ads

গরম বেশি পড়ার কারণ | অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচার উপায় | গরমে রুম ঠান্ডা করার উপায়

গরম বেশি পড়ার কারণ বেশি গরম লাগার কারণ অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচার উপায় গরমে রুম ঠান্ডা করার উপায় বেশি গরম লাগলে করণীয় শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার কারণ ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্র.jpg
অতিরিক্ত গরম পড়ার কারন

যে গরম পড়েছে। দিনশেষে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বেশকিছু টিপস আপনার জীবনকে আরো সহজ করে দেবে। 


তবে সেই টিপসগুলি কোত্থেকে সংগ্রহ করা যায়? জানতে হলে কিংবা টিপসগুলিকে কাজে লাগিয়ে এই গরমে আরামদায়ক জীবন উপভোগ করতে আমাদের পুরো আর্টিকেলটির সাথে থাকুন৷ 

গরম বেশি পড়ার কারণ কি? 

আপনি কি জানেন এবার গরম বেশি পড়ার কারণ কি। কেনোই বা এবার ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে এতো বেশি গরম পড়ছে। মূলত তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। 


দোকানে গিয়ে ভালো তরমুজ কিনতে পারলে পড়ুন তরমুজ চেনার সহজ উপায় 


মজার বিষয় হলো দেশে গরম বেশি না। তাপপ্রবাহ যেটা আছে, তা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আর এই ধরণের তাপমাত্রাকে বলা হয় মৃদু তাপপ্রবাহ। 


কিন্তু মানুষের মধ্যে গরম লাগার অনুভূতি বেশি হচ্ছে মূলত বাতাসে আর্দ্রতা থাকার কারণে। এ ছাড়া বর্ষায় কয়েক দিন বৃষ্টি বেশি হলে তাপমাত্রা কমে যাবে। 


এখন কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হলেও সেভাবে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। সুতরাং লজিক্যালি সে কারণে তাপমাত্রা কমছে না। 


আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ১৬ বা ১৭ জুলাইয়ের আগে এ অবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। তবে এরপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়বে বলেও মনে করছেন আবহাওয়াবিদ।

বেশি গরম লাগার কারণ কি? 

এবার আসি মানুষ হিসাবে বা প্রাণী হিসাবে আমাদের বেশি গরম লাগার কারণ কি সে ব্যাপারে। সাধারণত যেসব কারণে কোনো ব্যাক্তির অনেক বেশি গরম লাগতে পারে সেসব কারণ হলো:


অতিরিক্ত ওজন 

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে বেশি ফ্যাট আছে তারা অন্যদের তুলনায় উষ্ণ বোধ করতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ফ্যাট শরীরকে উত্তপ্ত করে, যেহেতু এটি পোশাকের অতিরিক্ত স্তরের মতো কাজ করে। কিছু পরিস্থিতিতে, স্থূল এবং অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিরা স্বাভাবিক ওজনের ব্যক্তিদের তুলনায় ঠান্ডা অনুভব করতে পারে। এটি সংবহনতন্ত্রের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। 


স্বাস্থ্যের অবস্থা

গবেষণা বলছে বিপাক, শক্তির মাত্রা ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে যে থাইরয়েড গ্রন্থি, সেটি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করলেই ব্যক্তি অতিরিক্ত গরম অনুভব করতে পারে।


মানবশরীরের আকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের আকারকেও বেশি গরম লাগার কারণ হিসাবে ধরা যেতে পারে। যে কারণে কিছু ব্যক্তি অন্যদের তুলনায় গরম বা ঠান্ডা অনুভব করে। সিডনি ইউনিভার্সিটির ফিজিওলজির গবেষক ওলি জে বলেছেন, শরীর যত বড় হবে, তাপ সিঙ্ক তত বেশি হবে, তাই ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগবে।


ব্যাক্তির বয়স

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মেটাবলিজম ধীর হতে থাকে। ধীর বিপাক শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস করে, যে কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরা হাইপোথার্মিয়ায় বেশি প্রবণ হয় এবং নিজেকে সবসময় আবৃত রাখেন। 


অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচার উপায় কি? 

কেবল গরম পড়ার কারণ এবং মানবদেহে অতিরিক্ত গরম অনুভুত হবার কারণ সম্পর্কে জানলেই হবে? সেই সাথে জানতে হবে অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচার উপায়গুলি কি কি সে-সম্পর্কে। অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচার উপায় হলো: 


  • দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে স্যালাইন পান করুন
  • গ্রীষ্মকালীন ফল দিয়ে তৈরি তাজা জুস পান করুন
  • মাংস এড়িয়ে বেশি করে ফল ও সবজী খান
  • প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন। কারণ প্রস্রাবের গাঢ় রঙ পানি স্বল্পতার লক্ষণ।
  • সব সময় ছাতা বা টুপি সাথে রাখুন
  • ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
  • চেষ্টা করুন যেন দিনে কম বাইরে যেতে হয়
  • পাতলা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন
  • বাড়ির বাইরে থাকার সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন
  • সবশেষে শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে অতিরিক্ত পানি ও শরবত পান করতে হবে


গরমে রুম ঠান্ডা করার উপায়গুলি কি কি? 

গরমের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করা যায়। কিংবা অফিসে এসি থাকলে সারাটা দিন থাকা যায়। তবে রাতে ফিরে তো গরম। কিন্তু আপনি কি জানেন, গরমে রুম ঠান্ডা করার উপায় ফলো করেও আপনিও আপনার রুমটিকে করে নিতে পারেন এসি রুমের মতো ঠান্ডা। উপায়গুলি হলো: 


মোবাইল গেমের প্রতি নেশা দূর করার সহজ উপায় জানুন এখানে 


১. গরমে দিনের বেলা সব সময় ভারী পর্দা টেনে রাখুন। এতে ঘর অনেক ঠাণ্ডা থাকবে। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের দেয়ালে জানালা থাকলে অবশ্যই পর্দা টেনে রাখুন। 


২. পূর্ব-পশ্চিম এই দুই দিকের জানালায় সানশেড লাগান। ঘর গরম হয়ে যাবে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।


৩. চুলা বন্ধ রাখুন। কারণ চুলার গরম ঘরকে আরও উষ্ণ করে তোলে। তাই কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চুলা বন্ধ করে দেওয়া ভালো। এতে ঘর বাড়তি গরম হবে না।


৪. অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রয়োজন না পড়লে বন্ধ রাখুন। মনে রাখবেন, ডিসওয়াশার, ওয়াশিং মেশিং, ড্রায়ার এমনকি মোবাইল চার্জার ইত্যাদি ছোটখাট যন্ত্রও ঘরের তাপ মাত্রা বাড়ায়। তাই এসকল যন্ত্র ব্যবহার হয়ে গেলে তা বন্ধ করে রাখা উচিত।


৫. জানালায় তথাকথিত ছাউনি বা গাছপালার ছাউনি ব্যবহার করুন। কারণ ছাউনি ব্যবহারের কারণে ঘরের আশপাশে গাছপালা থাকা ঘরে সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ঘর ঠাণ্ডা থাকে। জানালায় ছাউনি থাকলে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত তাপ কমাতে সহায়ক হয়।


৬. দরজা এবং জানালার চারপাশে ফাঁকা বন্ধ করুন। কারণ দরজা বা জানালায় কোনো রকম ফাঁকা থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এতে শীতে ঘর গরম থাকবে এবং গরম কালে ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।


৭. যতটুকু সম্ভব গরম বাতাস বের করে দিন। মনে রাখবেন, “এক্সস্ট ফ্যান’ ঘরের গরম বাতাস বের করে দেয়। বাথরুম বা রান্না ঘরে এটা ব্যবহারে গরম ভাব কমায়। রাতে জানালা খোলা রাখার পাশাপাশি এক্সস্ট ফ্যান চালিয়ে রাখা ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে।


৮. ঘর ঠাণ্ডা রাখতে ফ্যানের পেছনে ভেজা কাপড়, ঠাণ্ডা বস্তু, এক বাটি বরফ বা ঠাণ্ডা পানির বোতল রাখলে ঠাণ্ডা বাতাস ছড়ায়, ফলে ঘর ঠান্ডা থাকে। এক্ষেত্রে টেবিল ফ্যান ব্যবহার করুন। 


৯. ঘরের তাপমাত্রা কমানোর ভালো উপায় হল সিলিং ফ্যান ব্যবহার। এটা ঘরের তাপমাত্রা দশ ডিগ্রি কমাতে পারে ও এয়ারকন্ডিশনারের চেয়ে ১০ শতাংশ শক্তি কম অপচয় হয় বলে জানায়, এনআরডিসি। সুতরাং বড়লোকিপনা কমিয়ে সিলিং ফ্যান ব্যবহারে অভ্যস্ত হোন। 


১০. যখন বাইরের তাপমাত্রা ভেতরের বাতাসের চেয়ে কম থাকে তখন জানালা পর্দা সরিয়ে দিলে ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হয় ও ঠাণ্ডা হয়ে আসে। সুতরাং তাপমাত্রা ধরণ বুঝে জানালা খুলে দিন। যাতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। 


ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্রগুলি কি কি? 

আপনি যদি একেবারে ঝামেলা ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখতে চান তাহলে ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। কম বাজেটে ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্রগুলি হলো: 


এয়ার কুলার: বাজেট ৮০০০/-

এয়ার কুলার দিচ্ছে আপনার সাধ্যের মধ্যে শান্তিতে ঘুমানোর নিশ্চয়তা। এই ধরণের এয়ারকুলার গুলো ঠান্ডা পানি/বরফ দিয়ে ঘর ঠান্ডা করে। বিদ্যুত খরচ মাত্র ৮০ ওয়াট থেকে শুরু। 


যে ১০ টি ফটো এডিটিং অ্যাপ আপনাকে করে তুলতে প্রো ফটোগ্রাফার 


দামও মাত্র ৮০০০ টাকা থেকে শুরু। পোর্টেবল বলে যে কোন ঘরে সহজেই নেয়া যায়। আপনি যেখানে এয়ার কুলার সেখানে ব্যবহার করতে পারবেন এই বাজেট ফ্রেন্ডলি এয়ার কুলার। 


এয়ার কন্ডিশনার: বাজেট ২০,০০০/-

গরম থেকে স্বস্তি পেতে সবচেয়ে সহায়ক এবং আরামদায়ক সমাধান হচ্ছে এসি চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী উন্নত ফিচার এবং বিভিন্ন কুলিং ক্যাপাসিটির জনপ্রিয় ও চাইনিজ ব্র্যান্ডের উইন্ডো এসি, স্প্লিট এসি এবং পোর্টেবল এসি বাংলাদেশে এখন সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।


মনে রাখবেন ইনভার্টার এসি ৬০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলেও ২০,০০০ টাকা বেশি পরে। বাংলাদেশে বাসার জন্য ইনভার্টার এসি কেনা যেতে পারে তবে অফিসের জন্য নন-ইনভার্টার এসিই সবচেয়ে ভাল বিশেষ করে যে স্থানগুলোতে স্বল্প সময়ের জন্য রুম ঠান্ডা করার প্রয়োজন। 


ইতি কথা

যাইহোক! গরম দূর করার সকল টিপস জানার পর নিজেকে সুস্থ রাখতে নিজের যত্ন নিতে ভুলবেন না। যাদের বাড়ি ফেরার পরপরই ফ্রিজ খুলে পানি বের করে তৃষ্ণা মেটাতে ইচ্ছে করে তারা মনে রাখবেন এমনটা করলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কাজ করে। 


মোবাইল ক্যামেরা গোলা হলে যে উপায়ে তা ঠিক করবেন 


পাশাপাশি প্রতি দিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করতে ভুলবেন না। কাজের ধরন অনুযায়ী পরিশ্রম বেশিও হতে পারে। গরম পরিবেশে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁদের ঘাম বেশি হয়। তাই তাদের পানির চাহিদাটাও অন্যদের চেয়ে বেশি। এই ধরণের ব্যাক্তিরা মোটামুটি আরও আধা লিটার বেশি পানি পান করুন।


ভালো থাকুন। গরম থেকে বাঁচুন। গরমে নিজের যত্ন নিন। 

Previous Post Next Post

{ads}