ads

 সাইবার সিকিউরিটি কি | সাইবার সিকিউরিটিতে বেতন কত | সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্ব

সাইবার সিকিউরিটি কি  সাইবার সিকিউরিটিতে বেতন কত সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্ব সাইবার সিকিউরিটির চাকরি সাইবার সিকিউরিটি কত প্রকার ও কি কি সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহারের ক্ষেত্র সাইবার সিকিউরিটি ক্যারিয়ার.jpg
সাইবার সিকিউরিটি
 এক্সপার্ট হিসাবে কাজ করুন 

আমরা যারা এই যুগে অনলাইন ব্যবহার করি তারা প্রত্যেকেই জীবন একবার হলেও সাইবার সিকিউরিটি শব্দটি শুনেছি। 


কিন্তু আমরা কি জানি এই সাইবার সিকিউরিটি কি বা সাইবার সিকিউরিটি কিভাবে কাজ করে? অথবা আমাদের মনে কখনো কি সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ইচ্ছা জেগেছে? 


দ্রুত চাকরি পেতে কি কি করবেন জানুন 


এই ইচ্ছার অংশ হিসেবে সাইবার সিকিউরিটি ক্যারিয়ার ঠিক কেমন হবে অথবা সাইবার সিকিউরিটিতে বেতন কেমন হতে পারে! চলুন তবে প্রশ্নের পর্ব সেরে এবারে আমরা উত্তরের খোঁজ নিই। জানার চেষ্টা করি সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। 


সাইবার সিকিউরিটি কি?

এক কথায় সাবের সিকিউরিটি হল ইন্টারনেট রিলেটেড বিভিন্ন সিস্টেমের নিরাপত্তা। যা বিভিন্ন হার্ডওয়ার সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল সিস্টেম এর সিকিউরিটি প্রদান করে। 


পাশাপাশি এই সিকিউরিটি সিস্টেম সাইবার বুলিং এর বিরুদ্ধেও কাজ করে। মোটকথা ডাটা সেন্টার এবং অন্যান্য কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে অননুমোদিত অ্যাক্সেস থেকে ব্যাক্তিকে রক্ষা করতে এই সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 


সাইবার সিকিউরিটির সেক্টরগুলি কি কি?

সাইবার সিকিউরিটি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানার পূর্বে আমরা বেশ কিছু সাইবার সিকিউরিটির সেক্টর সম্পর্কে জেনে নেব। মূলত এই সেক্টরে আপনি যেসব ক্যাটাগরি পাবেন সেগুলি হলো: 


  • Application security
  • Information or data security
  • Network security
  • Disaster recovery/business continuity planning
  • Operational security
  • Cloud security
  • Critical infrastructure security
  • Physical security
  • End-user education


সাইবার সিকিউরিটি কিভাবে কাজ করে?

সাইবার সিকিউরিটি মূলত কিভাবে কাজ করে সাইবার সিকিউরিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর নির্ভর করে। যেমন অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে অ্যাপ্লিকেশন আর্কিটেকচার ডিজাইন করা, সিকিউর কোড লেখা ইত্যাদি কাজ করতে হয়। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাইলে যা করবেন 


অন্যদিকে আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্টের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক, প্রসেসিংসহ কোম্পানির জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ করতে হয়। আবার ডিভাইস সিকিউরিটি নিশ্চিতে লাগে সেল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ইত্যাদির মতো ডিভাইসের ভেতরকার সিকিউরিটি। 


সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি কি কি? 

একজন সচেতন ইন্টারনেট ইউজার হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি সম্পর্কে আইডিয়া রাখা। পাশাপাশি যারা এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদেরও উচিত সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি সম্পর্কে জেনে রাখা। মূলত সাইবার সিকিউরিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি হলো: 


  • Application security
  • Data loss prevention
  • Forensics
  • Incident response
  • Network security
  • Security architecture
  • Threat intelligence
  • Vulnerability management


আপনি যদি ভবিষ্যতে একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে উপরোক্ত ক্যারিয়ার আইডিয়ার যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। বলে রাখা ভালো বর্তমানে এসব সেক্টরের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 


সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্বগুলি কি কি? 

এই ডিজিটাল যুগে এসে নিজের তথ্যকে সিকিউর রাখতো কোনোভাবে সাইবার সিকিউরিটিকে ইগনোর করা যাবে না। 


মূলত স্প্যামারদের হাত থেকে নিজের তথ্যকে বাঁচাতে সাহায্য নিতে হবে সাইবার সিকিউরিটির। চলুন তবে এক নজরে সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্বগুলি সম্পর্কে জেনে নিই: 


১. সাইবার সিকিউরিটির কারণে আপনি যে অ্যাপগুলি ব্যবহার করেছেন সেই অ্যাপগুলি নিরাপত্তা ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে আপনাকে নিজের তথ্য চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় পেতে হবে না। 


২. যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় ক্লাউড সিকিউরিটির কারণে ব্রাউজারের সাহায্যে কোনো হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না এবং আপনার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। 


এক্সপোর্ট ব্যবসা শুরু করে যেভাবে হবেন কোটিপতি 


৩. আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ডেটা সিকিউরিটির কারণে আপনার কম্পিউটারে ব্যবহার করা সার্ভার আপনার তথ্যের জন্য পুরোপুরি সিকিউর হিসেবে পরিগণিত হবে। এতে করে আপনার কম্পিউটারের যেকোনো তথ্য চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। 


৪. সেল ফোন সিকিউরিটির অংশ হিসেবে আপনি যদি আপনার ডিভাইসে সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস নিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে উক্ত ডিভাইস হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। সিকিউর থাকবে আপনার মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারসহ অন্যান্য ডিভাইস। 


৫. সাইবার সিকিউরিটির অংশ নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এর কারণে আপনার ডিভাইসের সকল হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার থাকবে নিরাপদ। যার কারণে কোনো হ্যাকার আপনার একাউন্টে অ্যাক্সেস করার সুযোগ পাবে না। 


৬. সাইবার সিকিউরিটির কারণে আপনার সকল ব্যবসায়ীক তথ্য থাকবে নিরাপদে৷ কমে যাবে আপনার বিজনেস প্ল্যান পাবলিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং ব্যবসা সম্পর্কিত সকল গোপন তথ্য। 


৭. র‍্যানসমওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ভাইরাস এবং ম্যালওয়ার থেকে নিজের ডিভাইস এবং তথ্যকে নিরাপদে রাখতে কাজ করবে সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম। 


সাইবার সিকিউরিটির ক্যারিয়ার কেমন?

বর্তমানে টেকনোলজি যত দ্রুত আপডেটেড হচ্ছে তত বেশি সিকিউরিটির প্রশ্ন উঠে আসছে। সুতারাং লজিক্যালি দিন দিন সাইবার সিকিউরিটির বিভিন্ন সেক্টরের চাহিদা বেড়ে চলেছে। 


আপনি যদি ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট হিসেবে দেখতে চান সে ক্ষেত্রে আমি বলবো সময়ের সাথে সাথে অলরেডি আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা শিখে গেছেন। ব্যাপারটাকে আরেকটু হজম করে নিতে চলুন সাইবার সিকিউরিটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ। 


সাইবার সিকিউরিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

যেহেতু মানুষ প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে, সেহেতু সাইবার অপরাধের ব্যাপকতা এবং তীব্রতা বেড়েছে। উদাহরণস্বর র‍্যানসমওয়্যার এর কথা বলা যেতে পারে। এই ধরনের সাইবার অপরাধের সাহায্যে বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজি করা হয়। 


অনলাইন থেকে আসলেই কি টাকা কামানো যায় কিনা জানুন 


যা বর্তমানে অধিক হারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজন পড়ছে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বর্তমানে সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্ব কতটা বেড়ে গিয়েছে! 


সাইবার সিকিউরিটিতে বেতন কেমন? 

আপনি কি জানেন সাইবার সিকিউরিটিতে কত টাকা বেতন দেওয়া হয়? যেহেতু এই জবটি অনেক ঝামেলার সেহেতু এখানে ভালো অ্যামাউন্টেরই পেমেন্ট পে করা হয়। তবে এর পরিমাণটা কত হবে তা নির্ভর করে সাইবার সিকিউরিটি জব এর ক্যাটাগরির উপর। চলুন ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাইবার সিকিউরিটির বেতন কেমন সে সম্পর্কে জেনে নিই: 

সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার

একজন সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারের বেতন বছরে ১ কোটিরও অনেক বেশি হতে পারে। আর যদি বাইরের দেশের হয়ে কাজ করে সেক্ষেত্রে এই এমাউন্ট হতে পারে  $125,000। 


কম্পিউটার সাইন্স, তথ্য প্রযুক্তি, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যেকোনো সেক্টরে ডিগ্রি না থাকলে এই সেক্টরে জব করা যায় না। 


সাইবার অ্যাটাক, হ্যাকার এবং অন্যান্য হুমকির বিরুদ্ধে সংস্থার ডেটা, নেটওয়ার্ক এবং সিস্টেমকে রক্ষা করাই হলো এই সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। 


ইথিকাল হ্যাকার 

পেনিট্রেশন টেস্টিং সহ সাইবার সিকিউরিটি রিলেটেড অনেক কাজ করতে হয় একজন ইথিকাল হ্যাকারকে। 


যেকোনো সিস্টেমে কোন ধরনের বাগ আছে কিনা, সিকিউরিটি রিলেটেড কোনো সমস্যা আছে কিনা, কিভাবে সিস্টেমকে সিকিউরিটিকে দিন দিন শক্ত করা যায় এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা হলো একজন ইতিকাল হ্যাকারের মূল কাজ। 


আপনি চাইলে ইথিকাল হ্যাকিং এর উপর কোর্স করে এই সেক্টরের কাজ শুরু করতে পারেন। 


সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট 

এটি একটি কোডিং লোডের কাজ হলেও অনেক সময় সাইবার সিকিউরিটির ক্ষেত্রে সফট ডেভেলপমেন্টের কাজের প্রয়োজন পড়ে। একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর কাজ হিসেবে যেকোনো প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করে। 


নিশ্চিত করে সব প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারে কোন ধরনের সিকিউরিটি রিলেটেড প্রবলেম আছে কিনা। এছাড়াও এসব প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ইউজারদের ইনফরমেশনকে সিকিউর করার জন্যেও কাজ করে এ ধরনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্টরা। 


ক্রিপ্টোগ্রাফি 

বলে রাখা ভালো ক্রিপ্টোগ্রাফি কোন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি রিলেটেড সেক্টর নয়। এই সেক্টরে কাজ করা এক্সপার্টরা মূলত ইনক্রিপশন নিয়ে কাজ করে থাকে। 


যারা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ম্যাথ এবং অন্য যেকোনো প্রোগ্রামিং রিলেটেড ব্যাকগ্রাউন্ডে পড়াশোনা করছেন তারা ভবিষ্যতে চাইলে একজন ক্রিপ্টোগ্রাফি সাইবার এক্সপার্টি হিসেবে কাজ করতে পারেন। 


উপরোক্ত সেক্টর ছাড়াও সাইবার সিকিউরিটিতে অসংখ্য সেক্টর রয়েছে। এর যেকোনো একটি সেক্টরে নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে পারলে আশা করি কাজের কোন অভাব হবে না। 


কারণ বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে এসে প্রতিটি কোম্পানি তার গ্রাহকদের information secure রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যার ফলে প্রতিটি কোম্পানিই দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট হায়ার এর প্রতি ছুটছে। 


আপনিও চাইলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে পারেন। 


লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম 


অল্প সময়ে পরীক্ষায় ফাটাফাটি রেজাল্ট করার মাথানষ্ট সব উপায় 


Previous Post Next Post

{ads}