ads

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য 

পারমাণবিক বোমা কিংবা পারমাণবিক বিদ্যুৎ…দুটোই আজকের এই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কান্ডারী। দেশের এই গরম পরিস্থিতে পারমাণবিক বোমার চাইতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিই যেনো হয়ে উঠেছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা। চলুন তবে আজ দেশের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি উন্নয়ন প্রকল্প অর্থ্যাৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প কিংবা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রথম আলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কবে উদ্বোধন করা হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কত মেগাওয়াট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাধারণ জ্ঞান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ এর উৎপাদন ক্ষমতা কত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা কত.jpg

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচিতি

মূলত ফিউশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন করাই হলো যেকোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কাজ। এদিক দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের দেশেও থাকবে উন্নত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পরিচালিত হবে এর সকল গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি। সেই সুবাদে আমাদের দেশেই তৈরি করছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বলে রাখা ভালো এর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে "রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র"। 


রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন নামক একটি সংস্থা এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রকল্পের সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এর প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। 


বলে রাখা ভালো, এই প্রথম কোনো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো সেই ১৯৬১ সালের দিকে। সে-সময় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও স্থান হিসাবে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী রূপপুরকে নির্বাচন করা হয় পরের বছর অর্থ্যাৎ ১৯৬২ সালে। তবে দুঃখের বিষয় হলো সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৯৬৯ সালে এসে বাতিল করে দেওয়া হয় এই উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারটি। 


অবশেষে নানান ধরণের নাটকীয়তা শেষে ১৯৮৭ সালে এসে বাংলাদেশ সফল হয়। চূড়ান্ত হয় জার্মানী ও সুইজারল্যান্ডের দুটি কোম্পানির আন্ডারে তৈরি হবে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সবশেষে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠা-প্রকল্প। যারই ধারাবাহিকতায় এখনো এগিয়ে চলছে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি। আশা করি এই কেন্দ্রই একসময় হয়ে উঠবে বাংলা মানুষের বিদ্যুতের অভাব দূর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? 

এবার আসি এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঠিক অবস্থানের ব্যাপারে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে তৈরি করা হচ্ছে পাবনা জেলায়। এর সঠিক অবস্থান হলো পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী রূপপুর গ্রাম। যা রাজধানী ঢাকার মেইন সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। 


যেহেতু এই ধরণের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন পড়ে সেহেতু এই কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে একেবারে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ও লালন শাহ সেতুর পাশেই! 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন হয়েছিলো কবে? 

২০১৩ সালের ২ অক্টোবর তারিখ থেকে শুরু হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের কাজ। আবার ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তারিখ শুরু হয় কংক্রিটের ঢালাইয়ের কাজ। অন্যদিকে পারমাণবিক চুল্লিপাত্র স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে এবং এর উদ্ভোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল টেকনোলজির মাধ্যমে। যদিও এই চুল্লি সরাসরি বাংলাদেশেই তৈরি করা হয়নি। কারণ এই দেশে এই ধরণের চুল্লি বানানোর জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। ফলে অগত্যা চুল্লি বানাতে রাশিয়ার সাহায্য নিতে হয়েছে। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা কত? 

২.৪ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। মূলত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সবদিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বলে রাখা ভালো এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং উৎস হলো পদ্মা নদী। এছাড়াও যারা এই কেন্দ্রের তাপীয় ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চান তাদের বলে রাখা ভালো এর তাপীয় ক্ষমতা হলো ২ × ৩২০০ মেগাওয়াট এবং তাপীয় নামফলক ধারণক্ষমতা ২৪০০ হলো মেগাওয়াট। যা ২.৪ গিগাওয়াটের মেগাওয়াট রূপ৷ 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ কত বছর? 

১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা হাতে নিয়ে কাজে নেমে পড়া এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে মূলত ৬০ বছর। টানা ৬০ বছর ধরে এটি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে হিসাব করলে এই কেন্দ্রের টাইমলাইন হবে জুলাই ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সাল পর্যন্ত। দেখা যাক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এগিয়ে চলা এই প্রকল্পের শেষটা কেমন হয়। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহায়তাকারী দেশ কোনগুলি? 

শুরুতেই এর সহায়তাকারী দেশ হিসাবে রাশিয়ার কথা বলতে হয়। মূলত পাবনা জেলার রূপপুরে স্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক চুল্লিটি নির্মিত হয়েছে রাশিয়ায়। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপ, সেই সাথে ভারতের পরমাণু শক্তি সংস্থাও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি সহায়তা নিশ্চিতে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। 


এছাড়াও বাংলাদেশ ও রুশ ফেডারেশনের মধ্যে “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়ায় ফিরিয়ে নিতে পারস্পরিক সহায়তা” সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুবিধাগুলি কি কি? 

যেহেতু এটি একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প সেহেতু এর সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে আমাদের সকলেরই সচেতন থাকা উচিত। চলুন তবে আর্টিকেলের এই অংশে আলোচনা করা যাক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুবিধাগুলি কি কি হতে পারে সে-সম্পর্কে: 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো এর নিরাপত্তা বেষ্টনী। এটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে করে কোনো কারণে দূর্ঘটনা ঘটলে বড় কোনো ক্ষতি ছাড়াই কতৃপক্ষ যেনো সামলে নিতে পারে। 


রূপপুরের এই কেন্দ্র মূলত ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। যা আসবে সরাসরি ২ টি ইউনিট থেকে। আর এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিকে যথেষ্ট পরিমাণে সাপোর্ট করবে। 


শাক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভুমিকম্প, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসকে মোকাবেলা করার সক্ষমতাসহই তৈরি হচ্ছে রূপপুরের এই বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। সুতরাং বড় কোনো দূর্ঘটনায়ও টিকিয়ে রাখা যাবে নিরাপদে। 


উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির চাইতে এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মান যথেষ্ট ভালো। খুব কম জায়গায় নির্মিত হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। 


বিশ্বে পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ মোটেও কম নয়। বরং এই অতিরিক্ত পরিমাণের জ্বালানি খাতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর মতো সুবিধাকে কাজে লাগানোই হবে সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কতটুকু? 

আমাদের আজকের আর্টিকেলের এই অংশটি কিন্তু কিছুটা সেনসিটিভ। মূলত এই ধরণের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর করবে পারমাণবিক জ্বালানির দামের উপর। পৃথিবীতে অসংখ্য পরিমাণ এই জ্বালানি থাকলেও একটা সময়ে গিয়ে বিভিন্ন কারণে এর দাম বেড়ে যায়। ফলে যেকোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। 


আপাতত পরিস্থিতি ঠিক থাকলেও ভবিষ্যতে যদি এমন বিপদ দেখা দেয় তবে কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থনৈতিক গুরুত্ব" বাক্যটি সরাসরি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হবে। আর যদি সবকিছু ঠিক থাকে তবে বিদ্যুতের দাম কমে আসার পাশাপাশি কম জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যুগোপযোগী উন্নয়ন সাধন সম্ভব হবে। 


ইতি কথা

এই ছিলো আমাদের আজকের এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা। আশা করি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে পেরেছি। সেই সাথে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কেও কিছুটা প্রাথমিক ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি। সেই সুবাদে যদি আর্টিকেলটি আপনাকে এতটুকুর জন্যে হলেও উপকৃত করে সেক্ষেত্রে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু। ধন্যবাদ সবাইকে। 


FAQ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প কতটা যুগোপযোগী? 

বর্তমান বিশ্ব খুব দ্রুতগতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে মনোযোগী হয়ে উঠছে। সেদিক দিয়ে বলা যায় এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই সময়ে দাবি। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কি দূর্ঘটনা প্রতিরোধী কেন্দ্র? 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে দূর্ঘটনার সংখ্যা কিন্তু অনেক কম। পাশাপাশি সম্ভাবনাও কম। সুতরাং নিশ্চিন্তে এর সুবিধা ভোগ করা যাবে। 


রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় কি শুধু বাংলাদেশ বহন করছে? 

না। বলে রাখা ভালো রূপপুর প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে রাশিয়া শতকরা ৯০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রায় ১১.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বাকিটুকু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নেরই ফল। 


Previous Post Next Post

{ads}