জেনারেশন জেড কি: কাদের বলা হয়
নতুনভাবে দেশ হওয়ার পর থেকে সম্প্রতি জেনারেশন জেড নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ অলরেডি জেনে বুঝে মিমস বানাচ্ছে, মোটিভেশনাল পোস্ট আপলোড করছে, কেউ আবার সারাদিন মিনিং খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যারা জেনারেশন জেড নিয়ে একটি পরিপূর্ণ তথ্যবহুল কন্টেন্টের প্রয়োজনবোধ করছেন তাদের জন্য আজকের এই লেখাটি।
আসুন জানি জেনারেশন কি, ১ জেনারেশন কি, জেনারেশন জেডের মানে কি, জেনারেশন জেডের বৈশিষ্ট্য কি কি, জেনারেশন জেডের কিছু কমন চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশে জেনারেশন জেডের প্রভাব এবং জেনারেশন জেডের এর পর কি আছে মূলত!
জেনারেশন কি?
জেনারেশন জেড সম্পর্কে জানার আগে অবশ্যই আপনাকে জেনারেশন কন্সেপ্টটির উপর আইডিয়া থাকতে হবে। বুঝতে হবে এই জেনারেশন বলতে কি বোঝানো হয়। মূলত জেনারেশন হলো নির্দিষ্ট সময়ে জন্মগ্রহণকারী এবং বেড়ে ওঠা ব্যাক্তিদের একটা টিম।
সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ব্যাক্তিদের নির্দিষ্ট কোনো জেনারেশনের অংশ বলে ধরে নেওয়া হয়। প্রতিটি জেনারেশন মূলত এক এক জেনারেশন থেকে ৩ দিক দিয়ে আলাদা হয়ে থাকে। এবং এই ৩ টি পয়েন্ট হলো সে সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।
পাশাপাশি প্রতিটি জেনারেশনের মূল্যবোধ, আচরণ এবং বিশ্বদর্শনও আলাদা আলাদা হয়। আপনি যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট জেনারেশন নিয়ে রিসার্চ করার প্ল্যান করেন তাহলে আপনাকে সে জেনারেশনের বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির উপর ভালো আইডিয়া জেনারেট করতে হবে।
আর এ কাজে সম্ভব হলে সে জেনারেশনের ব্যাক্তিদের সাহায্য নিতে হবে অথবা তাদের জীবনযাপন, রাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যের উপর ভালোমতো ফোকাস করতে হবে।
জেনারেশন জেডের মানে কি?
আশা করি জেনারেশন নিয়ে একটি রাফ আইডিয়া পেয়ে গেছেন৷ এবার চলুন তবে সরাসরি জেনারেশন জেড সম্পর্কে আলোচনা করি।
এই সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল যুগে জেনারেশন জেড সাধারণত Gen Z নামে পরিচিত। এই জেনারেশন কিন্তু আবার "জুমার্স" নামেও পরিচিত। এই জেনারেশনের সবচেয়ে পরিচয় হলো এরা জেনারেশন Y পরে এবং জেনারেশন আলফার আগে পৃথিবীতে এসেছে।
মিলেনিয়ালদের পরবর্তী প্রজন্মকে বলা হয় জেনারেশন জেড। ১৯৯০-এর শেষ থেকে ২০১০-এর শুরুর দিকে জন্মগ্রহণকারীদের এই জেনারেশন জেডে ফেলা যায়। যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এই সময়ের পরিবর্তনও হতে পারে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো জেনারেশন জেডকে সে জেনারেশনের অংশ বলা হয় যে জেনারেশনের ছেলেমেয়ো ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে করতে বেড়ে উঠেছে। এ কারণেই মূলত আমেরিকান রিসার্চ অনুসারে এই জেনারেশনকে বলা হয় ডিজিটাল নেটিভ।
এর আগের জেনারেশন অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তর হওয়া দেখেছে ঠিকই তবে অতটা ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ পায়নি৷ অন্যদিকে জেনারেশন জেড রেডিমেড ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবহার করে সেক্টরটি হয়ে উঠেছে পাকাপোক্ত সবজান্তা ইউজার। মোট কথা এই জেনারেশন জেড এখন স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত একটি অন্যরকম বিশ্বকে জানে।
বলা হয়ে থাকে ডিজিটাল স্কিল Gen Z কে সবচেয়ে প্রযুক্তি-বান্ধব জেনারেশনে পরিণত করেছে। তাছাড়া টেকনোলজি রিলেটেড যেকোনো নতুন বিষয় কম সময়ে আয়ত্ত করতে পারার যে স্কিল সেটির কারণেও এই জেনারেশনকে কম জোর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তবে সবদিক দিয়ে এই জেনারেশন মারাত্মক লেভেলের পার্ফেক্ট তা কিন্তু নয়। অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, খারাপ দিকসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে এই জেনারেশন জেডকে। সে নিয়ে না হয় একটু পরেই আলোচনা করা যাবে।
খুব অল্প বয়স থেকেই ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়া এই জেনারেশন জেড নিয়ে জানার আছে অনেককিছুই। সুতরাং সাথেই থাকুন।
জেনারেশন জেডের বৈশিষ্ট্য কি কি?
জেনারেশন জেড কারা তা হয়তো বুঝেছেন। তবে যারা এখনো কনফিউজড তারা যদি জেনারেশন জেডের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন, আশা করা যায় সবকিছু আরো সহজ মনে হবে। জেনারেশন জেডের বৈশিষ্ট্য হিসাবে কমন কিছু বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডিজিটাল নেটিভ: ইংরেজিতে নেটিভ কিংবা অন্য যেকোনো ভাষার উপর নেটিভ হওয়ার আগে শুনেছেন নিশ্চয়! কিন্তু কখনো কি ডিজিটাল নেটিভ সম্পর্কে শুনেছেন? ডিজিটাল নেটিভ হলো তারা যারা ডিজিটাল বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই বেশ পাকা হয়ে উঠে। প্রযুক্তি-আধিপত্যের একটি বিশ্বে বেড়ে উঠার ফলে Gen Z ডিজিটাল সেক্টরে নিজের আলাদা অবস্থান তুলে তৈরি করেছে। যার কারণে অনলাইন ক্যাটাগরিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে অত্যন্ত স্কিলফুল এই জেনারেশন। একসাথে অনেকগুলি প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইস ব্যবহার করাটা যেনো তাদের কাছে দুধভাত!
২. সোশ্যালি সচেতন: Gen Z বা জেনারেশন জেড কিন্তু সামাজিকভাবে সবসময় বেশ সচেতন থাকার চেষ্টা করে। অন্যের অধিকার নষ্ট হচ্ছে কিনা কিংবা নিজের অধিকার ঠিক থাকছে কিনা সবকিছু নিয়েই যেনো চিন্তার কোনো শেষ নেই জেনারেশন জেডের। বিশেষ করে এই জেনারেশনের সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সচেতনতার দিকে আলাদা ফোকাস থাকার বিষয়টি দেখার মতো। মোটকথা এই প্রজন্ম তাদের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করতে ভয় পায় না। প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এই জেনারেশন বিভিন্ন সচেতনতা তৈরি করে, অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
৩. স্বাধীনতা এবং উদ্যোগ: জেনারেশন জেড কিন্তু প্রচুর স্বাধীনচেতা। এই জেনারেশনের ছেলেমেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা চায় এবং নিজের স্বাধীনতা এতোটুকু খর্ব হলেই তাদের চেতনায় আঘাত আসে। তাছাড়া অনলাইনে প্রচুর তথ্য থাকার কারণে এই জেনারেশন মেক্সিমাম ছেলেমেয়ে নিজে নিজেই সবকিছু শিখতে চায়। যদিও কাজটা অতটাও কঠিন নয় বলেই মোটামুটি সকলেই তা পারে। শুধু কি তাই? জেড জেনারেশনের ছেলেমেয়ে স্ব-নির্ভর এবং উদ্যোক্তা মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠছে দিন দিন। এই প্রজন্মের অনেকেই তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করছে, কনটেন্ট তৈরি করছে, নিজের পছন্দের ক্যারিয়ারে ফোকাস করছে। যা ক'দিন আগেও খুব একটা কমন ছিলো না।
৪. বাস্তববাদী এবং আর্থিক সচেতনতা: জেনারেশন জেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাস্তববাদী এবং আর্থিক সচেতনতা। Gen Z তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে বেশি বাস্তববাদী এবং বাস্তবসম্মত ডিসিশন নিতে পছন্দ করে। পড়াশোনা কবে শেষ হবে, ক্যারিয়ারে কি করবে, কি করা উচিত, মিলিয়নিয়ার হবে কিনা সবকিছু নিয়েই মোটামুটি সিরিয়াস থাকে নতুন এই জেনারেশন।
৫. ভিন্নতা: বলা হয়ে থাকে অন্যান্য জেনারেশনের চাইতে এই জেড জেনারেশনের মাঝে প্রচুর ভিন্নতা রয়েছে৷ মোটকথা ইতিহাসের অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রজন্ম হিসাবে এই জেনারেশনের ছেলেমেয়ে পরিচিত করালেও এতোটুকু বাড়িয়ে বলা হবে না। সম্ভবত প্রযুক্তিগত দিক এবং সময়ের পরিবর্তনগত দিকের কারণে এমন ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেনারেশন জেডের কিছু কমন চ্যালেঞ্জ
জেনারেশন জেডের এতো এতো ভালো দিক থাকলেও দোষ কিন্তু কম নয়। যদিও দোষ না বলে এসব পয়েন্টকে বলা যেতে পারে কমন কিছু চ্যালেঞ্জ। তবে চলুন লেখার এই অংশে আমরা জেনে নিই জেনারেশন জেডের কিছু কমন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে।
১. মানসিকভাবে খুব একটা স্টেবল নয় জেনারেশন জেড। Gen Z এর মাত্রাতিরিক্ত নেট ব্যবহারের কারণেই সাধারণত এমনটা হয়ে থাকে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং একাকীত্বের সাথেই যেনো জেনারেশন জেডের বসবাস। তাছাড়া মাঝেমধ্যে তারা ঠিক কোন কারণে ডিপ্রেসড ফিল করে সেটাই বুঝতে পারে না। যদিও এই সমস্যারও কিন্তু সমাধান আছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে এনে নতুন নতুন স্কিল শেখার প্রতি জেনারেশন জেডের আগ্রহ তৈরি করিয়ে দিতে পরলেই শেখার নেশায় তাদের সব ডিপ্রেশন দৌঁড়ে পালাবে।
২. ডিজিটাল আসক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেও হিমশিম খাচ্ছে এই জেনারেশন। রাত নেই দিন নেই সারাদিন ফোনের ভেতর ডুব থাকার এই প্রতিযোগিতা দিনকে দিন ধ্বংসের দিকে নয়ে যাচ্ছে স্ট্রং এই জেনারেশনকে। মেক্সিমাম ছেলে মেয়েই রাত ৩/৪ টা পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার করতে করতে ঘুমাতে যায়। যার কারণে তাদের সকাল শুরু হয় দুপুর ২ টা কিংবা ৩ টায়। অনেকেই তো আবার গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস কিংবক অন্যান্য দরকারি কাজও মিস করে৷ মোটকথা ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি এই চরম আসক্তিও জেনারেশন জেডের যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
৩. জেনারেশন জেডের আরেকটি কমন চ্যালেঞ্জ হলো চাকরির বাজারে নিজের সঠিক অবস্থান তৈরি করে নেওয়া। গবেষণা বলছে উদ্যোক্তা না হয়ে চাকুরিজীবী হবার প্রবণতা একই সাথে সকলের মাঝে কাজ করায় চাকরির বাজারে চাকরির বড় অভাব দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন সিস্টেমগত কারণেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাইরের দেশের কর্মীরা কাজ করছে। তাদের সরিয়ে দেশের ছেলেমেয়ের সুযোগ দিতে পারলে হয়তো চাকরির অভাবটা কিছুটা কমতো। তবে হ্যাঁ! এই চাকরির সমস্যা কিন্তু সমাধানও আছে এবং সেটি হলো জেনারেশন জেডের মাঝে বিজনেস করার মনমানসিকতা জাগিয়ে দেওয়া। আশা করা যায় নতুন সরকার এই বিষয়টিতে ফোকাস করবেন।
৪. জেনারেশন জেডের খুব কম ছেলেমেয়েই কিন্তু পরিবেশ নিয়ে তোয়াক্কা করে। অতিরিক্ত টেকনোলজি নির্ভর হয়ে যাবার কারণে এই জেনারেশনের ছেলেমেয়ে পরিবেশের প্রতি খুব একটা মনোযোগী নয়। তাছাড়া যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার অভ্যাস তো আছেই৷ জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং সম্পদের পরিমাণ কমে আসার ব্যাপারে যবে থেকে জেনারেশন জেড সিরিয়াস হবে তবে থেকে দেশে ফিরে আসবে শান্তি শৃঙ্খলা এবং সুন্দর পরিবেশ।
৫. Gen Z বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক চাপে পড়ে। নতুন কিছু শুরু করতেই তারা প্রচুর ভয় পায়। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে কোনটা ভালো কিংবা কোনটা খারাপ তা বুঝতে গিয়ে তাদের প্রচুর কনফিউশানে পড়তে হয়। আবার প্রচুর আত্মমর্যাদাবান এই জেনারেশন জেড তাদের পরিচয় নিয়ে এমন হীনমন্যতায় ভুগতে মোটেও পছন্দ করে না। তারা চায় নিজের পরিচয়কে আরো বেশি হাইলাইট করতে, নিজের ব্যাক্তিত্বে আরো বেশি ফোকাস করতে।
বাংলাদেশে জেনারেশন জেডের প্রভাব
এবার আসি বাংলাদেশে জেনারেশন জেডের প্রভাবের ব্যাপারে। দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দৃশ্যপটকে রীতিমতো পরিবর্তন করে দিয়েছে এই জেনারেশন জেড। স্বাধীনতা কিংবা অন্যায়কে না বলার ক্ষেত্রে এই জেনারেশন প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই একই অবস্থানে থাকে। তাছাড়া শেখ হাসিনার সরকারের উৎখাতের পর এই জেনারেশন যেনো আরো বেশি রাজনৈতিক সচেতন হয়ে উঠেছে। দেশের ট্রাফিক, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা সবকিছুর ব্যাপারেই যথেষ্ট সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে নতুন এই জেনারেশন। আসুন বাংলাদেশে জেনারেশন জেডের কিছু কমন প্রভাব নিয়ে আলোচনা করি:
১. বাংলাদেশে Gen Z হলো মূলত দেশ ডিজিটাইজড করার অন্যতম চালিকাশক্তি। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের প্রচুর ব্যবহারের কারণে অন্তত ঢাকা-শহরে এখন সবকিছুই হয়ে উঠেছে টেক নির্ভর। ই-কমার্স, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মও সময়ের সাথে সাথে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সকলেই মোটামুটি নিজের ক্যারিয়ার গুছাতে কিংবক পার্ট টাইম জব হিসাবে বেছে নিচ্ছে কন্টেন্ট তৈরি, অনলাইন বিজনেস কিংবা অনলাইন জবকে।
২. সামাজিক কাজকর্মের প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে জেনারেশন জেডের। সাধারণত আগে ভাবা হতো জেনারেশন জেড সম্ভবত রুমের দরজা অফ করে সারাদিন ফোন কিংবা পিসিতে বুদ হয়ে থাকতে পছন্দ করে! কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ধারণা ফিকে হয়ে আসছে সবার মনে। সকলেই পরিবেশ সচেতনতায় যেমন মন দিচ্ছে, ঠিক তেমনি ফোকাস করছে নারী অধিকার এবং শিশু অধিকারে। তাছাড়া সমাজে দূর্নীতি নামের নোংরা আবর্জনা দূর করবার মিশন তো থাকছেই!
৩. আবার এদিকে জেনারেশন জেড রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছে। চারদিকে আমার ভাই তোমার ভাই-যুক্ত পোস্টার দেখতে দেখতে তারা আজ মহাক্লান্ত। পাশাপাশি দূর্নীতির প্রচুর চাপ তো আছেই। জেনারেশন জেডের ছেলেমেয়ে বর্তমানে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চায় যেখানে থাকলে তাদের স্বাধীনতা এতোটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। যে যার পছন্দমতো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করার সুযোগ পাবে। থাকবে না কোনো টর্চার কিংবা হুমকিধামকি পাবার আশংকা!
৪. জেনারেশন জেডের ছেলেমেয়েরা ই-লার্নিং এবং সেল্ফ-লার্নিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্কিল ডেভলপ করার ক্ষেত্রে বেশি ফোকাস করছে। অর্থ্যাৎ নিজের মতো করে নিজের ফ্রি টাইমে পছন্দের স্কিল ডেভলপ করতে পারলেই যেনো তাদের স্বস্তি। তথাকথিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কোর্সে যেকেনো স্কিল ডেভলপের শতভাগ শিক্ষা প্রদান করতে না পারায় মূলত জেনারেশন জেড নিজে নিজেই নতুন কিছু শিখে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে চায়।
৫. সবশেষে বলবো জব সেক্টরের কথা। জেনারেশন জেড কিন্তু তথাকথিত জব থেকে সরে এসে নতুন কিছু শুরু করার চেষ্টা করছে। সকলেই চাইতে বিজনেসে ফোকাস করতে। তবে এক্ষেত্রেও যে কোনো বাঁধা নেই তা বলবো না! প্রথম দিকেই লস করার সম্ভাবনা, যেকোনো কাজে লেগে থাকার মন-মানসিকতা না থাকা ইত্যাদি সমস্যার কারণে অনেকেই নতুন বিজনেস শুরু ২/৩ মাসেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
ইতি কথা
তবে যাই হোক! জেনারেশন জেড নিয়ে কিন্তু জাতির যে ভুল ধারণা ছিলো তা বর্তমানে পুরোপুরি মুছে গেছে। সারাদিন টিকটক কিংবা রিলসে বুদ হয়ে থাকা জেনারেশনও যে ১৫ বছরের স্বৈরাচারীদের তাড়াতে পারে এই জেনারেশন জেড তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বেস্ট অফ লাক জেনারেশন জেড!