ads

মোবাইলের আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

মোবাইল এমন একটি ডিভাইস যা ছাড়া বর্তমান জীবন ব্যবস্থার একটি মুহূর্ত কাটানো অসম্ভব মনে হয়। মোবাইল বর্তমানে নিত্যদিনের অপরিহার্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


ব্যক্তিগত প্রয়োজন, অফিসিয়াল প্রয়োজন, পারিবারিক প্রয়োজন, রাজনীতি,  সমাজনীতি, অর্থনীতি সবধরনের সংবাদ, খবরাখবর আদান-প্রদান সর্বক্ষেত্রে মোবাইল সবচেয়ে অগ্রণি ভুমিকা রাখছে। 


মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়  শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় মোবাইল আসক্তির কারণ ও প্রতিকার মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় মোবাইল আসক্তি অনুচ্ছেদ স্মার্টফোন আসক্তি পড়াশোনার ক্ষতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা.jpg
মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আনুন: সুস্থ থাকুন

এই ডিভাইস প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে অনেক সুবিধা যেমন দিচ্ছে তার বিপরীতে অনেক সমস্যাও সৃষ্টি করছে। একটি স্মার্ট ফোন একজন মানুষকে খুব সহজেই নেশাগ্রস্ত অথবা আসক্ত করতে সক্ষম। 


এই মোবাইল আসক্তি আমাদের থেকে অনেক মূল্যবান জিনিস কেড়ে নিচ্ছে। এই মারাত্মক ক্ষতিকর আসক্তি থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে। আসুন মোবাইল আসক্তি থেকে বাচার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায় সম্পর্কে জেনে নিই। 


১. প্রযুক্তি থেকে কিছু সময়ের জন্য দুরে থাকুন

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছে প্রযুক্তি ছাড়া জীবনটায় যেন অচল। ১০ মিনিট মোবাইল থেকে দুরে থাকলে যেন মনে হয় অনেক কিছু হয়ে গেছে। 


বার বার মোবাইল চেক করতে থাকি। আসলে তেমন কিছুই হয়নি। আমরা যদি ধাপে ধাপে মোবাইল থেকে নিজের  দুরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করি আজ না-হয় কাল অবশ্যই অভ্যস্ত হয়ে যেতে বাধ্য। একবার চেষ্টা করে দেখুন না।


২. স্মার্টফোনে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্রিনটাইম ডেটা দেখুন

আপনি মোবাইলের পেছনে কতো সময় দিচ্ছেন সেটা ট্রাক করার জন্য নানা ধরণের অ্যাপ্লিকেশন আছে। 


মোবাইল ফোনের আসক্তির কারণে আপনার অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে সেটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্রিনটাইম ডেটা দেখে নিতে পারেন। সাথে সাথে আসক্তি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। 


৩. মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম সিস্টেম চালু রাখুন 

মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন। অ্যালার্মের রিংটোন শুনে সকালে ঘুম থেকে উঠুন। মোবাইল নির্ধারিত স্থানে রেখে রুটিন কাজ শুরু করুন। প্রার্থনা করুন, পরিবারের কাজে সময় দিন। 


সন্তানের প্রয়োজনের দিকে মনোযোগী হউন। দেখবেন মোবাইলের আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে আপনার কোনো সমস্যাই হবেনা। আপনি ভালো থাকবেন পরিবারকে ও ভালো রাখবেন। 


৪. ফোনের সাহায্যে গল্পগুজব কিংবা সময় কাটানোর অভ্যাস বাদ দিন

মোবাইলে গ্রুপ কলে বাজে কিংবা অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করুন। বিকেলে অথবা যে-কোনো অফ টাইমে ডিভাইস ছাড়া সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। 


প্রযুক্তির অপব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে ফ্রেন্ড সাইকেলে আলাপ করুন। ডিভাইস ছাড়া উপভোগ করার অনেক অপশন আছে এই সম্পর্কে ধারণা দিন। দেখবেন ধীরে ধীরে নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। 


৫. ওয়াল-পকেট তৈরি করুন 

আপনার ঘরে একটি ওয়াল পকেট তৈরী করুন। সব সময় ওয়ালের একটি পছন্দের জায়গায় ঝুলিয়ে রাখুন। পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখুন  কোনো পারিবারিক আলাপ - আলোচনা, মিটিং কিংবা এমনকি খাবার টেবিলেও যেন কেউ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হাতে না নেয়। 


এতে করে দেখবেন আপনার পরিবারের সম্প্রিতী অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।  একের প্রতি অন্যের শ্রদ্ধাবোধ বেড়েগেছে। নিজে ভালো থাকবেন অন্যকেও ভালো রাখবেন। 


৭. ফোনে অ্যাপস কমিয়ে ফেলুন

আপনার স্মার্ট ফোনের অ্যাপস নিতান্ত প্রয়োজন না হলে ডিলিট করে ফেলুন অথবা ডাউনলোড থেকে বিরত থাকুন । এতে নোটিফিকেশন কমে যাবে। সাথে সাথে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। 


৮. ডু নট ডিস্টার্ব অপশন চালু রাখুন

ডু নট ডিস্টার্ব অপশন চালু রেখে মোবাইলের নির্দিষ্ট কিছু ফাংশন সীমিত করা যায়। যা পূর্বে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ থাকবে। এতে করে আপনি আপনার সেই সময় অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। 


৯. পারিপার্শ্বিক মূল্যায়ণ

বর্তমান সময়ে দামী মোবাইল হাতে রাখা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আপনি মোবাইলের ব্যবহার কমাতে চাচ্ছেন।  কোনো অনুষ্ঠান, পারিবারিক আয়োজন, সামাজিক বা অফিসিয়াল কোনো মিটিংয়ে আপনার হাতে মোবাইল নাই এটি নিয়ে আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন। 


কোনো প্রয়োজন নেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিন মোবাইলের ব্যবহার আপনি কমিয়ে ফেলেছেন। তাতে আপনার সম্মানে কোনো রকম আঘাত আসবে না। 


১০. ডাম্বফোন' অথবা সাধারণ কী-প্যাডের মোবাইলের ব্যবহার 

ডাম্বফোন' অথবা সাধারণ কী-প্যাডের মোবাইলের ব্যবহার.jpg

সাধারণ কী-প্যাডের মোবাইল ব্যবহার করলে মোবাইলের আসক্তি থাকবেনা। শুধুমাত্র কথা বলা এবং ম্যাসেজ কিংবা বার্তা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো ফাংশন থাকবেনা। 


১১. ফোন কম ব্যবহার করার টিপস 

স্মার্টফোনে কিছু অ্যাপস আছে যা নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখা যায়। কিছু সময় এইভাবে বন্ধ করে প্রযুক্তি থেকে নিজেকে দুরে রাখুন। ধীরে ধীরে লকের সময় বাড়ানোর চেষ্টা করুন। 


একটা সময় এসে দেখবেন অভ্যস্ত হয়েগেছেন। তাছাড়া কিছু অ্যাপস নিয়মিত হাঁটা কিংবা সচেতনতামূলক কাজের জন্য উৎসাহিত করে। এসব ফলো করুন। 


১২. নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

মোবাইলের যেই সমস্ত নোটিফিকেশন আপনার প্রয়োজন নেই সেইসব আপনি বন্ধ করে দেন। নোটিফিকেশনের রিং টোন আপনার কাজে কর্মে ইবাদতে মনোযোগ নষ্ট করে। কিনা কি তা জানতে ইচ্ছে করে। 


তার চেয়ে আপনি বন্ধ করে রাখলে অন্তত সাময়িক হলেও আপনি প্রযুক্তি থেকে নিজেকে দুরে রাকতে পারবেন।


ইতি কথা

বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার  বেশি সময় অপচয় করা শুধু নয়। এটি বন্ধ করা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা উপরের আলোচনায় আমরা বুঝতে পারি। মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার প্রায়ই নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। 


মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।  তাই স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আশা করি আমরা খুব সহজেই মোবাইলের আসক্তি থেকে নিজেকে দুরে রাখতে সক্ষম হবো। 


লেখা: সুলতানা আলম আরা


আরো পড়ুন: 

Previous Post Next Post

{ads}