ads

 পৃথিবীর প্রথম টাইম ট্রাভেলের গল্প কেমন ছিলো: টাইম ট্রাভেল করতে হলে কি কি লাগে? 

পৃথিবীর প্রথম টাইম ট্রাভেলের গল্প টাইম ট্রাভেল ঘটনা টাইম ট্রাভেল রহস্য টাইম ট্রাভেল মেশিন টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব টাইম ট্রাভেল কী টাইম ট্রাভেলের গল্প টা.jpg
পৃথিবীর প্রথম টাইম ট্রাভেল 

সুপ্রিয় রিডার্স! কল্পনা করুন আপনি কোনো এক স্টক মার্কেটে ৮০০ ডলার ইনভেস্ট করে ৩ সপ্তাহে আর্ন করেছে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার!


বিষয়টা অনেকেটাই শকিং না?


হ্যাঁ! ঠিক এমনটাই ঘটেছিলো ২০০৩ সালে, অ্যান্ড্রু কার্লসিন নামের এক ব্যাক্তির জীবনে।


এই শকিং ইনফরমেশন জেনে আপনি যতটা না শকড হচ্ছেন এফবিআই কতৃপক্ষ ততটাই শকড হয়েছিলেন। পাশাপাশি অ্যান্ড্রু কার্লসিনের এই আজগুবি কাহিনীতে পেয়েছিলেন প্রতারণা বা জালিয়াতির গন্ধ।


তাই এসইসি বা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর অনুরোধে এফবিআই কতৃপক্ষ ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ব্যাপারে তদন্ত করতে গ্রেফতার করেন এন্ড্রুকে। আর কেসের নাম দেওয়া হয় “অ্যান্ড্রু কার্লসিনের অদ্ভুত কেস”।


গ্রেফতারের পর এন্ড্রু একটি চার ঘন্টার স্বীকারোক্তি জমা দিয়েছিলেন। যেখানে তিনি নিজেকে ভবিষ্যতের ২০০ বছর থেকে ফিরে আসা একজন টাইম ট্রাভেলার বলে দাবি করেছিলেন।


অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচতে যা করবেন 


৪৪ বছর বয়সী কার্লসিন তার জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন, তিনি ভবিষ্যতে ২০০ বছর থেকে টাইম ট্রাভেল করে এসেছেন। আর এই কাজটি সম্ভব হয়েছে তার জ্ঞানের জন্যে৷ নিজের অসামান্য জ্ঞানই তাকে তার এই ভাগ্য অর্জন করতে সাহায্য করেছে।


২০০৩ সালের ২৮ জানুয়ারী হাতকড়া পড়া অবস্থায় স্টক মার্কেটের ঘটনায় ধরা পড়া এন্ডু টাইম ট্রাভেলার হিসাবে নিজের এই অস্বাভাবিক সাফল্যের উদ্ভট ব্যাখ্যা দেন তিনি।


চালাক এন্ড্রু সেসময় ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান এবং এইডসের নিরাময়ের মতো বিষয়গুলি নিয়ে তদন্তকারীদের সাথে ডিল করার প্রস্তাব দেন।


জানান কম শাস্তির বিনিময়ে আবারও টাইম ট্রাভেলে গিয়ে তিনি এসব খবর জানাবেন তদন্তকারীদের।


কিন্তু সবশেষে কেনো জানি এনড্রু আবারও টাইম ট্রাভেলে যেতে পারেননি।


এদিকে কার্লসিন আদালতে শুনানির জন্য সময় সময় সেট করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে শুনানির দিন কিংবা বাকি দিনগুলিতে আর কখনও দেখা যায়নি। আবার কেসের রেকর্ডে দেখা যায় যে পূর্বে তার কোনো অস্তিত্বই ছিলো না।


যখন সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কেসের সূত্রগুলি নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলেন তখন তারা খানিকটা অবাকও হয়েছিলেন বটে।


ওয়াশিংটনে ইউএস সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মুখপাত্রকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু প্রশ্ন করা হয়। মুখপাত্র একটি ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এবং তারপরে কিছুটা চাপা হাসি দিতে দিতে বলেন, “এই গল্পটি সম্পূর্ণ ফ্যান্টাসি। এর মধ্যে কোন সত্যতা নেই”।


তিনি রিপোর্টারকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “গল্পটা খানিকটা মঙ্গল গ্রহে পাওয়া এলভিস শ্রাইন এর গল্পের মতো হয়ে গেলো না?”


জানুন বাংলাদেশে লোডশেডিং কেনো হয়


ধীরে ধীরে কার্লসিনের এই গল্প উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজসহ অন্যান্য মিডিয়া প্রকাশ করতে থাকে। সেসময় একটি ব্যঙ্গাত্মক নিউজ পেপারের কাল্পনিক অংশ হিসাবে কার্লসিনের এই আজগুবি কাহিনী নিয়ে নিউজ করা হয়েছিলো।


পরে ইয়াহুও এসব নিউজের দলে যোগ দেয়। সরাসরি কার্লসিনকে নিয়ে পোস্ট করে৷ যদিও এসব পোস্টে কার্লসিনের ঘটনাটিকে সত্য বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।


এদিকে অন্যান্য নিউজপেপার এবং ম্যাগাজিনে এই নিউজকে সত্যি ঘটনা হিসাবে রিপোর্ট করা হতে থাকে।


ফলস্বরূপ ইমেলের ইনবক্স, ইন্টারনেট ফোরাম এবং বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে মুখে মুখে ছড়িয়ে যায় কার্লসিনের কথা।  


তবে কেমন ছিলো এন্ড্রুর এই টাইম ট্রাভেল গল্পের শেষটা? কি হয়েছিলো শেষে? এন্ড্রু কি জামিন পেয়েছিলো নাকি তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিলো?


সবকিছুই জানানো হবে এই আর্টিকেলটির আগামী পর্বে। সুতরাং শেষটা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।


কারণ আগামী পর্বে থাকছে এন্ড্রুর এই অদ্ভুত কাহিনীর পাশাপাশি পৃথিবীতে টাইম ট্রাভেল নিয়ে ঘটে যাওয়া বেশকিছু অদ্ভুত গল্প। সেই সাথে পেয়ে যাবে টাইম ট্রাভেল করার দারুণ সব টেকনিক। চিন্তা করবেন না! পরের পর্বটি আপনারা এই আর্টিকেলেই পেয়ে যাবেন। 


যে কারণে টেক জগতে চলছে বড়সড় ছাঁটাই মিশন 

পর্ব ২

এন্ড্রুর টাইম ট্রাভেল গল্পের নতুন পর্বে স্বাগতম!


সাপ্তাহিক ওয়ার্ল্ড নিউজ এই কেসের সমাপ্তি ঘটেছিলো এন্ড্রুর জামিনের মাধ্যমে। জানা যায় ২৯ এপ্রিল ২০০৩ সালে এন্ড্রুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাথে ফেরত দেওয়া হয় ১ মিলিয়ন ডলার।


বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে অ্যান্ড্রু কার্লসিনের এই ঘটনাই প্রথম টাইম ট্রাভেল গল্প। যা সত্য হবার প্রচুর চান্স আছে। কারণ এতো অল্প সময়ে স্টক মার্কেটে এতো অর্থ আর্ন করার বিষয়টা নিছক ছেলেখেলা নয়। পাশাপাশি এই অর্থ আয় করতে গিয়ে এন্ড্রু কোনো অপরাধের খবরও পাননি তদন্তকারীরা।


অন্যদিকে জবানবন্দির সময় ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান এবং এইডসের নিরাময়ের মতো বিষয়গুলি নিয়েও কথা বলতে চান ২২৫৬ সালে টাইম ট্রাভেল করা এন্ড্রু! সবমিলিয়ে এই ঘটনাকে বাধ্য হয়েই ফেলতে হবে সত্য মিথ্যার তলানিতে।


যদিও টাইম ট্রাভেল নিয়ে এন্ড্রুর এই কাহিনীর পাশাপাশি পৃথিবীতে সমসাময়িক কাহিনীর কোনো অভাব নেই।


বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী বাস্তবে টাইম ট্রাভেলের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও, নানা সময়ে নানা লোক টাইম ট্রাভেলের ‘গল্প’ শুনিয়েছেন আমাদের।


বাংলাদেশে এতো লোডশেডিং কেনো হচ্ছে? 


তাঁদেরই একজন আলেকজান্ডার স্মিথ। যিনি নিজেকে মার্কিন গোয়ন্দা সংস্থার সিআইএ-র টাইম ট্রাভেলের গোপন মিশনের অংশ বলে দাবি করেছেন।


বছর খানেক আগে একটা ইউটিউব ভিডিও আপলোড করে সিআইএ-র গোপন মিশন এবং টাইম ট্রাভেল নিয়ে নানা ‘তথ্য’ সামনে এসেছিলেন তিনি।


স্মিথের দাবি, অনেক ভেবে সিআইএ-র গোয়েন্দারা স্থির করেন ছোট বাচ্চাকেই এই মিশনের অংশ করা হবে।


কারণ ছোটরা খুব তাড়াতাড়ি শিখে নেয়। টাইম ট্রাভেলের ধকল নাকি খুব সহজেই তাদের শরীর মানিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেছিল সিআইএ।


তাদের কোষ বিভাজন অনেক বেশি হয়, এবং প্রতিটা কোষই খুব সক্রিয়। তাই ব্রেনে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা কম। প্রচুর বাচ্চার ইন্টারভিউ নিয়েছিল সিআইএ। এর পরেই নাকি স্মিথকে বেছে নেয় সিআইএ।


নিজের নামটুকু ছাড়া স্মিথ অবশ্য নিজের সম্বন্ধে আর কিছুই প্রকাশ্যে আনেননি। তিনি শুধু টাইম ট্রাভেল সম্বন্ধেই জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ১৯৮১ সালে তিনি নাকি টাইম ট্রাভেল করেছিলেন। আর পৌঁছে গিয়েছিলেন ২১১৮ সালে। অর্থাৎ ১৩৭ বছর এগিয়ে।


এটাই নাকি বিশ্বের প্রথম টাইম ট্রাভেলের ঘটনা। তিনি যা বলছেন, তার সত্যতা প্রমাণ করতে ‘ভবিষ্যতের ছবি’ও তিনি ইউটিউবে দেখিয়েছিলেন।


কেমন ছিল সেই ছবি?


সেটা আসলে একটি শহরের ছবি ছিলো। ছবিটা বেশ ঝাপসা।


দেখে মনে হচ্ছে, অদ্ভুত আকারের লম্বা লম্বা কতগুলো বাড়ি দাঁড়িয়ে। স্মিথের দাবি ছিল, ওগুলোই ভবিষ্যতের বাড়ি।


আঁকাবাঁকা আকারের, সবুজ রঙের। তাঁর দাবি, এই বাড়িগুলো বর্তমানের থেকে অনেক উন্নত প্রযুক্তির।


এন্ড্রু কিংবা স্মিথই নয়! বরং তাদের পাশাপাশি হাকান নর্ডকভিস্ট নামে একজন সুইডিশ ব্যক্তিকে নিয়ে টাইম ট্রাভেল ইস্যু নিয়ে প্রচুর জল্পনা-কল্পনা এবং কথা চালাচালি হয়েছিলো।


ফোরড কোম্পানি যেভাবে ৫ ডলারের বিজনেসকে বানালো বিলিয়ন ডলারের বিজনেস 


হাকানের দাবি ২০০৬ সালের দিকে তার রান্নাঘরের সিঙ্ক ঠিক করার চেষ্টা করার সময় তাকে দুর্ঘটনাক্রমে ২০৪৬ সালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।


সেখানে তিনি ৭০ বছর বয়সী এক লোকের সাথে নিজেকে খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখেন। প্রমাণসরূপ তিনি তাদের দুইজনেরই ডান বাহুতে থাকা ট্যাটুর একটি ছোট ফুটেজ সামনে আনেন৷


জনসম্মুখে এই ঘটনা প্রথমবারের আনেন বিখ্যাত বীমা কোম্পানি AMF।


প্রিয় ভিউয়ার্স! দেখলেন তো পৃথিবীতে ইতিমধ্যেই অনেকেই টাইম ট্রাভেল করেছেন। ঘটনা সত্য কিনা জানা না থাকলেও বিষয়টি কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং।


আপনিও কি এই ইন্টারেস্টিং বিষয়টির উপর এক্সপেরিমেন্ট চালাতে চান? যদি চান সেক্ষেত্রে বেশকিছু টাইম ট্রাভেল টেকনিক ফলো করতে পারেন।


যদিও এসব টেকনিকের শতভাগ কোনো ভিত্তি নেই। তবে যারা এসব টেকনিক বের করেছেন তারা কিন্তু প্রচুর রিসার্চ করে তবেই টেকনিকগুলি ফাইনাল করেছেন।


আপনাদের সুবিধার্থে চলুন এই পর্যায়ে এসব টাইম ট্রাভেলের বেশকিছু টেকনিক নিয়ে গল্প করা করা যাক।


হিটলার প্যারাডক্স

মূলত এই প্যারাডক্সটি বেশ মজার। ধরুন কোনো কারণে অতীতে সময় পরিভ্রমণ সম্ভব হলো।


আপনাকে একটি টাইম মেশিন বানিয়ে দিলাম, আপনি এই টাইম মেশিন ব্যবহার করে অতীতে চলে গেলেন।


ধরুন আপনি টাইম মেশিনে করে ১৮৮৯ সালে চলে গেলেন। ১৮৮৯ সালের ২০শে এপ্রিল হিটলারের জন্ম। উনি জন্মানোর সাথে সাথেই আপনি তাঁকে গুলি করে হত্যা করলেন।


বেচারার তাহলে কি আর কোনো ইতিহাস থাকবে?


থাকবে না! তবে যা হবে তা হলো আপনাকে ঝুঁলতে হবে ফাঁসির দড়িতে।


যেহেতু এই প্যারাডক্স অনুসারে আপনি তাঁকে অতীতে জন্মের পরপরই মেরে ফেলেছেন সুতরাং হিটলার নামক এক শিশু হত্যার দায়েই মূলত আপনাকে শাস্তি দেওয়া হবে।


এখানে আসল লজিক হলো হিটলারকে আপনি শিশু অবস্থায় মারতে পারবেন না।


যদি পারতেন তাহলে সে ইতিহাসের পাতায় থাকতো না, আর ইতিহাসের পাতায় না থাকলে ‘হিটলার’ শব্দটির সঙ্গেও আপনার কোনো পরিচয় থাকতো না।


হুট করে মোবাইল ওপেন না হলে যা করবেন 


সুতরাং হিটলার প্যারাডক্স অনুসারে সময় ভ্রমণে করে অতীতে যাওয়া সম্ভব কিনা তা আপনার উপরই ছেড়ে দিলাম!


প্যারাডক্সের প্যারা

Paradox শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘কূটাভাস’ বা ‘আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী’। পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত অথচ বিপরীতধর্মী কোনো ব্যাপারকে বুঝাতে এই প্যারাডক্স ব্যবহার করা হয়।


এই প্যাঁচ বা লুপের খেলা বুঝতে হলে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। জানতে হবে খেলার ধরণ।


সো রিডার্স টাইম ট্রাভেলের কোন টেকনিক বা মিথের কারণে আপনার মাথা ধরেছে? বিষয়টা হজম করতে গিয়ে কয় কাপ কফি সাবাড় করেছেন? জানিয়ে দিন কমেন্টবক্সে! সেই সাথে জানিয়ে টাইম ট্রাভেল নিয়ে আপনার মতামত কিংবা দারুণ সব অভিজ্ঞতা।


একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের বেতন কত জানলে আপনিও অবাক হবেন 

Previous Post Next Post

{ads}