ads

 শবে বরাত ২০২৪ পরিচিতি ও করণীয় 

শবে বরাত হছে একটি মহিমান্বিত রজনী। শব শব্দের অর্থ রাত আর বরাত শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। অর্থাৎ সৌভাগ্যের রাত। আরবি ভাষায় এটিকে লাইলাতুল বরাত বলে। 


হাদীসে বর্ণিত আছে আল্লাহ এই রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। 


শবে বরাত কি | শবে বরাত ২০২৪ কবে | শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস | শবে বরাত ২০২৪ করণীয় শবে বরাত কত তারিখে শবে বরাতের ইতিহাস  শবে বরাতের আমল  শবে বরাতের গুরুত.jpg
শবে বরাতের ইতিহাস ও করণীয়

পবিত্র এই রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা নফল নামাজ, কোরআন তেলোয়াত, দান খয়রাত, জিকির আজগারে মগ্ন থাকেন। সাথে সাথে ভবিষ্যৎ কল্যাণ কামনায় ব্যস্ত রাত পার করেন। পরের দিন নফল রোজা রাখেন। 


শবে বরাত ২০২৪ কবে? 

অনেকেই জানতে চান ২০২৪ সালের শবে বরাত কবে অনুষ্ঠিত হবে। বলে রাখা ভালো শবে বরাত ২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে মার্চের ৮ তারিখে। ক্যালেন্ডার ঘাটাঘাটি করলেই দেখা যায় মার্চের ৮ তারিখ পড়েছে শুক্রবার। 


পাশাপাশি একই দিনের আরবি তারিখ হলো ১৫ শাবান ১৪৪৩ এবং বাংলা তারিখ হলো ২৩ ফাল্গুন ১৪২৯। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে। 


চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে সন্ধ্যার দিকে উত্তর কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার কার্যক্রম সেরে এই তারিখটি প্রকাশ করেছে। 


৫ টি শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস

মুসলিম মানব জীবনে শবে বরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। চলুন হাদিসের আলোকে শবে বরাত ২০২৪ এর গুরুত্ব জেনে নিই। 



শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস ১

হজরত ইবনে ওমর(রা.) এর বর্ননা মতে‘এমন পাঁচ রাত রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। রাতগুলো হলো, জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, দুই ঈদের রাত।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬০৮৭) 


শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস ২ 

আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন অর্ধ শাবানের রাত, অর্থাৎ শাবানের পনেরোতম রাত তোমাদের সামনে আসে, তখন তোমরা তাতে কিয়াম, তথা নামাজ পড়ো এবং পরবর্তী দিনটিতে রোজা রেখো। 


আল্লাহ তাআলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে অবতরণ করেন। এর পর তিনি এই বলে ডাকতে থাকেন, “তোমাদের মধ্যে কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। তোমাদের মধ্যে কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দেব। তোমাদের মধ্যে কোনো বিপদগ্রস্ত আছে কি? আমি তার বিপদ দূর করে দেব।” 


ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮) এই বর্ণনার সনদ দুর্বল হলেও তা গ্রহণযোগ্য। হাদিস বিশারদগণের মতে, ফাজায়েলের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিস আমলযোগ্য। 


তাছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে এবং আইয়ামে বিজ, অর্থাৎ প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার বিষয়টিও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।


শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস ৩ 

মুআজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে, অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫) 


মুহাদ্দিসিনে কেরামের ভাষ্যমতে, হাদিসটির মান সহিহ্, তথা বিশুদ্ধ। এ জন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) তাঁর হাদিস সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ কিতাব ‘কিতাবুস সহিহ’-এ হাদিসটি উল্লেখ করেন। 


শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস ৪ 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি কি জানো, অর্ধ শাবানের রাতের কার্যক্রম কী?’ আয়েশা (রা.) বললেন, ‘না, হে আল্লাহর রাসুল।’ 


নবী (সা.) বললেন, ‘এই বছর যত সন্তান জন্মগ্রহণ করবে এবং মারা যাবে, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এই রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয় এবং এই রাতেই তাদের রিজিক অবতীর্ণ হয়।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৩০৫ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি কি জানো, অর্ধ শাবানের রাতের কার্যক্রম কী?’ আয়েশা (রা.) বললেন, ‘না, হে আল্লাহর রাসুল।’ 


নবী (সা.) বললেন, ‘এই বছর যত সন্তান জন্মগ্রহণ করবে এবং মারা যাবে, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এই রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয় এবং এই রাতেই তাদের রিজিক অবতীর্ণ হয়।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৩০৫) 

 

শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস ৫

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কাছে না পেয়ে খোঁজ করতে বের হলাম। হঠাৎ দেখলাম তিনি জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে আছেন। 


তিনি বললেন, “ (হে আয়েশা) তোমার কি এ আশঙ্কা হয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার ওপর জুলুম করতে পারেন? ” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার ধারণা হলো আপনি অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। ” 


তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে আসেন এবং কালব গোত্রের ছাগল-ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিকসংখ্যক লোককে ক্ষমা করে দেন। ”’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭৩৯) 


শবে বরাতের ইতিহাস

আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হচ্ছে শবেব রাতের রাত। মূলতঃ শব শব্দটি ফরাসি শব্দ। এর অর্থ রাত। আর বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্য। এই রাত একটি বরকত পূর্ণ মহিমান্বিত রজনী। 


এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য জন্ম মৃত্যু, বিয়ে, রিজিক এক কথায় পুরো ভাগ্য নির্ধারণ করেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। 


সাথে সাথে বান্দার পাপ ক্ষমা ও অসীম রহমত,বরকত দান করেন সৃষ্টির উপর। তাই তো  শবে বরাতের এই রজনী এতটা সৌভাগ্যের রজনী। এই রাতে মুসলিম জাতি রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি করে থাকেন। 


তাছাড়া আপনজন আত্মীয় স্বজন যারা কবরবাসী হয়েছে তাদের জন্য দোয়া কামনা করে। দান খয়রাত করেন। ভালো খাবার প্রতিবেশীদের কাছে বিতরণ করে। 


পরের দিন নফল রোজা রাখে। এইভাবেই নিজের সমস্ত চাওয়া নিবেদন করেন মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে। সকল মসজিদে মুসল্লীরা রাত জেগে ইবাদত করে। 


মিষ্টি বিতরণ করে। আত্মীয়ের কবর জিয়ারত করে থাকে। মহান আল্লাহতায়ালা ক্ষমা প্রার্থী বান্দাদের ক্ষমা করার অপেক্ষায় থাকেন। 


শবে বরাত ২০২৪ করণীয় 

শবেবরাতের বরকতময় এই রজনীতে নবী করিম (সঃ) রাত জেগে ইবাদত করতেন। তবে বিশেষ কোনো নিয়ম মেনে তা করতেন না। তিনি সাহাবায়ে কেরামদেরও বিশেষ নিয়ম মানার নির্দেশ দেননি। 


সমাজে যেই বিশেষ নিয়মের কথা প্রচলিত আছে বাস্তবে তার ভিত্তি নেই। সুতরাং আমাদের উচিত প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ না করে রাত জেগে নফল ইবাদত বন্দেগি করা। সাথে সাথে মহান রবের দরবারে ইহ ও পরকালের শান্তি কামনাকরে রাত যাপন করা।


লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম 



Previous Post Next Post

{ads}