ads

মুসলমানের জন্য অন্য যে কোন প্রকার দিবস কি পালন করা বৈধ?

আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে সোমবার রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে, যেহেতু জন্মেছি এই জন্ম টা আল্লাহ তাআ'লা আমাকে না দিলেও পারতেন। জন্মের শুকরিয়া স্বরূপ আমি রোজা রাখি এবং এ দিনে আমাকে নবুয়ত দেওয়া হয়েছে বা আমার ওপর কোরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)


মুসলমানের জন্য অন্য যে কোন প্রকার দিবস কি পালন করা বৈধ? জন্মদিন পালন করা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? বিজয় দিবস পালন করা কি?  জন্মদিন পালন করা হারাম কেন জন.jpg

নবী করিম (সাঃ) এর জন্মদিন সাহাবারা পালন করতেন না। নবীজি (সা:) ও পালন করতেন না।


★শুধু জন্মদিন নয়, কোন বিবাহ বার্ষিকী, মৃত্যু দিবস ইত্যাদি যাই হোক না কেন, কোন দিবসই পালন করা জায়েজ নয়।


প্রথম কারণঃ বিজাতীর অনুসরণ 

এই ধরনের যত প্রকার দিবস রয়েছে সেগুলোর কোনটাই মুসলিমদের সংস্কৃতি নয়।


যদি এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি হতো তবে এগুলো সাহাবাদের যুগ থেকেই পালিত হয়ে আসতো। তাই যেহেতু এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি নয় তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে এগুলো কাফের-মুশরিক বিজাতীয়দের সংস্কৃতি থেকে এসেছে।


আর এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, 

'যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে।'

(আবু দাউদহা/৪০৩১)


আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা:) থেকে বর্ণিত, 

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মুশরিকদের দেশে বাড়ি তৈরি করল, তাদের উৎসব দিবস পালন করল এবং এ অবস্থায় মারা গেল তবে তার হাশর তার সাথেই হবে। (সূনানে বাইহাকী: ২৩৪)


নবী মুহাম্মদ (সা:) বলেন, 'যে ব্যক্তি বিজাতীয়দের তরীকা অনুযায়ী আমল করে, সে আমাদের কেউ নয়।'(ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৯৪নং)


'আমাদের তরীকা ওদের(মুশরিকদের) তরীকা থেকে ভিন্ন।'(বাইহাকী ৫/১২৫, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৯৪)


সাওবান (রা:) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আমি সবচেয়ে যাদের বেশি ভয় করি তারা হচ্ছে নেতা ও এক শ্রেণির আলেম সমাজ। অচিরেই আমার উম্মতের কিছু লোক বিজাতীয়দের সাথে মিশে যাবে।'

(ইবনে মাজাহ : ৩৯৪২। হাদ সহি)


আবু সাইদ খুদরী রা: থেকে বর্ণিত, 

নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, 'অবশ্য অবশ্যই তোমরা তোমাদের আগের লোকদের নীতি-পদ্ধতিকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে।

এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে ঢুকে, তাহলে তোমরাও তাদের অনুকরণ করবে।' আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! এরা কি ইয়াহুদী ও নাসারা? তিনি (সা:) বললেন, আর কারা? (সহিহুল বুখারী ৭০২)


দ্বিতীয় কারণঃ মুসলিমদের জন্য দিবস শুধু দুইটি। 


ইসলামে দুইটি দিবস ব্যতীত অন্য তৃতীয় কোন দিবস পালন করা তো এমনিতেই নিষেধ। 

আনাস (রা:) বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখলেন যে, মদিনাবাসীরা দুটি ঈদ(আনন্দের দিন) পালন করছে। তা দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহীলিয়াতের যুগে তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা, আনন্দ-ফুর্তি করতে। এখন ওই দিনগুলোর পরিবর্তে আল্লাহ তাআ'লা তোমাদেরকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন। (আবু দাউদ, ১০০৪, নাসাই: ১৫৫৫, হাদিস সহিহ)


এই হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন ঐ দুই দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তোমাদেরকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন। 


যেহেতু আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অন্য মানব রচিত গুলো পরিবর্তন করে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন তাই অন্য যেকোন দিবস পালন করা বাতিল হয়ে যায়। 


তাই কোন মুসলমানের জন্য অন্য যে কোন প্রকার দিবস পালন করা বৈধ নয়, হোক সেটা জন্মদিন, শোক দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, নববর্ষ ইত্যাদি যাই হোক না কেন, তা পালন করা যাবে না।

Previous Post Next Post

{ads}