ads

 চাকরি পাচ্ছেন না: জেনে নিন দ্রুত চাকরি পাওয়ার উপায়

দ্রুত চাকরি পাওয়ার উপায় সরকারি চাকরি পাওয়ার টোটকা চাকরির বাধা কাটানোর উপায় চাকরি পাওয়ার মন্ত্র চাকরি না পেলে যা করবেন  chakri pawar totka চাকরি পাওয়ার টিপস  শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতি.jpg
হতাশা নয়: বরং ফলো করুন দ্রুত চাকরি পাওয়ার সকল কার্যকর উপা


বেকারত্ব আমাদের জীবনে অভিশাপস্বরুপ। এই বেকারত্ব থেকে বাচতে হাজারো বেকার
যুবক চাকরির সন্ধানে ব্যাস্ত। কিন্তু বর্তমান যুগে চাকরি পাওয়া খুবই দুঃস্বাদ্ধ ব্যাপার যদি আপনার যুগের সাথে চাকরি করার মত যোগ্যতা না থাকে। 


আমরা কমবেশি সকলে চাকরি করতে চায় কেউ লেখাপড়া শেষ করে, আবার কেউ লেখাপড়ার পাশাপাশি বিগেইনার হিসেবে। বর্তমান যুগে আমাদের অনেকের ধারণা “টাকা ছাড়া সবই ফাঁকা”। 


কিন্তু আসলেই কি তাই? নাহ। এটা আমাদের বর্তমান ছেলে-মেয়েদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চাকরির জন্য আপনাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী। শুধু বসে বসে চাকরির কথা ভালে চাকরি হয়ে যাবে না তার জন্য আপনাকে চেষ্টা করতে হবে চাকরির আপডেট এর খবর রাখতে হবে। 


তবে হ্যাঁ, গাধার মতো সারাদিন পরিশ্রম করলে হবে নাহ,,, মনে রাখবেন কঠোর পরিশ্রম আর পরিকল্পিত পরিশ্রমের মধ্যে অনেক পার্থক্য আজকের আর্টিকেলে আমরা কিভাবে সহজে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় এবং কিভাবে চাকরি পাবেন সে সম্পর্কে আলোচনা করব।


চাকরি পাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন 

চাকরি পাওয়া সহজ যদি সেটাকে আপনি খুব জঠিল না ভেবে সহজভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হার না মেনে বার বার চেষ্টা করুন। তার জন্য আপনাকে চাকরির জন্য


প্রথমত

মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আমরা সাধারণত গ্রেজোয়েশন শেষ করেই মনে করি লেখাপড়া শেষ। কিন্তু সেটা ঠিক নয়, চাকরির জন্য আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে। চাকরি সংক্রান্ত প্রশ্ন ও বিষয়াবলী খুঁজে পড়াশোনা করুন। 


যারা পড়াশোনা করেন তাড়াও পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য পড়ালেখা করতে পারেন। চাকরির পড়ার ক্ষেত্রে নিজেকে সাধারণ জ্ঞান, ম্যাথ, ইংরেজি প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে।


দ্বিতীয়ত

সারাবিশ্ব এগিয়ে চলার সাথে সাথে বাংলাদেশও পিছু পিছু চলছে। তাই নিজেকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Basic skill / Basic knowledge।


পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে বিশেষ করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, আইটি ডিজাইনিং প্রভৃতি। 


এছাড়াও ইংরেজিতে কথা বলার ও টাইপিংয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু ইংরেজি টাইপিং নয় বাংলা টাইপিংয়েও দক্ষতা রাখা জরুরি। 


তৃতীয়ত

বর্তমানে আমরা চাকরি চাকরি করি সত্য কিন্তু সে চাকরির কোনো খবর রাখি না। চাকরির জন্য নিয়মিত নিউজফিড ঘুরে দেখা, সাধারণ জ্ঞানের জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়া এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র নিয়ে নিজে নিজে প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা করা। 


এছাড়াও নিয়মিত টেলিভিশনে খবর শোনা, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান দর্শন ও পরিদর্শন করা, ব্যাবসা সংক্রান্ত বই পড়া, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের জীবনাবলি অধ্যয়ন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যাক ধারণা রাখতে হবে। 


উপরিউক্ত বিষয় অনুসরণে পাশাপাশি ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে বর্তমানে ইন্টারনেট হলো সকল জ্ঞানের উৎস, অর্থাৎ এখানে এমন কোনো বিষয় নেই যা আপনি পাবেন না। তাই উইকিপিডিয়াতে চোখ রাখতে হবে। 


চতুর্থত

বর্তমানে সরকারির জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন একটি বিশ্বস্ত রেফারেন্সের প্রয়োজন যা আপনাকে চাকরি পেতে অনেকটা সাহায্য করবে। 


বিশ্বস্ত রেফারেন্স হলো যে ব্যক্তি আপনার চাকরি পেতে সাহায্য করবে এমন একজন। সে আপনার বসকে ফোন করবে বা আপনার রেফারেন্সকারীর নাম সিভিতে লিখে দিবেন তাহলে আপনার রেফারেন্স তৈরি হয়ে যাবে। 


বর্তমানে চাকরির ভাইবা দিতে গেলে অসংখ্য পার্থী থাকে। আপনার রেফারেন্সে হয়ত দেখা যাবে আপনার রেফারেন্সকারীর সাথে আপনার অফিসের বসের ভালো সংযোগ। 


তখন ভাইবা রুমে আপনার রেফারেন্স দেখে আপনাকে আগে ডাকতে পারে। এক্ষেত্রে চাকরি পেতে একটি বিশ্বাসী রেফারেন্সের বিকল্প নেই। 


পঞ্চমত

ভালো চাকরি পেতে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহন করুন। চাকরির জন্য নিজেকে প্রশিক্ষণের উপযোগী করে গড়ে তুলোন এবং নিজেকে অন্যদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে রাখুন। 


এজন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর( কম্পিউটার, স্পোকেন ইংলিশ ইত্যাদি) আগে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদপত্র সংগ্রহ করে রাখুন। যথোপযোগী চাকরি পেতে চাকরির মেলা পরিদর্শন করুন। 


বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি বছরে একবার দুবার  চাকরির মেলার আয়োজন করে থাকে। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানি চাকরি পার্থীদের থেকে সিভি আহ্বান করেন। যারা চাকরির জন্য চোখ কান খোলা রেখে চলে তারা আবেদন করে এবং পরবর্তীতে ভাইবার জন্য ডাক পায়। 


কিন্তু আপনি যদি এ সম্পর্কে কোনোল খুজ খবর না রাখেন তাহলে চাকরি নামে সোনার হরিণ আপনার কপালে জুঠবে না। তাই নিত্য নতুন চাকরির মেলা পরিদর্শন করে চাকরি সম্পর্কে আপডেট রাখুন। 


ভালো চাকরি পেতে যা করবেন 

আমরা সকলে একটা ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করি।তবে আমরা যারা নতুন চাকরি খুঁজছি তাদের উচিত ছোট থেকে শুরু করা একজন ফ্রেশার বা ইন্টার্ন জব করা। “ মাঝে মাঝে জিততে হলে কয়েক পা পিছুতে হয়” এই কথাটা আমি খুব বিশ্বাস করি। 


ছোট চাকরি থেকে আমরা ভালো চাকরির জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি। এই ছোট চাকরি শুরু করলে আপনি চাকরির স্থানে অনেক কিছু শিখবেন। 


এটা আপনাকে ভালো চাকরির ভাইবাতে সাহায্য করবে।  এতে আপনি অন্য কোম্পানিতে উপস্থাপন ক্ষমতা, কথা বলার ধরণ, আচার ব্যাবহার অনেক কিছু শিখতে পারবেন যা আপনাকে অন্য চাকরি পাওয়ার পর সাহায্য করবে। 


তাই ছোট চাকরি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলে আপনি বড় বা ভালো চাকরি পেতে অনেক সহায়তা হবে।


চাকরি খুজতে পাঁচটি বিষয়ে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে 

১. সময় দিন 

তাড়াহুড়ো করলে সভাবতই সব কাজেই ব্যাঘাত ঘটে। চাকরির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করলে আপনি কখনোই আপনার মন মতো চাকরি পাবেন না। কাজেই সময় নিয়ে, ধীরে সুস্থে চাকরি খুঁজুন।


২. নিজের চাওয়াকে প্রাধান্য দিন

কেউ চাকরির জন্য অফার করলে কি সাথে সাথে রাজি হয়ে যাবেন? না বুঝে চাকরিতে ডুকলে সেটা আপনার জন্য পরবর্তীতে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তা বুঝে শুনে নিজের এবিলিটির পর নির্ভর করে চাকরি নিন।


৩. ভালো একটি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন 

চাকরির আবেদনের জন্য প্রথমে যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো জীবনবৃত্তান্ত। জীবনবৃত্তান্তের উপর ভিত্তি করে কিন্তু আপনি চাকরির ভাইবার জন্য ডাক পাবেন। কাজেই আগে ভালোভাবে জীবনবৃত্তান্ত লেখা শিখোন। 


প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন, কয়েকটা সাইট বা ইন্টারনেট থেকে ঘাটাঘাটি করে জেনে নিন ভালো সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত লেখার কায়দা।


৪. জবসাইট ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

নিয়মিত বিভিন্ন জবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখুন। কোন কোন জবসাইট আপনার জন্য অতিব প্রয়োজনীয় সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত একাউন্ট খুলে ফেলোন। চাকরির সুযোগ পেতে সুবিধা হবে। 


এছাড়াও ঠিকমতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারলে শুধু বন্ধুবান্ধব নয় আপনার পছন্দের চাকরির খবর ও চাকরিও পেয়ে যেতে পারে। সেই সাথে লিংকড-ইনের মতো প্রোফেশনাল সামাজিক মাধ্যমগুলোয় অ্যাকাউন্ট রাখাও জরুরি।


৫. হতাশ হবেন না

আমরা অনেক সময় দেখি আবেদন করেও আমাদের চাকরি হচ্ছে নাহ তখন আমরা হাল ছেড়ে দিই যেটা একদমই উচিত না। একবার চাকরিতে ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ব্যর্থতা সফলতার প্রথম ধাপ। 


তাই ব্যর্থ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করুন এবং আবার চেষ্টা করুন। এছাড়া পরিচিতদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। হোক তা কারণে বা অকারণে! দরকারের সময় দেখবেন, পরিচিতদের রেফারেন্স চাকরি পাওয়ায় আপনাকে সাহায্য করবে। 


পরিশেষে বলতে চাই, চাকরি আমাদের সকলেরই প্রয়োজন তাই আপ টু ডেট খবর রাখুন। যেখানে যেখানে অ্যাপ্লাই করেছেন, সেখানে খোঁজখবর রাখুন। খোঁজ নিন নতুন কোনো চাকরির জন্য। 


নয়তো দেখা যাবে আপনি চাকরি পেয়েছেন কিন্তু খবর রাখেন নি তাহলে হয়ত আপনার চাকরিটি চলে যেতে পারে। কালীপ্রসন্ন ঘোষের একটি কবিতা আছে “পারিব না”  এই কবিতাটি অনুসরণ করুন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন আপনি পারবেন ইনশাআল্লাহ। 


“পারিব না' একথাটি বলিও না আর,

কেন পারিবে না তাহা ভাব একবার;

পাঁচজনে পারে যাহা,

তুমিও পারিবে তাহা,

পার কি না পার কর যতন আবার

একবার না পারিলে দেখ শতবার। ”


লেখা: নাজমুন নাহার মুক্তা 


আরো পড়ুন: 

Previous Post Next Post

{ads}