ads

 ফোরড গাড়ির যাত্রা ও ইতিহাস: ফোরড মোটর কোম্পানি সম্পর্কিত কেস স্টাডি

ফোর্ড কোন দেশের কোম্পানি ফোর্ড মোটর কোম্পানির ইতিহাস  আমেরিকার ফোর্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কে ফোর্ড ট্রফি লাইভ স্কোর ফোর্ড গাড়ি কোথায় তৈরি হয়? ফোর্ড কি আমেরিকার মালিকানাধীন কোম্পানি? ফোর্ড কি ব্রিটিশ কোম্পানি?.jpg
ফোরড মোটর কোম্পানি 

মাত্র দৈনিক $৫ আর্নিং দিয়ে যাত্রা শুরু করে ফোরড গাড়ির এই কোম্পানি। অ্যালুমিনিয়াম ট্রাক বডিসহ ফোমি সিট এবং অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে আজ ফোরড গাড়ির জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। 


আমেরিকান এই মোটর কোম্পানি যাত্রা শুরু করে ১৯০৩ সালে। সেই থেকে শুরু। সময়ের ব্যবধানে আজ মাত্র ১১ জনের ইনভেস্টে শুরু করা এই মোটর কোম্পানিটি চরম জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। 


এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সৃষ্ট পৃথিবীর বিভিন্ন চরম মুহুর্তেও নিজের জনপ্রিয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ফোরড নামক এই মোটর কোম্পানি। 


ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যেও নিজেকে টিকিয়ে রাখার কারণে সদ্য ব্যবসা শুরু করা উদ্যোক্তাদের কাছেও শিক্ষণীয় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে এটি। 


আসুন তবে আজ এই ফোরড মোটর কোম্পানির ইতিহাস সম্পর্কে জানি। জানি তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সম্মাননা সম্পর্কে।  


ফোরড গাড়ির শুরুর গল্প: সম্পূর্ণ টাইমলাইন 

ফোরড মোটর কোম্পানির যাত্রা শুরু হয় ১৯০৩ সালে। উক্ত কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় হেনরি ফোর্ড দ্বারা। ১৯০৩ সালে উক্ত কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রথম গাড়ি বের করে ১৯০৮ সালে। আর এই গাড়ি সে সময় মডেল টি গাড়ি হিসাবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। 


বিশেষ করে গাড়িটি দামের দিক দিয়ে বেশ সাশ্রয়ী হওয়ায় সেসময় প্রায় সকলেরই নজর কাড়ে এই বিশেষ ফোরড গাড়ি। আবার ১৯০৮ সালের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি মুভিং এসেম্বলি লাইন চালুর ব্যবস্থা করে। 


এরই মাঝে ফোরড অনেক বেশি প্রোডাক্ট উৎপাদন করা শুরু করে। যার কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। অনেকেই যোগ দেয় ফোরড কোম্পানিতে। 


আপনি জানলে অবাক হবেন ১৯২৩ সালের শুরুতে ফোরড কোম্পানির কর্মচারীর সংখ্যা ছিলো ১ লক্ষ। পরে ১৯৭০ সালের মধ্যে তা পরিণত হয় ২ লক্ষ ৫৬ হাজারে। একটি কোম্পানির শুধুমাত্র কর্মচারীর সংখ্যা এভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি কিন্তু নেহায়েত চাট্টিখানি কথা নয়। 


নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং প্রোফিটের পরিমাণ বাড়াতে ফোরড ১৯৫৬ সালে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন একটি ব্যবসা শুরু করে। এর পূর্বে আবার ১৯২২ সালে লিঙ্কন মোটর কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে ফোরড।

 

কম দামে ভালো বাইক যেভাবে কিনবেন


উদ্দেশ্য ছিলো নিজের মডেলের গাড়ির পাশাপাশি অন্য কোম্পানির মডেলের গাড়ি নিয়ে কাজ করা। সে-সময় আমেরিকার মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে কোম্পানিটি মারাত্মক বিজনেস পলিটিক্স ব্যবহার করা শুরু করে। যার অংশ হিসাবে সেসময় বিলাসবহুল লিঙ্কন অটোমোবাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করা শুরু করে ফোরড। 


তবে শেষের দিকে এসে তারা কিছুটা ফ্লপ করে। তবে এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে ফোরডকে সাহায্য করে পনি কার, থান্ডারবার্ড, মুস্তাং এবং এফ ১৫০। ফোরড মোটর কোম্পানির আজকের এই যাত্রার পেছনে রয়েছে কোম্পানির সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষের পরিশ্রম। 


যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ১৯২০ সাল থেকে ১৯৪০ সালে মোটর কোম্পানির স্থায়িত্বের ব্যাপারটি। উক্ত সময়ের মাঝে মোটর কোম্পানির সংখ্যা বিভিন্ন কারণে ২০০ থেকে ১৭ তে নেমে আসে। আর এই ১৭ সংখ্যার মাঝে কিন্তু ফোরড কোম্পানির নামও ছিলো। 


আর এই সফলতার ইতিহাস ধরে সর্বশেষ ২০১৮ সালে কোম্পানিটি মার্কেটে আনে ফোর্ড মুস্তাং কার। যা আমেরিকাতে শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস কার হিসাবে ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে লাভজনক কোম্পানিগুলির মধ্যে ফোরড কোম্পানি ঠিক কতটা গুরুত্ব স্থান দখল আছে। 

ফোরড গাড়ির প্রতিষ্ঠাতার জীবনী

আপনি কি জানেন ফোরড মোটর কোম্পানির মালিক কে? উক্ত কোম্পানিটির মালিকের নাম হেনরি ফোরড। আমেরিকান শিল্পপতি এবং ব্যবসায়িক আইডল হিসাবে একটা সময় তিনি তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। 


১৮৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৪৭ সালের দিকে। মডেল টি এবং অন্যান্য অটোমোবাইলে ব্যবহৃত ট্রান্সমিশন মেকানিজমের জন্যে হেনরি ফোরড এখনো পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে আছেন৷ 


উদ্যোমী হেনরি ফোরডের জীবনে কিছু করার আগ্রহের প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটে তা ১৬ বছর বয়সে। এই বয়সে তিনি তার বাবার খামার বাড়ি হতে পালিয়ে যান। বাড়ি থেকেই পালিয়েই তিনি শুরুতে অটোমোবাইলের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। 


১৮৮০ সালের শেষের দিকে শুরু করেন ফোর্ড মেরামত এবং ইঞ্জিন তৈরির কাজ। ১০ বছরের মধ্যেই এডিসন ইলেকট্রিকের একটি বিভাগের সাথে কাজ করার সুযোগ জোগাড় করেন হেনরি ফোরড। বারবার ব্যর্থ হতে হতে তিনি অবশেষে অটোমোবাইল নির্মাণে সফলতা লাভ করেন। 


পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯০৩ সালে ফোরড মোটর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সাথে সাথে তিনি মোটর কোম্পানির একমাত্র মালিক হিসাবে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যাক্তি এবং সেরা পরিচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে ওঠেন। 


বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে রাখেন বিশেষ অবদান। বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে কিংবা সময়কালে হয়ে উঠেন শান্তিবাদের জন্য বেশ পরিচিত ব্যাক্তি। 


ব্যাক্তিগত জীবনে তার একমাত্র পুত্র এডসেল ফোরডের ব্যাপারেই কেবল জানা যায়। আন্তর্জাতিক ব্যবসায় ফোরডের অবদানের কারণে তিনি যুগের পর যুগ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। 


ফোরড মোটর কোম্পানির গাড়ির বিভিন্ন প্রতিযোগিতা 

বিভিন্ন সময়ে ফোরড গাড়ির বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফোরড গাড়ির এসব রেসে জয় পরাজয় থাকে। যাইহোক! ফোরড গাড়ি হিসাবে বিভিন্ন রেসে ব্যবহৃত আইকনিক GT40 রেস কারের তুলনায় খুব একটা পাওয়া যাবে না। 


ফোর্ড এফ-১৫০ কারটিও রেসের জন্যে বেশ উপযুক্ত। গত ২ বছর আগে আবারে কার রেসিং দুনিয়াতে রাজত্ব করেছে ফোর্ড জিটি নামক মাথানষ্ট ফিচারের কারটি। 


মজার ব্যাপার হলো এই কারটিতে ৬.৯ ইঞ্চির একটি টাচস্ক্রিন রয়েছে। যা ফোরডের সিঙ্ক থ্রি সফ্টওয়্যারকে রেসপন্স করে। মোটকথা কার রেসের দুনিয়াতে ফোরড কোম্পানির বিভিন্ন রেসিং কারের রাজত্বকে খুব একটা এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। 


ফোরড গাড়ির বর্তমান দাম 

ফোরড মোটর কোম্পানি যখন যাত্রা শুরু করে ঠিক তখনই তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসাবে কাজ করেছে তাদের বাজেট ফ্রেন্ডলি কার সেলিংয়ের বিষয়টি। 


অর্থ্যাৎ ফোরডের প্রায় প্রতিটি কার বা গাড়িই মানের তুলনায় বেশ বাজেট ফ্রেন্ডলি। আপনিও কি ট্রাই করতে চান? কিনতে চান স্বপ্নের ফোরড কার? চলুন তবে আপনার চাওয়াকে পূর্ণতা দেবার এই যাত্রায় বাজেট নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক। 


ফোর্ড রেঞ্জার LARIAT 4WD পরিচিতি 

মাঝারি আকারের ট্রাক হিসাবে এই ফোর্ড রেঞ্জার LARIAT 4WD গাড়িটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ট্রাকটি রং হিসাবে পাবেন: 


  • ক্যাকটাস গ্রে 
  • কার্বনাইজড গ্রে 
  • মেটালিক আইকনিক সিলভার 
  • মেটালিক অক্সফোর্ড হোয়াইট 
  • রেস রেড শ্যাডো ব্ল্যাক 
  • এবং ভেলোসিটি ব্লু মেটালিক


সরাসরি আমেরিকায় প্রস্তুত করা এই ট্রাকের ইঞ্জিনের ধরণ হলো 2.3L টার্বো ইনলাইন-4 গ্যাস। আর এটি ব্যবহারে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করতে হবে গ্যাসোলিন। 


ফোর্ড রেঞ্জার LARIAT 4WD দাম 

দামের দিক দিয়ে ফোর্ড রেঞ্জার LARIAT 4WD বেশ সাশ্রয়ী। গাড়িটি কিনতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৫ কোটি ১২ লাখ ৪ হাজার ৯০ টাকা। 


ফোর্ড এক্সপ্লোরার অ্যাক্টিভ AWD 2025

অ্যালুমিনিয়াম চাকার মধ্যে 18 x 7.5 সাইজের চাকা পাবেন এই গাড়িটিতে। যার ওজন প্রায় ৪৪৫৭ পাউন্ডের মতো। আমেরিকাতে তৈরি করা এই কারটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সৌন্দর্য। যাইহোক কারটি যেসব কালারে পাবেন সেসব কালার হলো: 


  • অ্যাগেট ব্ল্যাক মেটালিক
  • অ্যাটলাস ব্লু মেটালিক
  • কার্বনাইজড গ্রে মেটালিক
  • আইকনিক সিলভার মেটালিক
  • অক্সফোর্ড হোয়াইট
  • স্টোন গ্রে মেটালিক
  • ইনফিনিট ব্লু মেটালিক টিন্টেড ক্লিয়ারকোট
  • র‌্যাপিড রেড মেটালিক টিন্টেড ক্লিয়ারকোট 
  • স্টার হোয়াইট মেটালিক ট্রাই-কোট


ফোর্ড এক্সপ্লোরার অ্যাক্টিভ AWD 2025 দাম 

ফোর্ড এক্সপ্লোরার অ্যাক্টিভ AWD 2025 কিনতে গেলে দাম পড়বে ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫ শ ৮০ টাকা। দেখতে অসম্ভব সুন্দর এবং মানসম্মত এই কারটি স্বল্প মূল্যে কিনতে চাইলে বাংলাদেশের যেকোনো ফোরডের শো রুম থেকে ঘুরে আসতে পারেন। 


ফোরড Escape AWD 2024 

1.5L টার্বো ইনলাইন-3 গ্যাস টাইপের ইঞ্জিনের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে এই ফোরড Escape AWD 2024 গাড়িটিকে। আপনি যদি বাজেট ফ্রেন্ডলি প্রাইজে কোনো অল-হুইল ড্রাইভিং সিস্টেমের গাড়ি চান সেক্ষেত্রে এই গাড়িটি কিনতে পারেন৷ আর কালার অপশন হিসাবে পাবেন: 


  • অ্যাগেট ব্ল্যাক মেটালিক
  • অ্যান্টিম্যাটার ব্লু মেটালিক
  • ব্রোঞ্জ ফায়ার মেটালিক
  • কার্বনাইজড গ্রে মেটালিক
  • ডেজার্ট গোল্ড মেটালিক
  • আইকনিক সিলভার মেটালিক
  • অক্সফোর্ড হোয়াইট
  • ভেলোসিটি ব্লু মেটালিক


ফোরড Escape AWD 2024 দাম

ফোরড Escape AWD 2024 এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। ৩২৮৩ পাউন্ড ওজনের এই গাড়িটি বাংলাদেশের যেকোনো ফোরড গাড়ির শপে পেয়ে যাবেন। 


এছাড়াও ফোরড কোম্পানির অন্যান্য গাড়ির দামগুলি হলো: 

  • ফোর্ড রেঞ্জার ক্যারিবয় ডিজেল: ৳৩৭,০০,০০০
  • ফোর্ড রেঞ্জার ফ্রেশ: ৳১১,৯৫,০০০
  • ফোর্ড ডাবল কেবিন: ৳১৯,৭০,০০০
  • ফোর্ড রেঞ্জার এক্সএলটি: ৳১১,৯০,০০০
  • ফোর্ড রেঞ্জার এক্সএলটি: ৳১১,৯৫,০০০


ফোরড গাড়ির কোম্পানির ভবিষ্যত পরিকল্পনা 

একেবারে প্রথম থেকেই দারুণ পারফরম্যান্স করছে ফোরড মোটর কোম্পানি। স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং সলিউশন এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, জ্বালানি নিয়ে কাজ করায় তাদের প্রোডাক্টগুলি বেরিয়ে আসছে মানসম্মত উৎপাদন হিসাবে। 


বাজেট হাতের নাগালে রেখে নিয়মিত মানসম্মত প্রোডাক্ট উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যে কোম্পানিটি যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। যদি এমনটা ধরে রাখতে পারে, আশা করি কোম্পানিটি ভবিষ্যতেও কেবল এগুতেই থাকবে। 


জানা যায় কোম্পানিটি ভবিষ্যতে নতুন যানবাহন তৈরিতে বেশ মনোযোগী হচ্ছে। কম খরচে এবং কম জ্বালানিসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন মডেলের যানবাহন নিয়ে কাজ করার এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন অটোমোবাইল এক্সপার্টদের। 


ফোরড গাড়ি কোম্পানির যত অর্জন ও সম্মাননা

আমেরিকার ওয়ার্কহরস হিসাবে অনেক বছর যাবত জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলো ফোরড মোটর কোম্পানি। ফোরড গাড়ি কোম্পানির বিভিন্ন অর্জনের মাঝে যেসব অর্জনের কথা একেবারে না বললেই নয়। 


মডেল টি: এটি মূলত একটি গাড়ি। যার প্রাইজ বেশ কম অর্থ্যাৎ সাশ্রয়ী। সামাজিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যকে আরো বেশি প্রসারিত করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে ফোরডের এই মডেল টি গাড়িটি।


অটোমেশন প্রযুক্তি: ২০ শতকের বেশিরভাগ সময় ধরেই ফোরড কাজ করছে অটোমেশন প্রযুক্তি নিয়ে। যার কারণে এই সেক্টরে যথেষ্ট গবেষণার নিমিত্তে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানিটি। 


পরিবেশ সচেতনতা: ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ফোরড ফোকাস করে অটোমেকার জ্বালানীর সাহায্যে তৈরি করা গাড়ির ক্ষেত্রে। পরিবেশগতভাবে টেকসই অবস্থা বজায় রাখতে ফোরডসের এই অর্জন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। 


অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট: ১৯১১ সালে কোম্পানিটি ইন্ড্রাস্ট্রির প্রথম মার্কিন শাখা অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট ওপেন করে। যা বর্তমানে কানসাস সিটি, মিসৌরিতে অবস্থিত। এছাড়াও কোম্পানিটির প্রথম বিদেশী উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্টিত হয় ম্যানচেস্টার, ইংল্যান্ডে। 


লিঙ্কন মোটর কোম্পানি: একটা সময়ে এসে সুযোগ বুঝে ফোরড অধিগ্রহণ করে লিঙ্কন মোটর কোম্পানি। এরপর স্ট্যান্ডার্ড ফোর্ড মডেলের সাথে লিঙ্কনস মডেলের সেরামানের গাড়ি বের ফোরড। 


ফোরড মোটর কোম্পানির গাড়ির বিভিন্ন প্রতিযোগী কোম্পানি 

যখন ফোরড লিঙ্কনস কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে তখন ফোরড ভলভো, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, অ্যাস্টন মার্টিন এবং মার্কারির মতো বিলাসবহুল গাড়ির মালিক ছিলো। যদিও ফোরড বর্তমানে মূল ব্র্যান্ডে ফোকাস করার জন্য এই ব্র্যান্ডগুলি বিক্রি করে দিয়েছে। 


গবেষণা অনুসারে Toyota এর পরে, সেলসের দিক থেকে ফোরড বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অটোমেকার কোম্পানি। আর এই অর্জনে সহযোগী হিসাবে কোম্পানিটির সাথে কাজ করেছে চীন (চ্যাংগান ফোর্ড), তাইওয়ান (ফোর্ড লিও হো), থাইল্যান্ড (অটো অ্যালায়েন্স থাইল্যান্ড), এবং তুরস্ক (ফোর্ড ওটোসান)। 


এতো অর্জনের পরও ফোরড মোটর কোম্পানি, অটোমোবাইলিংয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতা করে চলছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির ব্যাপারে একেবারে না বললেই নয়: 


জেনারেল মোটরস: আমেরিকান স্বয়ংচালিত জায়ান্ট হিসাবে এই কোম্পানির জনপ্রিয়তা প্রায় দেখার মতো। শেভ্রোলেট, সিলভেরাডো ট্রাক এবং ইকুইনক্স এসইউভির মতো জনপ্রিয় মডেল নিয়ে কোম্পানি দিনের পর দিন এক একটি তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। 


টয়োটা মোটর কর্পোরেশন: নির্ভরযোগ্যতা এবং জ্বালানি দক্ষতার জন্য টয়োটার খ্যাতি এটিকে সরাসরি ফোরডের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে তৈরি করেছে। বিশেষ করে টয়োটা RAV4 এবং হাইল্যান্ডার SUV এর মার্কেট গরম করার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথেই নেওয়া উচিত। 


ভক্সওয়াগেন গ্রুপ: অডি এবং পোর্শের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই মোটর কোম্পানিটি। বলা হয়ে থাকে ভক্সওয়াগেনের গল্ফ এবং পাস্যাট মডেলগুলি  সরাসরি ফোর্ডের প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে। 


হোন্ডা মোটর লিমিটেড: দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্য যানবাহন তৈরির ক্ষেত্রে আরো একটি জনপ্রিয় কোম্পানি হিসাবে হোন্ডা মোটরের কথা বলা যেতে পারে। যা সরাসরি ফোরডের প্রতিযোগী কোম্পানি হিসাবে সারা পৃথিবীতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। 


নিসান মোটর কর্পোরেশন: জনপ্রিয় আলটিমা এবং সেন্ট্রা সেডান কিংবা রগ এসইউভি এবং লিফ ইলেকট্রিক গাড়ি! যেটির কথাই বলি না কেনো, নিসান মোটর কর্পোরেশন কিন্তু মানসম্মত যানবাহন তৈরির জন্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রোপিলট অ্যাসিস্টের মতো মাথানষ্ট গাড়ির ফিচার উদ্ভাবন করা এই কোম্পানিটিকেও কিন্তু ফোরড কোম্পানির কম্পিটিটর বলা যেতে পারে।


ইতি কথা

এই ছিলো আমাদের আজকের এই ফোরড মোটর কোম্পানি সম্পর্কিত কেস স্টাডি। দেখলেন তো কিভাবে একটি ছোট্ট কোম্পানি ১৬ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পালানো হেনরি ফোর্ড এবং তার ১১ সহযোগীর হাত ধরে কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো! 


পরিণত হয়ে উঠলো আজকের এই জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বিলাসবহুল মোটর কোম্পানিতে! আজকের মতো এতোটুকুই। পরবর্তী যেকোনো এক্সাইটিং টপিক নিয়ে হাজির হবো আবারও। 


Previous Post Next Post

{ads}