বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা: বই পড়লে কি হয়
বই পড়া মানে নিজের একটি আলাদা জগৎ তৈরি করা। এই জগতে অভিজ্ঞতার চাইতে জ্ঞানকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। চলুন তবে আজ এই একের ভেতর সব সলুশ্যন অর্থ্যাৎ বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই।
১. মূল্যবান জ্ঞান অর্জন: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
বলা হয় যেকোনো ইউটিউব ভিডিও পডকাস্টের চাইতে একটি বইয়ে অনেক বেশি পরিমাণে তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
![]() |
বই পড়লে কি হয়..জানুন |
আপনি যদি মনে করেন আপনার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তথ্যের প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে আপনি ভিডিও দেখার পরিবর্তে বই পড়তে পারেন। মনে রাখবেন:
একজন লেখক একটি বই তৈরিতে যে পরিমাণে এফোর্ট দেয় একজন ভিডিও মেকার সে পরিমাণ এফোর্ট তার ভিডিওতে দেয় না
ভিডিও তৈরির তুলনায় একটি বই লেখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিমাণ সময়ের প্রয়োজন হয়
এছাড়াও, আপনি যেকোনো বই থেকে আক্ষরিক অর্থে কিছু শিখতে পারবেন
২. মস্তিষ্কের ব্যায়াম: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
ভালো কোন কিছু পড়া মানেই নিজের মস্তিষ্কের ব্যায়ামে সাহায্য করা। একটি গবেষণা থেকে জানা যায় বই পড়লে আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন সংকেত গুলি যে নেটওয়ার্ক তৈরি করে তা আমাদের মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
এছাড়াও বিভিন্ন উপন্যাস কিংবা গল্পের বই পড়া আমাদের মস্তিষ্কের সংযোগ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে আপনি যদি নিয়মিত হারে এই মস্তিষ্কের ব্যায়াম না করেন সে ক্ষেত্রে তা আপনার মেমোরিকে আরো দুর্বল করে তুলবে।
৩. ফোকাস করার ক্ষমতা: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
বই পড়ার ১০ টি উপকারিতার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হলো কোনকিছুতে ফোকাস করার ক্ষমতা বৃদ্ধি। কারন মনোযোগ দিয়ে কোন বই পড়লে তা আমাদের ফোকাস করার ক্ষমতাকে অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়।
যদিও দুঃখের বিষয় হলো বর্তমানে মাল্টিটাস্কিং, বিভিন্ন নোটিফিকেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপসের কারণে এই দক্ষতা ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে।
যাইহোক নিজের মাঝে কোন কিছুতে ফোকাস করার ক্ষমতার মতো স্কিলকে দেখতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত হারে বই পড়ার চেষ্টা করুন।
৩. স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
আপনার মেমোরি কি অনেক দুর্বল? যদি আপনার মেমোরি অনেক দুর্বল হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন বই পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার এই সমস্যাকে দূর করতে পারেন।
কারণ গবেষণা বলছে প্রতিদিন যেকোনো বইয়ের কিছু অংশ পড়লেও তুলনামূলকভাবে ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে আপনি যখন একটি নন-ফিকশন বই পড়বেন, তখন আপনাকে যে বিষয়ে পড়ছেন সেই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত প্রচুর পরিমাণে তথ্য মনে রাখতে হবে।
একইভাবে, যখনই আপনি কোনো একটি উপন্যাস বই পড়বেন, তখনই আপনাকে গল্পের প্লট এবং সাবপ্লট, চরিত্র এবং তাদের সম্পর্ক এবং গল্পটি কোন পরিবেশে ঘটছে সে সম্পর্কে প্রচুর তথ্য মনে রাখতে হবে। আর এভাবেই মনে রাখার বিষয়টি আপনার স্মৃতিশক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে।
৫. সুস্থ বিনোদন উপভোগ: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
সুস্থ বিনোদন উপভোগ হলো বই পড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকারিতা। আপনি কি জানেন বইকে গ্রহের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনোদন বলা হয়ে থাকে?
হ্যাঁ! বই এমন একটি বিনোদনের উৎস যা আপনার চিন্তাশক্তিকে বাড়িয়ে দেবে। মনে রাখবেন বইয়ের এই বিনোদন উপভোগ করতে হলে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে আপনার চিন্তাশক্তি এবং আপনার কল্পনাশক্তি।
৬. সহানুভূতিশীলতা বৃদ্ধি: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
এখন হয়তো অনেকেই ভাবছেন, বই পড়ে কখনো কি সহানুভূতিশীল হওয়া যায় নাকি! হওয়া যায় বস! আপনিও চাইলে বই পড়ে নিজের মাঝে থাকা সহানুভূতিশীলতাকে বাড়িয়ে নিতে পারেন।
পৃথিবীতে যে কয়টি উৎস থেকে আপনি নিজের সহানুভূতি এবং অন্যদের বোঝার ক্ষমতা বাড়াতে পারবেন সে কয়টি উৎসের মাঝে অন্যতম উৎস হলো বই পড়।
৭. কমিউনিকেশন স্কিল: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
বই পড়লে ব্যক্তির কমিউনিকেশন স্কিলও বৃদ্ধি পায়। আর এই কমিউনিকেশন স্কিল আমাদের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তো আমদের জানাই আছে! মনে রাখবেন নিয়মিত বই পড়লে তা আমাদের রাইটিং স্কিলকে ডেভালপ হতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি নিয়মিত বই পড়ার এই অভ্যাসটি আমাদের মাথায় সেট করা শব্দ ভান্ডারের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। সুতরাং নিজের ক্যারিয়ারের তাগিদেই কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপ করতে নিয়মিত বই পড়ুন।
৮. স্ট্রেস কমায়: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
বই পড়ার অভ্যাস আমাদের মানসিক চাপ এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী হাঁটাহাঁটি করা, এক কাপ চা বা কফি খাওয়া এবং ভিডিও গেম খেলার তুলনায় একটি বইয়ের কিছু অংশ পড়ার অভ্যাস আপনাকে দ্রুত স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে৷
সুতরাং, পরের বার যখন আপনি মানসিক চাপ অনুভব করবেন বা স্ট্রেসে পড়বেন তখনই অবশ্যই এক কাপ গরম কফির মগ নিয়ে বই পড়তে বসে যাবেন।
৯. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের উচিত মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও বাড়তি নজর রাখা। আর এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত বই পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা ডিপ্রেশন ভুগেন এবং হাই টেম্পারের সমস্যায় ভুগেন তারা বই পড়ে ভালো রেজাল্ট পেতে পারেন।
মনে রাখবেন এই ট্রিকসটি কিন্তু আসলেই কাজে! নতুবা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) রিডিং ওয়েল নামে একটি বই প্রেসক্রিপশন প্রোগ্রাম শুরু করতো না! আর থেরাপি হিসাবে বই ব্যবহার করার কাজটিকে "বিবলিওথেরাপি” হিসাবেও নামকরণ করা হতো না।
১০. জীবনের আয়ু বাড়ে: বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা
আপনি জেনে অবাক হবেন বই পড়লে জীবনের আয়ু বেড়ে যায়। টানা ১২ বছর ধরে চালানো একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা বই পড়েন তারা বই পড়েননি বা ম্যাগাজিন কিংবা মিডিয়ার অন্যান্য ফর্ম পড়েননি তাদের তুলনায় প্রায় দুই বছর বেশি বেঁচে ছিলেন।
এছাড়াও অন্য একটি গবেষণা থেকে জানা যায় দিনে অন্তত ৩০ মিনিট করে বই পড়লে এবং সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘন্টা বই পড়লে ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ২৩% বেড়ে যায়। সুতারাং যারা এই গবেষণাটি বিশ্বাস করেন বা করেছেন তারা জীবনের আয়ু বাড়াতে নিয়মিত বই পড়তে পারেন।
ইতি কথা
প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে বই তো আমরা সকলেই পড়ি! কিন্তু আমরা কি বই পড়ার এই ১০ টি উপকারিতা সম্পর্কে জানতাম! যাইহোক আশা করি এখন থেকে উক্ত বই পড়ার ১০ টি উপকারিতা হাতছাড়া করতে না চাইলে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন। হ্যাপি রিডিং!