ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা
বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তৈরিকৃত গাইডলাইনের পাশাপাশি অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চান। তবে সঠিক গাইডলাইনের অভাবে অনেকেই কিভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে বা কিভাবে আগাতে হবে তা বুঝে উঠতে পারেন না।
![]() |
নামের আগে প্রফেসর ট্যাগ জুড়াতে আজ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করুন |
এমন সব দিশেহারা স্বপ্নবাজদের জন্যই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই আর্টিকেল। যেখানে আমরা আলোচনা করবো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতাসহ সম্পর্কিত সকল বিষয়াদি নিয়ে। সুতরাং আর্টিকেলের শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে জানার আগে আপনাকে আপনার টপিক ক্লিয়ার করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে আপনি কোন টপিকের উপর শিক্ষকতা করতে চান তা ঠিক করতে হবে।
গবেষণা
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিষয়ের উপর আপনার শিক্ষকতা করার প্ল্যান রয়েছে সে বিষয়ের উপর আপনাকে অন্তত ৭ বছর গবেষণা করতে হবে।
সাবজেক্ট অনুযায়ী গবেষণাকালীন সময়ের পরিবর্তনও হতে পারে। যা নির্ভর করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়মের সার্কুলার এর উপর।
অভিজ্ঞতা
অনেক সময় বেশ কিছু সাবজেক্টে শিক্ষক নিয়োগের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে যদি কোথাও ইন্টার্নশিপ করে থাকেন তা আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।
একাডেমিক যোগ্যতা
বলে রাখা ভালো বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক নিয়োগে নতুন সিস্টেম চালু হয়েছে।
এই সিস্টেম বা নীতিমালায় বলা আছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.৫০ পয়েন্ট না পেলে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আবেদন করা যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই সিস্টেম প্রজোয্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা হিসাবে পয়েন্টের এই বিষয়টিকে কিন্তু প্রধান একাডেমিক যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রি
এছাড়াও এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে আবেদনকারীকে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হবে।
অনেক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এমন কিছু প্রার্থীকে বাছাই করে যাদের শুধু ৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রী রয়েছে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এই বিষয়টির পরিবর্তনে দেখা দিতে পারে৷
মেধা তালিকা
বলে রাখা ভালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সেই বিষয়টি হলো আবেদনকারী উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কিনা এবং মেধা তালিকায় তার অবস্থান টপ টেনের মধ্যে আছে কিনা।
সক্রিয়তা
আর হ্যাঁ সাত বছরসহ ১২ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা না থাকলে আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক বেতন কত?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পরে এবার আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মাসিক বেতন কত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মূলত শিক্ষকতার স্কেল হিসেবে বেতন নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যে পরিমাণ বেতন পায়, সে পরিমাণ বেতনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী অধ্যাপকের বেতনের যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের বেতন বর্তমানে ১,৪৩,০০০/- নির্ধারিত হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক বেতন হিসেবে পান ২২,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে ৫৩,০০০/- পর্যন্ত। বলে রাখা ভালো বেতনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অন্যান্য সুবিধাও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে নিয়মিত পান। এসব সুবিধার মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচও অন্যতম।
ইতি কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে তো জানলেন। এবারে প্রস্তুতি নেবার পালা। মনে রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে দেখতে চাইলে সময় থাকতে একাডেমিক লাইফকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।
স্নাতকের ৪ পয়েন্টের ভেতর নূন্যতম ৩.৫০ পয়েন্ট এর উপরে পেতে হবে। তাছাড়া মাস্টার্স এবং পিএইচডিতেও নিজের ভালো অবস্থান তৈরি করে নিতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তারা চেষ্টা করুন নিজের ব্যাচে টপ টেনের মাঝে নিজেকে ধরে রাখতে।
লেখায়: সুলতানা আফিয়া তাসনিম