হুররাম সুলতানের পরিচিতি: হুররাম সুলতানের ছবি
উসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রথম দাসী থেকে হাসেকি হওয়া সুলতানা। তার নাম ছিলো আলেকজান্দ্রা লারোসা বা রোজ। তিনি বর্তমান ইউক্রেনে জন্ম গ্রহণ করেন।
অন্যান্য দাসীদের সাথে তাকেও ১৫ /১৬ বছর বয়সে ক্রিমিয়ান তাতাড়িরা দাসী হিসেবে সুলতান সুলেমান খানের প্রাসাদে উপহার হিসেবে পাঠান।
নিজের অসাধারন সৌন্দর্য ও কুট কৌশল দ্বারা খুব তাড়তাড়ি প্রাসাদে ও সুলতান সুলেমানের মনে জায়গা করে নেন তিনি। তবে তিনি যত উপরে উঠতে লাগলেন, তত প্রাসাদের সবার চোখের বিষ হতে শুরু করলেন।
জানা যায়, বিবাদ করতে করতে সুলেমানের খাসবাদী ও শেহজাদা মোস্তফার মা (সে হাসেকি ছিলো কিনা তা নিয়ে ইতিহাসবিদরা একমত নন) তাকে মারেনও।
জানা যায়, সুলেমানের বোন শাহজাদী হেতিজা হুররামকে ৮ বছর বন্দী করে লুকিয়ে রেখেছিলো হিংসায়। তার এই কাজের কারন ছিলো হুররামের ইব্রাহিম পাশাকে মেরে ফেলার পেছনে হাত ছিলো এমন ধারনা পুষে রাখা।
তিনি পরপর ৫ শাহজাদা ও ১ শাহজাদীর জন্ম দেন।
শাহজাদা মেহমেত মাহিদেভ্রানের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।
অন্যদিকে মিহরিমা সুলতান ৫৫ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু বরন করেন। তিনিই সুলেমান ও হুররামের সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন জীবিত ছিলেন। শেহজাদা সেলিমও অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
শাহজাদা বেয়াজিদ তার ভাই সেলিমের হাতে মারা যান সিংহাসনের সংঘর্ষে। শেহজাদা আব্দুল্লাহ জন্মের কয়েক মাস পর মারা যান।
অন্যদিকে শেহজাদা জাহাঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক ভাবে ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আনুমানিক ২৩ ২৪ বছর বয়সে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
এই ৫ শাহজাদার মা হাসেকি প্রকৃতপক্ষে ভালো খারাপ মেশানো একজন মানুষ ছিলেন। কারো কারো ক্ষেত্রে ছিলেন একজন দয়ালু সম্রাজ্ঞিনী। আবার কারো ধারনা ছিলো তিনি ছিলেন একজন জঘন্য ডাইনী।
এই নারী মানে হুররাম সুলতান তোপকাপি প্রাসাদে ৫৫ বছর বয়সে অজানা রোগে (সম্ভবত আলসার) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।