে ৯০৯টি, যা পুরো বইয়ের ২৬ শতাংশ।
ইতি কথা
লেখক ও প্রকাশকরা হয়তো তাদের বিগত বছরের ভয়ানক আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইবেন এবারের বইমেলায়। পাঠকরাও হয়তো প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে একটি প্রাণবন্ত ঝলমলে বইমেলার জন্য অপেক্ষা করছেন। আশা করি অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ শতভাগ সফল হবে।