ads

 একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা | একুশে পদক কি | একুশে পদক কেনো দেওয়া হয় 

একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা | একুশে পদক কি | একুশে পদক কেনো দেওয়া হয়  একুশে পদক ২০২৪ একুশে পদক একুশে পদক ২০২৪ তালিকা একুশে পদক 2024 একুশে পদক প্রাপ্ত.jpg
জানতেন কি? 

বাংলাদেশের জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হলো এই একুশের পদক। প্রতি বছরের মতো এই বছরও একুশে পদক প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে। 


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতি বছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতে এই বিভিন্ন সময়ে একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। 


চলুন আজ একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা এবং একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্টজন শীর্ষক তথ্যাবলি জেনে নিই। সাথে জানি একুশে পদক কি, একুশে পদকের প্রবর্তক কে এবং একুশে পদক কেনো দেওয়া হয়! 


একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকা

বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে সাধারণত তাদের কর্মের জন্য এই পুরষ্কার বা পদক প্রদান করা হয়। চলুন ২০২৪ সালের একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকাটি এক নজরে দেখে নেওয়া যাক: 


  • প্রয়াত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর, সংগীত)
  • গায়ক শুভ্র দেব (সংগীত)
  • নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ (নৃত্যকলা)
  • অভিনেত্রী ডলি জহুর (অভিনয়)
  • চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর (অভিনয়)
  • খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (আবৃতি)
  • রূপা চক্রবর্তী (আবৃত্তি)
  • শাহজাহান আহমেদ বিকাশ (চিত্রকলা)
  • কাওছার চৌধুরী ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিং)
  • মো. আশরাফুদ্দীন আহমেদ (মরণোত্তর, ভাষা আন্দোলন)
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর, ভাষা আন্দোলন)
  • মো. জিয়াউল হক (সমাজসেবা), আলহাজ রফিক আহামদ (সমাজসেবা)
  • মুহাম্মদ সামাদ (ভাষা ও সাহিত্য)
  • লুৎফর রহমান রিটন (ভাষা ও সাহিত্য)
  • মিনার মনসুর (ভাষা ও সাহিত্য)
  • রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ভাষা ও সাহিত্য)
  • প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু (শিক্ষা)


একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্টজন

ইতিমধ্যেই জেনেছেন এবারে একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্টজন। চলুন এসব বিশিষ্টজনদের পরিচিতি একেবারে সংক্ষেপে জেনে নিই: 


প্রয়াত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর, সংগীত)

এন্ড্রু কিশোর খ্যাতিমান মূলত চলচ্চিত্রের গানের জন্য। তাঁর অসামান্য জনপ্রিয়তা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাগরিক সংস্কৃতির বিবর্তন পাঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠসূত্র বৈকি। দুঃখজনক হলো, এ সময়ের বিস্তৃত ইতিহাস এবং সমাজতাত্ত্বিক পাঠের ধারাবাহিক ও একাডেমিক প্রয়াস প্রায় হয়নি বলা চলে।


গায়ক শুভ্র দেব (সংগীত)

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব। অনন্য প্রতিভাবান এই গায়ক খুব অল্প সময়েই সবার মন জয় করেন। ক্রিকেট নিয়ে অনেক গান রয়েছে তার তালিকায়। ‘গুড লাক বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি গান বেশ জনপ্রিয় হয় প্রায় ২৩ বছর আগে।


নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ (নৃত্যকলা)

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ভিন্নধারার শিক্ষালয় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগে সাম্মানিক শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে যুক্ত আছেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ। তিনিও এবছর একুশে পদক প্রাপ্তদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। 


অভিনেত্রী ডলি জহুর (অভিনয়)

কিংবদন্তী অভিনেত্রী ডলি জহুর মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়ে ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরে টেলিভিশন নাটকে এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তিনি ১৬০টির অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।


চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর (অভিনয়)

অনবদ্য ও সাবলীল অভিনয় দিয়ে অভিনেতাদের মধ্যে সর্বাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ড এখনো তারই দখলে। শুধু কী তাই! ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২- টানা ৪ বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের রেকর্ডটিও এখন পর্যন্ত ভাঙতে পারেননি কেউ। 


খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ এবং রূপা চক্রবর্তী (আবৃতি)

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২১ বিশিষ্টজনকে একুশে পদক-২০২৪ প্রদানের সিদ্ধান্তে আবৃত্তি ক্যাটাগরিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ এবং রূপা চক্রবর্তীকেও রাখা হয়েছে। 


শাহজাহান আহমেদ বিকাশ (চিত্রকলা)

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে চলতি বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য এবার একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন চিত্রশিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশ।


কাওছার চৌধুরী ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিং)

কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা উল্লেখযোগ্য গান হলো- আমায় ডেকো না, কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে, আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়লো তোমায়, যেখানে সীমান্ত তোমার, ফিডব্যাক ব্যান্ডের মৌসুমি ১ ও ২ এবং এলআরবি'র  রুপালী গিটার ফেলে।


মো. আশরাফুদ্দীন আহমেদ (মরণোত্তর, ভাষা আন্দোলন)

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মালনা একুশে পদক পাচ্ছেন মো. আশরাফুদ্দীন আহমেদ (মরণোত্তর, ভাষা আন্দোলন)। 


বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর, ভাষা আন্দোলন)

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গণপরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা সৈনিক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহকর্মী, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়াও পাচ্ছেন একুশে পদক ২০২৪ এর সম্মাননা। 


মো. জিয়াউল হক (সমাজসেবা)

সমাজসেবায় এবারের একুশে পদকের জন্য মনোনীত জিয়াউল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুসরিভূজা বটতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফেরি করে দই বিক্রি করেন। সেই আয়ে সংসার চালানোর পর উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে বই কিনে তিনি গরিব ছাত্রদের মধ্যে বিলি করেন। 


আলহাজ রফিক আহামদ (সমাজসেবা)

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্রতা বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য সমাজসেবায় একুশে পদক পাচ্ছেন চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সমাজসেবক আলহাজ্ব রফিক আহামদ। 


মুহাম্মদ সামাদ (ভাষা ও সাহিত্য)

গবেষণা, কবিতা ও অনুবাদ মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ড. মুহাম্মদ সামাদের গ্রন্থসংখ্যা ৩০টি। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর অর্ধশত গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। 


লুৎফর রহমান রিটন (ভাষা ও সাহিত্য)

লুৎফর রহমান রিটন সাবেক সম্পাদক হিসেবে ছোটদের কাগজ (অধুনালুপ্ত); জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি (২০০০-২০০১) ছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। 


উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থ: ছড়া: ধুত্তুরি (১৯৮২); ঢাকা আমার ঢাকা (১৯৮৪); উপস্থিত সুধীবৃন্ধ (১৯৮৪); হিজিবিজি (১৯৮৭); তোমার জন্য (১৯৮৯); ছড়া ও ছবিতে মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৯); রাজাকারের ছড়া (১৯৯৯); শেয়ালের পাঠশালা (১৯৯২); রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মারকগ্রন্থ (২০০০); নেপথ্য কাহিনী (২০০১)।


মিনার মনসুর (ভাষা ও সাহিত্য)

মিনার মনসুরের জন্ম ২০ জুলাই, ১৯৬০। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বরলিয়া গ্রামে। লেখালেখির শুরু সত্তরের দ্বিতীয়ার্ধে। মূলত কবি। তবে গদ্যেও দ্যুতিময় তার কলম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ১৯৮৩ ও স্নাতকোত্তর ১৯৮৪। 


উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তির জন্যে শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি পুরস্কার প্রাপ্ত। বর্তমানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। 


রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ভাষা ও সাহিত্য)

ব্যক্তি রুদ্র ও কবি রুদ্র উভয় সত্ত্বাই বাঙালি পাঠক সমাজের চেতনা ধারায় এক অনন্য সংযোজন। টালমাটাল সত্তরের দশকে সমাজ ও রাজনীতির উত্থান-পতনে ত্যাগ ও প্রাপ্তি, ধ্বংস আর নির্মাণ, প্রত্যাশা আর আশাভঙ্গের অনিবার্য অস্থিরতার সময়টিতে যারা কলম চালিয়েছিলেন, যারা সেই সময়টাকে আত্মোপলব্ধি ও সৃষ্টিশীল উন্মাদনার দ্বারা এক চিরন্তন প্রতীতি প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। 


প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু (শিক্ষা)

শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। এবছর ২১টি বিভাগে ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগে তিনি এ সম্মাননা পাচ্ছেন।


একুশে পদক কি?

স্বাধীনতা পুরস্কারের পর রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পদক দিয়ে আসছে সরকার। 


আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্তদের একুশে পদক দেবেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।


একুশে পদকের প্রবর্তক কে?

১৯৭৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক আবুল ফজলের পরামর্শে বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান একুশে পদক প্রবর্তন করেন। প্রথমবারের মত বঙ্গভবনে এর আয়োজন করা হয়। 


একুশে পদক কেনো দেওয়া হয়? 

কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে বেশকিছু ক্ষেত্রসমূহে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য সরকার একুশে পদকে ভূষিত করতে পারে। 

Previous Post Next Post

{ads}