এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ পরিচিতি | কার্যকারিতা | সেবনের নিয়ম | উপকারিতা ও দাম
![]() |
এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ |
আপনার কি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সহজেই সারে না? রোগের জ্বালায় কি অস্থির হয়ে উঠেছে? এক্ষেত্রে সমাধান হিসাবে ডাক্তারের পরামর্শে সেবন করতে পারেন এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ।
ডাক্তারের পরামর্শ নেবার পাশাপাশি এটি সেবনের পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে এজিথ্রোমাইসিন ঔষধের কার্যকারিতা, উপকারিতা, সেবনের নিয়ম এবং দাম সম্ভব। বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
এজিথ্রোমাইসিন পরিচিতি
এজিথ্রোমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক মেডিসিন।
বলে রাখা ভালো ঔষধটি আবিষ্কৃত হয়েছিলো ১৯৮০ সালে এবং অফিসিয়ালি যাত্রা শুরু করেছিলো ১৯৮১ সাল হতে। আর সেসময় ঔষধটি তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছিলো প্লিভা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির হাতে ধরে।
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ ব্যাধি তাড়াতেই মূলত এই মেডিসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ, চোখের সংক্রমণ কিংবা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সংক্রমণে ডাক্তারের পরামর্শ এই ঔষধ সেবন করা যেতে পারে।
এজিথ্রোমাইসিন কোন রোগের ঔষধ?
বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রান্ত্র সমস্যার সমাধান হলো এই এজিথ্রোমাইসিন মেডিসিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেডিসিনটি মূলত একটি এন্টিবায়োটিক মেডিসিন হিসাবে কাজ করে। প্রেসক্রিপশনে ক্যাপসুল, ট্যাবলেট এবং সিরাপ হিসাবেও পাবেন এই বিশেষ মেডিসিন।
আর যারা সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে এটি দেহে নিতে চান তারা সরাসরি কোনো হাসপাতালে যোগাযোগ করতে পারেন।
যাইহোক! এজিথ্রোমাইসিন মেডিসিনে থাকা উপাদান খুব দ্রুত সময়ে সংক্রমণের কারণ হিসাবে কাজ করা ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলে বলে এটি সেবনে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
মোবাইল ব্যবহারে যেসব ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন আপনিও
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ কিসের কাজ করে?
মানবদেহে এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ রোগ সারাতে ম্যাক্রোলাইড-টাইপ অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে। যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে দেহের বিভিন্ন সংক্রমণ সংক্রান্ত রোগ নির্মুল করে। তবে যদি সাধারণ সর্দি বা ফ্লুর সমস্যার জন্যে এই ঔষধ ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে বলবো সাধারণ সর্দি কাশি সমস্যায় এই ঔষুধ কাজ করবে না।
তাছাড়া যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিকের মতো এই অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বা অপব্যবহারের ফলে এর কার্যকারিতা কমে গিয়ে এর কারণে দেহে বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ খাওয়ার নিয়ম কি?
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ নামের এই মেডিসিন আপনি ট্যাবলেট, ইনজেকশন কিংবা সিরাপ আকারেও পাবেন। তবে প্রতিদিন কতটুকু সেবন করতে হবে তা নির্ভর করবে আপনার শরীরের অবস্থার উপর।
আর এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নেবেন। মনে রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ সেবন করলে শরীরে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সাধারণত প্রতিদিন একবার খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া এই ঔষধ সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। পেট খারাপ হলে আপনি এই মেডিসিন খাবারের সাথেও নিতে পারেন। এতে করে ঔষধের কার্যকারিতা এতোটুকু কমবে না।
দ্রুত এবং সর্বোচ্চ রেজাল্ট পেতে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এই ঔষধটি সেবনের চেষ্টা করুন। ডোজের পরিমাণ জানতে সরাসরি চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।
ঠিক কতদিন নাগাদ আপনাকে এই এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ সেবন করতে হবে সেটিও নিশ্চিত হয়ে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোর্স অনুযায়ী সেবন করুন। আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
কিভাবে বুঝবেন আপনার ব্রেইন এবং নার্ভ সিস্টেমের কোনো রোগ আছে কিনা
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে এজিথ্রোমাইসিন ৫০০
- এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ প্রতিদিন ১ টি করে সেবন করুন
- সাধারণত ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত এই ঔষধ সেবনের প্রয়োজন পড়তে পারে
- খাবারের কমপক্ষে ১ ঘন্টা আগে বা ২ ঘন্টা পরে এই ঔষধ সেবন করুন
- অন্তত ২ ঘন্টা ব্যবধান রেখে গ্যাস্ট্রিকে ট্যাবলেট সেবন করবেন
- কখনোই দিনে দু'টোর বেশি ট্যাবলেট সেবন করতে যাবেন না
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ দাম কত?
১৮০ টাকা! ১৮০ টাকা! ১৮০ টাকা! মাত্রা ১৮০ টাকাতে পাবেন এই এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ ঔষধ। তবে খরচ বাঁচাতে ভালোবোধ করলেও এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ সেবন করা বন্ধ করবেন না। যতদিন পর্যন্ত আপনার কোর্স শেষ হচ্ছে না ততদিন পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শে এই ঔষধ সেবন না করলে সংক্রমণব্যাধি পূণরায় ফিরে আসতে পারে।
এজিথ্রোমাইসিন এর উপকারিতা কি কি?
গলা, কান, চোখ, সাইনাস এবং ফুসফুসের যেকোনো সংক্রমণ সারানোর মতো উল্লেখযোগ্য উপকারিতা রয়েছে এই এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ ঔষধের। যা সাধারণত মাইকোপ্লাজমা, ক্ল্যামিডিয়া, নেইসেরিয়া, স্ট্যাফিলোকক্কাস এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষতিকারক ভাইরাস শরীর হতে সম্পূর্ণরূপে নির্মুলে করে থাকে। তবে এটি সেবনে উপকৃত হতে এবং কোনো ধরণের বিপদে না পড়তে নিয়মিত ৫ মিলিগ্রাম সেবনের চেষ্টা করুন।
দ্রুত ব্রণ দূর করার মাথানষ্ট কিছু টিপস: যা আপনি জানতেন না
এজিথ্রোমাইসিন কেনো খায়?
রোগীকে মূলত এজিথ্রোমাইসিন সেবন করানো হয় শরীরের প্রোটিন সংশ্লেষণ না ঘটার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য। কারণ এই ধরণের সংশ্লেষণের কারণে দেহে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, প্রজনন, মৌলিক বিপাকীয় কার্যক্রম বেড়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রোগের। মূলত নিম্নোক্ত রোগ নির্মুলে এজিথ্রোমাইসিন সেবন করতে হয়:
- ফ্যারিঞ্জাইটিস এবং টনসিলাইটিস
- ব্যাকটেরিয়াল সাইনোসাইটিস
- মাইকোব্যাকটেরিয়াম এবং স্ট্যাফিলোকক্কাস নিউমোনিয়া
- স্কিনে স্টাফিলোকক্কাস অরিয়াস এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস পাইজেনেস এট্যাক
- ব্রঙ্কাইটিস
- ইউরেথ্রাইটিস
- হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ভাইরাস
পাশাপাশি বেশকিছু থেরাপি এবং মেডিসিনেও এই ঔষধের উপাদান ব্যবহার করা হয়। যেমন:
- অ্যাজিথ্রোমাইসিন + আর্টিসুমেট ঔষধে
- বিভিন্ন থেরাপিতে
- Azithromycin + levofloxacin (অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ)
- Azithromycin + doxycycline (অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ)
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ সেবনের সাইড এফেক্ট
- ক্লান্তি বা অসুস্থ বোধ
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
- ডায়রিয়া দেখা দেওয়া
- কোনো খাবারে স্বাদ না পাওয়া
- ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়া
- হালকা মাথা ঘোরা
- এবং হালকা মাথা ব্যথা
ইতি কথা
আশা করি এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ পরিচিতি, কার্যকারিতা, সেবনের নিয়ম, উপকারিতা ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি। তবে কেবল তথ্য জেনে এই এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ সেবন করা যাবে না।
এর পূর্বে নিতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ এবং বুঝতে হবে শরীরের কন্ডিশন। যাইহোক! এজিথ্রোমাইসিন ঔষধ সম্পর্কে আরো জানার থাকলে নিচের তথ্যগুলি চেক করতে পারেন।
শরীর শুকিয়ে যাওয়া কি কোনো রোগ: জানুন বিস্তারিত
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ প্রাইস ইন বাংলাদেশ?
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ প্রাইস ইন বাংলাদেশ হলো মাত্র ১৮০ টাকা। বাংলাদেশের যেকোনো অনলাইন কিংবা অফলাইন ফার্মেসিতে এই ঔষধ পেয়ে যাবেন।
২. এজিথ্রোমাইসিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি কি কি?
এজিথ্রোমাইসিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি হলো ক্লান্তি বা অসুস্থ বোধ, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ডায়রিয়া দেখা দেওয়া, কোনো খাবারে স্বাদ না পাওয়া বা মাথা ব্যথা করা ইত্যাদি।
৩. এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ এর কাজ কি?
এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ এর কাজ হলো দেহের ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন সংক্রমণ রোগ নির্মুল করা। যা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে।
৪. শিশুদের এজিথ্রোমাইসিন খাওয়ার নিয়ম কি?
শিশুদের এজিথ্রোমাইসিন খাওয়ার নিয়ম হলো ১ বছরের বাচ্চারা খাবে ১০ মিলিগ্রাম সিরাপ। নিয়মিত ৩ দিন পর্যন্ত এই সিরাপ সেবন করলে বাচ্চা দ্রুত সুস্থতা অর্জন করবে।
৫. এজিথ্রোমাইসিন সিরাপ কোন রোগের ঔষধ?
এজিথ্রোমাইসিন সিরাপ হলো সংক্রমণ সংক্রান্ত বিশেষ কিছু রোগের ঔষধ। যা সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ, চোখের সংক্রমণ কিংবা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মেধা খারাপ? চিন্তা নেই! এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন কি করা উচিত!