ads

 শূণ্য থেকে মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার উপায়

মোবাইলের ব্যবসা করতে চাই মোবাইল ব্যবসা মোবাইল ব্যবসা করার উপায় মোবাইল বিজনেস আইডিয়া  মোবাইল ব্যবসা কি  কিভাবে মোবাইলের দোকানে সেল বাড়ানো যায়? মোবাইল দোকানের বর্ণনা?.jpg
মোবাইল বিজনেসে জিরো থেকে হিরো হওয়ার উপায়

বর্তমানে মোবাইল ফোন সারা বিশ্বের মানুষের জন্য খুব মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে উঠেছে। আপনিও চাইলে বর্তমান এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শূণ্য থেকে মোবাইলের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিভাবে? জানতে হলে নিচের স্টেপগুলি ফলো করুন: 


১. লাইসেন্স করুন

মোবাইলের ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই লাইসেন্স করতে হবে। অফলাইনে ছাড়া ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল বা অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স পোর্টালগুলিতে মোবাইল সেল করলেও আপনাকে এই লাইসেন্স করতে হবে। 


এক্ষেত্রে ভালো কোনো ট্রেড লাইসেন্স এক্সপার্ট বা লয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। বাজেট, প্ল্যান এবং শপের ধরণ বললে তারাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে কিসের পর কি করতে হবে।


২. ধরণ বুঝুন

মোবাইল কিন্তু অনেক ধরণের হয়। মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে এই ধরণ সম্পর্কে জানতে হবে। 


হেডসেট, তার, চার্জার এবং মেমরি কার্ডের মতো অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে কাজ করবেন কিনা সেটিও নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। মোটকথা মোবাইলের ধরণ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে মনে মনে একটা প্ল্যান সাজাতে হবে। 


৩. মার্কেট বুঝুন

মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার উপায় হিসাবে ১ দিন সময় করে আপনাকে বের হতে হবে। বিভিন্ন মোবাইলের দোকানের সামনে গিয়ে চেক করতে হবে গ্রাহক কোন ধরণের ফোন বেশি কিনছে, কেমন দামে কিনছে এবং ফোনের অন্যান্য জিনিসপত্র কেমন হারে সেল হচ্ছে। মনে রাখবেন মার্কেট বুঝতে পারলেই ব্যবসা শুরু করাটা সহজ হয়ে যাবে। 


৪. ফিচার বুঝুন

আপনি যদি নিজের শপ থেকে মোবাইল সেল করতে কাউকে হায়ার করেন সেক্ষেত্রে এই স্টেপটি আপনার জন্য নয়। তবে যদি নিজে মোবাইল সেল করেন সেক্ষেত্রে মোবাইলের ফিচার নিয়ে ভালো একটা ধারণা নিজের মধ্যে রাখতে হবে। তাই বিভিন্ন ফোনের ফিচার সম্পর্কে রিসার্চ করুন, বোঝার চেষ্টা করুন এবং মনে রাখার চেষ্টা করুন।


৫. বাজেট করুন 

এবার বাজেট করার পালা। শুরুতে অনেক বেশি অর্থ বাজেটে রাখবেন না। পাশাপাশি লাইসেন্স করার সময় বাজেট কত দিয়েছিলেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে তবেই বাজেট সেট করবেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে যদি বাজেট বাড়ানোর ইচ্ছা থাকে সেটি রিনিউর মাধ্যমে চেইঞ্জ করতে পারবেন। 


৬. সাধারণ জ্ঞান জানুন 

মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার উপায় হিসাবে মোবাইল ফোন সম্পর্কিত সাধারণ তথ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। 


যেমন কোন কোন ফোনগুলি ব্যবহার করা বেআইনি, আপনার টার্গেটেড কাস্টমার কারা, মোবাইলের কিছু কমন সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি। এসব জ্ঞান আপনাকে দ্রুত মার্কেট পেতে সাহায্য করবে। 


৭. নিজের অবস্থান বুঝুন

মোবাইল ফোনের দোকান আশেপাশে কম আছে এমন প্লেইসে নিজের মোবাইলের দোকানটি দিন। এতে করে দ্রুত সেল আসবে। 

তাছাড়া ইন্ড্রাস্ট্রিতে কোন মোবাইল কোন প্লেইসে বেশি চলে সে-সম্পর্কেও একটুখানি রিসার্চ করে নিন। 


৮. স্টোর সেট করুন 

একটি মোবাইল স্টোর তৈরির জন্য প্রায় ১০/১৫ বর্গফুট বা প্রায় ১৫০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন পড়ে। সেই সাথে তৈরির পর দোকানে অবশ্যই থাকতে হয় ডিসপ্লে কেস, লাইটিং, ক্যামেরা এবং এসিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র।


খেয়াল করে দেখবেন প্রতিটি মোবাইলের দোকানে ঢোকার পর সামনের উপরের অংশে এবং কাউন্টারের পিছনের দেয়ালে গ্লাস সিস্টেমে লম্বা কাউন্টারের ব্যবস্থা আছে৷ যা আপনাকেও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ২/৩ টি ভালো আলমারিতে লাগবেই! 


৯. পেমেন্ট সিস্টেম সিলেক্ট করুন

আপনার মেক্সিমাম সেলার বা টার্গেটেড সেলার পেমেন্টের জন্য ক্যাশ সিস্টেম অনেক বেশি ফলো করে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। 


যদি তারা মেক্সিমাম সময়েই ক্যাশ ব্যবহার করে তাহলে ঠিক আছে। তবে কোনো কাস্টমারকে ফিরিয়ে দিতে না চাইলে ক্যাশের পাশাপাশি রাখতে পারেন বিকাশ, নগদ কিংবা শিউর ক্যাশ সিস্টেম। 


১০. প্রচারণা করুন

মোবাইল ফোন ব্যবসার এড বিলবোর্ড, ইয়েলো পেজ বিজ্ঞাপন, ফ্লায়ার এবং লিফলেট বিতরণ সহ বিভিন্ন উপায়ের মাধ্যমে নিজের বিজনেসের প্রচার-প্রচারণা করতে পারেন। 


১১. ভ্যারিয়েশন আনুন

মোবাইল ফোনের দোকানে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি বিভিন্ন দামের হেডফোন, স্ক্রিনগার্ড, ইয়ারফোন, মোবাইল ফোন সেট, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, মোবাইল কভার, ব্লুটুথ অন্যান্য প্রোডাক্ট দোকানে তুলুন। 


১২. প্রাইজ নির্ধারণ করুন

ইয়ারফোন, মোবাইল কভার, স্ক্রিন গার্ডের মতো মোবাইল বেসিক প্রোডাক্টগুলিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার করতে পারেন। পাশাপাশি মোবাইলের উপর কিছুটা লাভ ছেড়ে দিয়ে প্রাইজ ট্যাগ বসাতে পারেন। 


এতে করে কম সময়ে অনেক বেশি সেলস জেনারেট করা সহজ হবে।  মনে রাখবেন মোবাইলের অন্যান্য বেসিক প্রোডাক্টগুলির মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবসায় লাভের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে উঠবে। ফলে কম দামে মোবাইল ফোন ছেড়ে দিলেও পরবর্তীতে খুব একটা সমস্যা হবে না। 


১৩. গ্রাহকদের সুযোগ দিন

গ্রাহকদের সরাসরি পেমেন্ট করার সুযোগের পাশাপাশি বিকাশ, শিউর ক্যাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে পেমেন্ট ক্লিয়ার করার সুযোগ করে দিন। 


এতে করে যখনই মোবাইল কিনতে আসবে তবে হাতে ক্যাশ থাকবে না তখনই অন্তত পেমেন্ট রিলেটেড কোনো সমস্যার কারণে আপনার কাস্টমার ছুঁটে যাবে না। তাছাড়া আজকাল অনেক কাস্টমাররাই হাতে ক্যাশ নিয়ে ঘুরতে পছন্দ করে না। 


১৪. একের ভিতর সব নীতিতে চলুন

শূণ্য থেকে মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার উপায় হিসাবে এক মোবাইলের দোকানে মোবাইল সম্পর্কিত অন্যান্য বাজেট ফ্রেন্ডলি প্রোডাক্টেরও ব্যবস্থা রাখুন। মোটকথা আপনার গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় মোবাইল রিলেটেড আইটেম দোকানে রাখুন। 


নিশ্চিত করুন যে তাদের হেডফোন, চার্জার, ব্যাটারি, মোবাইল কভার ইত্যাদি প্রোডাক্ট কিনতে আপনার প্রতিযোগী বা কম্পিটিটর কোনো শপে যেতে হবে না।


১৫. চাহিদার কথা মাথায় রাখুন

আপনার সরবরাহকারীদের সাথে আগেভাগেই প্রোডাক্টের ব্যাপারে ক্লিয়ার হয়ে নেবেন। কোনো প্রোডাক্ট আর্জেন্ট লাগলে সেখান থেকে পাবেন কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নেবেন। 


যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার মোবাইল শপে যেনো উক্ত প্রয়োজনীয় আইটেমটি হাজির হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিতে পারলে কোনো কাস্টমারকে আর ফিরে যেতে হবে না। 

১৬. উইকলি স্টক রিসার্চ করুন

প্রতি সপ্তাহে আপনার নতুন শুরু করা মোবাইল বিজনেসের স্টকের রিসার্চ করবেন৷ এতে করে আপনি ইজিলি কোন প্রোডাক্টের চাহিদা বেশি সেটা বুঝে যাবেন। 


যার ফলে পরবর্তী সপ্তাহে প্রোডাক্ট নামাতে গিয়ে আপনাকে বাড়তি কোনো প্ল্যানিংয়ের সাহায্য নিতে হবে না। আর এক্ষেত্রে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন৷ 


১৭. সেল পরবর্তী সুবিধা দিন 

মনে রাখবেন, কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি করার পর তাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনার গ্রাহককে গাইড করাটা আপনার দায়িত্ব না। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন।


এমনকি মাঝেসাঝে আপনি অ্যাপস ইনস্টল করার মতো ছোটখাটো সার্ভিসও ফ্রি-তে দিতে পারেন। মনে রাখবেন এই ধরণের ফ্রি সার্ভিস আপনাকে পরবর্তীতে অনেক বেশি পরিমাণে কাস্টমার জেনারেট করতে সাহায্য করবে। 


তবে আর দেরি কেনো? 

আজই শূণ্য থেকে মোবাইলের ব্যবসা শুরু করার উপায়গুলি ফলো করে নতুন বিজনেস শুরু করে দিন। কম্পিটিশন যত বেশিই থাকুক না কেনো, তাদের চাইতে লজিক্যালি এগিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। 


গ্রাহকদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করুন। প্রথমবারের ব্যবহারে যেনো তারা মুগ্ধ হয়ে রিপিট কাস্টমারে পরিণত হয় তা নিশ্চিত করুন। বিভিন্ন সিজনে বিভিন্ন অফারের ব্যবস্থা করেও গ্রাহকদের চমকে দিন। আশা করি সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। 


লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম 


আরো পড়ুন: 

কম দামে সেলাই মেশিন কিনে মাসে ইনকাম শুরু করুন ১৫/১৬ হাজার টাকা

কম দামে নিউ ব্র্যান্ডের বাইক কিনুন 

ফেসবুক রিলস মনিটাইজ করে আয় করুন ঘরে বসে

Previous Post Next Post

{ads}