মোবাইল গেম আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়
![]() |
ভোর হলো দোর খোলো গেইম ছাড়ার সময় হলো |
মোবাইল গেম ধীরে ধীরে আমাদের সময় এবং প্রোডাক্টিভিটি কেড়ে নিচ্ছে। অথচ সবকিছু বোঝার পরেও আমরা এই মোবাইল গেম থেকে নিজেদের আসক্তি কমাতে পারছি না।
হতে পারে তা নিজের কম ইচ্ছা শক্তির কারণে কিংবা সঠিক ট্রিক্সস ফলো না করার কারণে। চলুন তবে আজ আইটিনোট বিডির বদৌলতে মোবাইল গেম আসক্তি থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি।
১. একটি টাইট শিডিউল তৈরি করুন
মোবাইল গেম এর আসক্তি থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে শুরুতে আপনাকে একটি টাইট সিডিউল তৈরি করে নিতে হবে। যেখানে থাকবে দিনের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মের একটি প্রোডাক্টিভ রুটিন।
যারা আর একটু বাড়িতে সময় পাবেন তারা অবশ্যই সকালে উঠে একটি টু ডু লিস্ট তৈরি করে নেবেন। আর এই লিস্টে গেইম খেলার সময় রাখলেও তা তুলনামূলকভাবে কম রাখার চেষ্টা করবেন।
২. বেডরুম থেকে গেমিং ডিভাইস সরিয়ে ফেলুন
আমরা অনেকেই সন্ধ্যার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করি। সুতরাং ঘুমানোর আগে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল গেম খেলতে না চাইলে বেডরুম থেকে গেমিং ডিভাইস সরিয়ে ফেলুন।
আশা করি গেম খেলার সময় কমাতে এবং নিজের ঘুমের উন্নতি করতে বেডরুম থেকে সমস্ত ডিভাইস সরিয়ে ফেলার এই টিপস ভালোই কাজে দেবে।
৩. গেম খেলার সময় পোমোডোরো টেকনিক ফলো করুন
পোমোডোরো টেকনিক হলো একটি টাইম ম্যানেজম্যান্ট টেকনিক। গেম খেলার সময়কে ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে বা পুরোপুরি গেম খেলার নেশাকে কমিয়ে আনতে এই টেকনিক ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
টেকনিকটি এমন যে, টানা কোনো গেম খেলা যাবে না। প্রতি ২৫ মিনিট গেম খেলার পরপর অন্তত ১০ মিনিট রেস্ট নিতে হবে। এভাবে ভেঙে ভেঙে গেম খেললে গেমের প্রতি আসক্তি অনেকটা কমে আসবে।
৪. মোবাইল গেম থেকে টানা ৩ মাস ছুটি নিন
যেকোনো ভিডিও গেমের আসক্তি আমাদের ব্রেইনের ডোপামিনের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। গেম খেলার সময় বা পরে আমাদের মস্তিষ্কে এই ডোপামিনের মাত্রা পূর্ণ না হলে আমাদের আরো গেম খেলতে ইচ্ছে করে।
যাইহোক, এটি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই! এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অন্তত ৩ মাস কঠোরভাবে ভিডিও গেম এড়িয়ে চলুন৷
৫. পর্যাপ্ত পরিমাণের লিমিটেড মুড ব্যবহার করুন
প্রত্যেকের জীবনধারা এবং চাহিদা ভিন্ন! এই ভিন্নতার উপর নির্ভর করে লিমিটেড মুডে গেম খেলাও মোবাইল গেম আসক্তি থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে:
- কখনো ২ ঘন্টার বেশি মোবাইল গেম খেলবেন না
- দিনে ২ বারের বেশি মোবাইল গেম খেলবেন না
- গেম খেলার সময় প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন এবং ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহার করবেন
- পিসিতে টাইম ম্যানেজম্যান্টের জন্য ব্যবহার করবেন স্টেফোকাসড, ফ্রিডম, ওয়েস্টনোটাইম এবং লিচব্লক
- মোবাইলে টাইম ম্যানেজম্যান্টের জন্য ব্যবহার করবেন রেসকিউ টাইম, মোমেন্ট, কোল্ডটার্কি এবং ফোকাসমি
- তাছাড়া পরিবারের কোনো গার্জিয়ানকে ফোন লুকিয়ে রাখারও পরামর্শ দিতে পারেন
৬. নিজের নতুন প্যাশনে ফোকাস করুন
মোবাইল গেম আসক্তি থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে নিজের প্যাশনে ফোকাস করুন। বছরের পর বছর গেম খেলার পরে, জীবনের কঠিন লড়াইয়ে অনেকেই আটকে যান।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিজের প্যাশন বাছাই করতে হবে এবং এতে ফোকাস করতে হবে।
মনে রাখতে হবে গেমের প্রতি আবেগ যেমন রাতারাতি গঠিত হয় না, ঠিক তেমনই এর প্রভাব রাতারাতি কাটিয়ে ফেলা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে প্রচুর সময় লাগে। আশা করি উপরোক্ত মোবাইল গেম আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়গুলি আপনাকে জীবনযুদ্ধে আরো এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।
লেখা সুলতানা আফিয়া তাসনিম
আরো পড়ুন:
মোবাইলের নেশা দূর করার মাথানষ্ট টিপস
দ্রুত চাকরি পাওয়ার ১০১ টি উপায়
এআইয়ের সাহায্যে ২ সেকেন্ডে তৈরি করে ফেলুন নতুন ছবি