ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ও তাদের কাজ ২০২৩ | ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এবং এর উপকারিতা
প্রতিটি মানুষের দেহে রক্তের সঠিক সঞ্চালন বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসাবে কাজ করে। আপনি নিজেকে রক্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগ থেকে যতটা সম্ভব সারিয়ে রাখতে পারবেন, আপনার ঠিক ততটা সুস্থতা নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে রক্তের সঞ্চালনকে সুস্থ রাখতে কিংবা সোজা কথায় রক্তের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপনাকে সাহায্য নিতে হবে আয়রনের। যা সরাসরি পেতে পারেন আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের মাধ্যমে।
আমাদের আজকের আর্টিকেলটিকে সাজানো হয়েছে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা, অপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম এবং সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে। সুতরাং শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ও তাদের কাজ ২০২৩
শুরুতেই বলে রাখি আমাদের দেহে আয়রনের সাথে সকল ধরণের ভিটামিন মিলিতভাবে কাজ করে থাকে। সোজা কথায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবারে যেমন আপনি বিভিন্ন ভিটামিন পাবেন, ঠিক তেমনই কেবলমাত্র আয়রন সমৃদ্ধ খাবার আপনার সম্পূর্ন সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাখবে না। চলুন তবে একনজরে দেখে নেওয়া যাক ২০ টি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ও তাদের কাজ কি কি সে-সম্পর্কে:
বাঁধাকপি: ভিটামিন সি জাতীয় সবজি
উচ্চ ভিটামিন সি খাবারগুলির মধ্যে একটি হলো এই বাঁধাকপি। আপনি যদি আধা কাপ বাঁধাকপি রান্না করে খান সেক্ষেত্রে আপনি ৩১ শতাংশ ভিটামিন সি পাবেন। শুধু তাই নয়। বাঁধাকপি ভিটামিন সি ছাড়াও ফোলেট, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস হিসাবে কাজ করে থাকে।
বাঁধাকপি খেলে যা হয়
নিয়মিত বাঁধাকপিকে খাবারের লিষ্টে রাখলে তা হজম, রক্তচাপ কমাতে, আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
ফুলকপি: ভিটামিন সি জাতীয় সবজি
আপনি যদি একইসাথে বিভিন্ন ভিটামিন এবং আয়রন সমৃদ্ধ সবজি খুঁজে থাকেন সেক্ষেত্রে ফুলকপিকে বাছাই করে নিতে পারেন। ফুলকপি মূলত ভিটামিন সি এর একটি আদর্শ উৎস হিসাবে কাজ করে। আধা কাপ কাঁচা ফুলকপিতে আপনি ২৯ শতাংশ ভিটামিন সি পাবেন। তবে তা রান্না করার ফলে বা রান্না করার ধরণের কারণে কিছুটা পরিমাণের হেরফের ঘটতে পারে।
ফুলকপি খেলে যা হয়
ফুলকপিকে নিয়মিত খাবারের আয়োজনে রাখতে পারলে দেহের ভিটামিন কে, ফোলেট এবং ভিটামিন বি ৬ এর অভাব পূরণ হয়। এছাড়াও আয়রনের ক্ষেত্রে এটি পটাসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস হিসাবে কাজ করে থাকে।
সরিষার শাক: ভিটামিন সি জাতীয় সবজি
আমরা বাঙালিরা হয়তো অনেকেই জানি যে, সরিষার ফুল এবং সরিষার শাক উভয়ই খাওয়া যায়। যা ভিটামিন সি এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে কাজ করে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত ১ কাপ সবুজ সরিষার শাক খেতে পারেন তবে আপনি এর বিপরীতে পাবেন ভিটামিনের ডিভির ২২৭ শতাংশ পুষ্টি। যারা শাক খেতে পছন্দ করেন না তারা হালকা তেলে ভেজে একদিন উপভোগ করতে পারেন। দেখবেন প্রতিদিনই আপনার এই খাবার খেতে ইচ্ছে করছে।
সরিষার শাক খেলে যা হয়
সরিষার ফুলে ভিটামিন সি এর পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন এ, ফোলেট এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। সুতরাং দেহে এসব পুষ্টি উপাদানের অভাব মেটাতে চাইলে আজ থেকেই ডাইনিংয়ে রাখুন সবুজ এবং টাটকা সরিষার শাক।
তরমুজ: ভিটামিন সি জাতীয় ফল
চলছে গরমের দিন। এই সময়ে ভেতরটাকে ঠান্ডা করতে প্রয়োজন কিউপ করা ফ্রেশ তরমুজ বা তরমুজের ঠান্ডা জুস। আপনি কি জানেন, এই তরমুজেও কিন্তু রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি নামক পুষ্টি উপাদান? গবেষণা বলছে প্রতি ১ কাপ কাটা তরমুজে পাওয়া যাবে ভিটামিন সি ডিভির ৫৩ শতাংশ অংশ। বলে রাখা ভালো তরমুজের পুষ্টিমান বজায় রাখতে হলে অবশ্যই তা কিউপ করে কেটে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
তরমুজ খেলে যা হয়
শুরুতেই বলেছি তরমুজ ভিটামিন সি এর দারুণ উৎস হিসাবে কাজ করে। তবে আপনি জেনে আরো খুশি হবেন যে এই তরমুজ আপনার পটাশিয়াম গ্রহণের দিকটিও নিশ্চিত করবে। তাছাড়া তরমুজ মানবদেহে বিভিন্ন হার্টের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোনো ব্যাক্তি যদি নিয়মিত তরমুজ খায় তবে সে রক্তের শর্করা নিমন্ত্রণ করতে পারবে এবং তার ত্বক হয়ে উঠবে অধিক লাবণ্যময়ী।
পেয়ারা: ভিটামিন সি জাতীয় ফল
ভিটামিন সি জাতীয় ফল হিসাবে আমরা পেয়ারা নিয়ে কথা বলতে পারি। এই দেশী ফল খেলে আপনি পেয়ে যাবেন ভিটামিন সি ডিভির ১৪০% শতাংশ অংশ। আরেকটি বিষয়! আপনারা যারা মনে করেন কেবলমাত্র লেবু বা কমলালেবু মানেই ভিটামিন সি এর দারুণ অংশ, তারা সত্যিকার অর্থেই ভুল তথ্য নিয়ে পড়ে আছেন। মূল সত্য হলো লেবু বা কমলালেবু ছাড়াই পেয়ারাতেও আপনি পাবেন প্রচুর পরিমাণে ভিটমিন সি।
পেয়ারা খেলে যা হয়
পেয়ারা মানবদেহে অধিক পরিমাণে ভিটামিন সি এর অভাব দূর করে। গবেষণায় দেখা যায় প্রতিটি পেয়ারায় ভিটামিন সি-এর পরিমাণ এতো বেশি থাকে যে তা অন্য যেকোনো সাধারণ সাইট্রাস ফলের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে।
ভিটামিন এ জাতীয় খাবার: ভিটামিন এ সবচেয়ে বেশি কোনটিতে?
ভিটামিন এ'কে সাধারণত ধরা হয় প্রো-ভিটামিন হিসাবে। আপনিও যদি এই প্রো-ভিটামিনের অভাব পূরণ করতে চান বা নির্দিষ্ট পরিমাণে নিয়মিত গ্রহণ করে সুস্থ থাকতে চান, তবে আর্টিকেলকে এই অংশটি কেবল আপনার জন্যেই। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ভিটামিন এ জাতীয় খাবারগুলি কি কি সে-সম্পর্কে:
গাজর: ভিটামিন এ জাতীয় ফল
গাজর হলো ভিটামিন এ এর সবচেয়ে ভালো উৎস। সুতরাং দেহে ভিটামিন এ এর অভাব দূর করতে চাইলে আপনি রান্না করা বা কাঁচা গাজর খেতে পারেন। তাছাড়া ভালোভাবে উন্নত-স্বাদের গাজর রান্না করতে পারলে তো কোনো কথাই নেই। স্বাদ এবং পুষ্টিমান দু'টো একসাথেই নিশ্চিত হবে।
দুগ্ধজাত খাবার: ভিটামিন এ জাতীয় খাবার
দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণেও আপনিও পেতে পারেন ভিটামিন এ এর নিশ্চয়তা। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন মুদি দোকান থেকে কিনে দুধ এড়িয়ে চলার অনুরোধ করবো। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় আশেপাশের কোনো খামারি প্রতিবেশীর কাছ থেকে এই দুধ সংগ্রহ করে নিতে পারলে।
হরেক রকম শাক: ভিটামিন এ জাতীয় শাক-সবজি
বলে রাখা ভালো যেকোনো ধরণের শাকেই আপনি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ পাবেন। যেমন ধরুন পালং শাক, লাল শাক, সরিষার শাকসহ গ্রামে অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে উঠা বিভিন্ন ধরণের শাক। এসব শাক কিন্তু দুইভাবে রান্না করা যায়। একদিকে আপনি চাইলে এই রেসিপি ঝোল দিয়ে রান্না করতে পারেন! আবার অন্যদিকে আপনি চাইলে এই রেসিপি হালকা তেলে ভেজেও রান্না করতে পারেন। দুইভাবেই রান্না করতে পারলে দারুণ মজা লাগে। আর যে খাবার স্বাদ এবং পুষ্টির দিক দিয়ে ভরপুর সেই খাবার এড়িয়ে চলার কোনো মানেই হয় না।
ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এবং এর উপকারিতা
আমাদের দেহে যেসমস্ত ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম সেসমস্ত ভিটামিনের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হলো এই ভিটামিন ডি। যা ব্যাক্তির বয়স, ত্বকের রঙ এবং শরীরের ওজন সহ বিভিন্ন কারণের উপর ভিত্তি করে গ্রহণ করতে হয়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এবং এর উপকারিতা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
মাশরুম: ভিটামিন ডি জাতীয় সবজি
ভিটামিন ডি এর ক্ষেত্রে মাশরুম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার উৎস হিসাবে কাজ করে থাকে। গবেষণা বলছে যেকোনো মাশরুমের পুষ্টিতে উদ্ভিদের একপ্রকার স্টেরল থাকে। যা অতিবেগুনী রশ্মিকে ভিটামিন ডি-তে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া মাশরুমকে পাঁচ মিনিটের মতো অতিবেগুনী রশ্মির মাঝে রাখতে পারলে তাতে অসম্ভব পরিমাণে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়। যাইহোক! মাশরুম কিন্তু বিভিন্নভাবে রান্না করা হয়। স্যুপ হিসাবে, সবজির সাথে, নুডলসের সাথে চাইলেই আপনি এই মাশরুম রান্না করতে পারেন৷
দুগ্ধজাত খাবার: ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার
অনেকেই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারকে ভিটামিন এ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে না। যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এই ধরণের খাবার কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ উৎপাদন করে থাকে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার এর একটি তথ্য অনুসারে, প্রতি কিলো দুধে ৪০০ আইইউ ভিটামিন ডি থাকে। তবে দুধ থেকে তৈরি খাবার যেমন পনির এবং আইসক্রিম টাইপের খাবারগুলিতে ভিটামিন এ এর পরিমাণ নেহায়েতই কম থাকে। তাছাড়া গবেষণায় প্রমাণিত যে, কৃত্রিম ভিটামিন ডি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ভিটামিন ডি-এর তুলনায় খুব একটা বেশি কার্যকর নয়। অন্যদিকে, কাঁচা দুধে প্রাকৃতিকভাবে অল্প পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকলেও তা গরম করলে এর চর্বিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যুক্ত হয়।
শেষ কথা
আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি সম্মানিত পাঠকদের আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন করে তুলবে। চেষ্টা করুন দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সাহায্য করার জন্য প্রচুর পরিমাণে আয়রনযুক্ত খাবার গ্রহণ করার। এতে করে রক্তস্বল্পতাসহ বিভিন্ন রোগ হতে দ্রুত মুক্তি লাভ করবেন আপনিও! সুস্থ থাকুন এবং নিজের যত্ন নিন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।