ads

 হাঁটুর ব্যাথা সারানোর উপায়: হাঁটু ব্যাথার কারণ ও প্রতিকার

hato‐bethar‐somadhan.jpg

হাঁটুর ব্যাথা সারানোর উপায় নিয়ে অনেকেই থাকেন বিরাট টেনশনে। কারণ এটি বর্তমানে পুরোপুরি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন পিসির সামনে বসে থাকা কিংবা ফোন নিয়ে পড়ে থাকা এই জেনারেশন হাঁটুর ব্যাথার সাথে প্রতিনিয়ত রীতিমতো যুদ্ধ করছে। পাশাপাশি প্রবণীদের ব্যাপারে তো বলার কোনো অপেক্ষাই থাকে না। তবে সব সমস্যার যেহেতু সমাধান আছে সেহেতু চলুন সমস্যা নিয়ে টেনশনে না থেকে সমাধান নিয়ে ভাবি। হাঁটুর ব্যাথাকে তাড়াই এক মিনিটে। 


হাঁটুর ব্যাথা কেন হয়?

শুরুতে চলুন হাঁটুর ব্যাথা কেন হয় সে ব্যাপারে জানি। জানি এই বিষয়ে বেশকিছু সাইন্টিফিক তথ্য। 


যেসব কারণে হাতে পারে হাঁটুর ব্যাথা: 


১. দুর্ঘটনা, খেলাধুলা বা উঁচু স্থান থেকে যদি কখনো পড়ে যান তবে আপনার হাঁটুর ব্যাথা সমস্যা সৃষ্টি সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। 


২. হাঁটুর ব্যাথা হওয়ার কারণ হিসেবে অনেক সময় হাঁটুর হাড় ভেঙে যাওয়াকে দায়ী করা যেতে পারে৷ 


৩. যদি কখনো আপনার হাঁটুর মেনিস্কাস অথবা লিগামেন্ট দূর্ঘটনার কারণে ছিঁড়ে যায় সেক্ষেত্রেও আপনি প্রচুর পরিমাণে হাঁটুর ব্যাথা সমস্যায় ভুগতে পারেন। 


৪. সারাদিন যদি আপনি হাঁটুর অনেক বেশি ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রেও কিন্তু হাঁটুর সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন ৩/৪ ঘণ্টা ধরে দৌঁড়ানো, লাফানো কিংবা জগিং করা। যদিও এই ধরণের হাঁটুর ব্যাথা পরবর্তীতে খুব একটা জটিলতা সৃষ্টি করে না। 


হাঁটুর ব্যাথা কয় ধরণের? 

হাঁটুর ব্যাথা ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের হতে পারে৷ আর এই সমস্যা ধরণভেদে বিভিন্ন কারণেও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাঁটুর ব্যাথার ধরণ: 


১. অস্টিওআর্থ্রাইটিস: এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকারের হাঁটুর সমস্যা। সাধারণত হাঁটুর জোড়ার কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয় হলে এই রোগ দেখা দেয়। এই রোগ দিলে রোগীর হাঁটুতে প্রচুর ব্যথা করে, শক্তি কমতে থাকে এবং ফোলাভাব বেড়ে যায়।


২. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ হিসাবে জনপ্রিয়। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাথে জড়িতদের কাছে বিষয়টি পুরো সহজবোধ্য! আমি কেবল আপনাদের খানিকটা আইডিয়া দিলাম। শরীরের ইমিউন সিস্টেম হাঁটুর জোড়ায় আক্রমণ করলে সাধারণত এই রোগ দেখা দেয়। যা হাঁটুর জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে এবং ব্যাথার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। 


৩. বুরসাইটিস: হাঁটুর জোড়ার চারপাশের বুরসা জ্বালা হলে এই ধরণের হাঁটুর রোগ দেখা দেবে। যারা এখনো বুরসা মিনিং বোঝেননি তাদের বলে রাখি এই বুরসা হলো এই ধরণের তরল থলি। যা আমাদের হাঁটুতে থাকে। এই রোগ হাঁটুকে ফুলিয়ে দিয়ে ব্যাথার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। 


৪. টেন্ডোনাইটিস: সবশেষে বলবো হাঁটুর রোগ টেন্ডোনাইটিসের কথা। হাঁটুর চারপাশের প্রচুর ব্যাথা হলে এই রোগের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হাঁটার সময় বা দৌঁড়ানোর সময় যদি কখনো লক্ষ্য করেন আপনি প্রচুর হাঁটুর ব্যাথা অনুভব করছেন তবে ধরে নেবেন আপনার টেন্ডোনাইটিস হয়েছে। 


হাঁটুর ব্যাথা সারানোর উপায় কি?

এই পর্যায়ে আমরা বেশকিছু হাঁটুর ব্যাথা সারানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। যা একেবারে সহজ এবং খুব দ্রুত কাজ করে। 


বিশ্রাম এবং আইস থেরাপি

হাঁটুর ব্যাথা সারানোর উপায় হিসেবে প্রাইমারিলি কিছু সময় বিশ্রাম নিতে পারেন। এতে করে ব্যাথা কমেও যেতে পারে। আর এই বিশ্রাম নেওয়ার সময়টাতে আইস প্যাক ব্যবহার করুন। এই আইস থেরাপি ফোলাভাব ও ব্যথা কমানোর কাজে ভালোই ভুমিকা রাখে। কাজটা আপনি দিনে ৩/৪ বার ২০ মিনিট সময় ধরে করতে পারেন। 


চাপ দিন ও উঁচুতে তুলুন

হাঁটু ব্যাথার প্রতিকার হিসাবে হাঁটুকে প্রচুর চাপের মাঝে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যবহার করুন ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ বা হাঁটু ব্রেস। এই ধরণের ব্যান্ডেজ এবং ব্রেস আপনার হাঁটুকে কোনোভাবেই ফুলতে দেবে না। পাশাপাশি বসা বা শোয়া অবস্থায় হাঁটুকে বালিশে তুলে রাখুন। যাতে ফুলে যাওয়া কমে যায়। একেবার হার্ট বরাবর উঁচুতে তুলে রাখতে পারলে এই টিপস সবচেয়ে বেশি এফেক্টিভ হবে। 


মেডিসিন এবং থেরাপি

আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন নামের ২ টি জনপ্রিয় হাঁটুর ব্যাথার মেডিসিন রয়েছে। এসব মেডিসিন হাঁটুর ব্যাথা সারাতে রীতিমতো বুলেট হিসাবে কাজ করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এসব ঔষধ সেবন করতে পারলে বাড়তি কোনো ঝুঁকি থাকে না। অন্যদিকে থেরাপি হিসেবে হালকা পাতলা ব্যায়াম করতে পারেন। যেমন উঠা-বসা, হাঁটুকে ঝাঁকি দেওয়া, হাঁটুকে নাড়ানোর চেষ্টা করা। 


ওজন এবং জুতো

মনে রাখবেন বডির অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যার কারণে মাঝেমধ্যেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং ডায়েট কন্ট্রোলে থাকুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। যাতে ওজন কন্ট্রোলে থাকে। সেই সাথে জুতো পছন্দের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আজিব হলেও সত্যি অনেকসময় আপনার পড়নের জুতোই আপনাকে মারাত্মক পর্যায়ের হাঁটুর ব্যাথায় ভোগাতে পারে। এক্ষেত্রে হাই হিল, অনেকদিনের পুরোনো জুতো কিংবা আনকমফোর্টেবল জুতোকে না বলুন। 


হট থেরাপি এবং ম্যাসাজ 

ব্যাথায় গরম হয়ে যাওয়ার জ্বালাভাব কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হাঁটুতে হট থেরাপি দিতে পারেন। কাজটা করতে হিটিং প্যাড ইউজ করুন। যাদের হিটিং প্যাড নেই তারা টাওয়াল গরম করে ছ্যাঁক দিন। আশা করি ২/১ ঘন্টাতে কাজ করবে। সেই সাথে প্রচন্ড ব্যাথায় একটু আরাম পেতে ম্যাসাজ করুন হাঁটুতে। এতে করে আপনার পেশীর টাইটনেস কমবে। আর এই কাজটা হাঁটুর ব্যাথা কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে৷ 


নি প্যাড এবং রুটিন

বাজারে অনেক টাইপেন নি প্যাড কিনতে পাওয়া যায়। এসব প্যাড কোথাও হাঁটু গেড়ে বসতে গেলে হাঁটুকে এক্সট্রা সাপোর্ট দেয়। যার কারণে হাঁটুর ব্যাথা খানিকটা কমে। তাছাড়া আপনি চাইলে কোনো শক্ত জায়গা বসার ক্ষেত্রে কুশন ব্যবহার করেও ভালো ফল পেতে পারেন। কেবল নি প্যাড কিংবা কুশনও যথেষ্ট নয়। হাঁটু ব্যাথা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে দরকার অভ্যাসে মারাত্মক পরিবর্তন। তবে কথা হলো কাজটা করবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সিঁড়ি চড়া বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলতে পারেন। এতে করে হাঁটুর উপর চাপ কমবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিমানে বসে থাকার অভ্যাসও আজই দূর করুন। 


হাইড্রেশন এবং অলসতা 

হাঁটুর ব্যাথা কমাতে হাইড্রেটেড থাকা জরুরি। কারণ হাইড্রেটেড থাকলে হাঁটুর জয়েন্ট ভালো থাকবে। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে পারেন। স্বাস্থ্য ফলের জুস পান করতে পারেন। অলসতাকেও আজই না বলতে শিখুন। মনে রাখবেন এক টানা বসে থাকাটাও কিন্তু আপনার হাঁটু ব্যাথার কারণ হতে পারে। এই বসে থাকা আপনার হাঁটুর জয়েন্টকে রোবটিক্স বানিয়ে রাখার কারণেই মূলত আপনি হাঁটুতে মারাত্মক ব্যাথক অনুভব করতে পারেন বা সেই চান্স আছে! 


সবশেষে বলবো অবস্থা জটিল মনে হলে হাঁটুর রোগ সারাতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে রিউমাটোলজিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। 


কি খেলে হাঁটু ব্যথা কমবে?

যারা ঔষধ খেতে পছন্দ করেন না তারা বিভিন্ন ফুড খেতে পারেন। যেসব ফুড নিয়মিত খেলে হাঁটুর সমস্যা খুব একটা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। তবে হ্যাঁ…এক্ষেত্রে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। চলুন তবে আর দেরি না করে জানি কি খেলে হাঁটু ব্যথা কমবে এবং কেনো কমবে: 


ফ্যাট ফিশ: চর্বি আছে এমন মাছ খেতে পারেন। যেমন ধরুন পাঙ্কাশ মাছ। খেতে ভালো না লাগলেও মেডিসিন মনে করে খেতে পারেন। কারণ এই ধরণের মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এই অ্যাসিড হাঁটুর ব্যাথায় জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 


শাক সবজি: মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারেন না? এই জন্যই তো আপনার হাঁটুর ব্যথার সারানোর কোনো উপায়ই স্যুট করে না। এমনটা করা যাবে না। শাককে প্রাধান্য দিন। মিষ্টি কুমড়া শাক বাছাই করুন। তেলে রসুন আর পেঁয়াজ দিয়ে ভাজতে পারলে এই শাক অমৃত মনে হবে। 


বাদাম এবং বিভিন্ন বীজ: জানেন তো কাঁঠালের বীজ কিন্তু খাওয়া যায়। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার বীজও খেতে মন্দ নয়। হাঁটু ব্যাথা কমাতে বিভিন্ন বীজের পাশাপাশি বাদাম খেতে পারেন। কাঠবাদামের বেশি ফোকাস করুন। কারণ এই ধরণের বাদামে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টির জোগান আছে। 


হলুদ: হলুদে আছে কারকিউমিন। শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলীর কারণে এই উপাদান আপনার হাঁটুর জন্যে বেশ উপকারী৷ 


আদা: কাঁচা আদা, আদা চা বা রান্না করে আদা খাওয়ার অভ্যাস করুন৷ অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্টের কারণে আদার জুড়ি মেলা ভার। হাঁটুর জয়েন্ট ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে এই আদা। 


রসুন: সালফার কম্পাউন্ড গুণাবলির কারণে রসুন বেশ জনপ্রিয়। এই রসুন সারা শরীরের জয়েন্টের ব্যাথা কমায়। তবে হ্যাঁ কাঁচা রসুন খেতে যাবেন। রসুনের আচার বা রসুনের ভর্তা খেতে পারেন। 


ভাত: বাঙালির ঘরে ভাত মানেই প্রধান খাদ্য। সুতরাং ভাত খাওয়ার অভ্যাস করুন। কমপক্ষে ২ বেলা অল্প করে ভাত খান। ফাইবার এবং পুষ্টিতে ভরা এই ভাত আপনার হাঁটুর ব্যাথা অটোম্যাটিক্যালিই কমে যাবে। 


ডালজাতীয় খাবার: ফাইবার এবং প্রোটিনে সমৃদ্ধ বিভিন্ন ডাল খেতে পারেন। মুসুর ডাল, চিড়া ডাল, সিমের ডাল বা রাজমা এসব ডাল জাতীয় খাবার খেতে যেমন মজা কাজেও তেমন পাকা! 


মিষ্টি আলু: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্টের কারণে মিষ্টি আলুও আপনার হাঁটুর ব্যাথা কমিয়ে দেবে। কারণ মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন। 


গ্রিন টি: খেতে ভালো না লাগলেও হাঁটুর ব্যাথা কমানোর উপায় হিসাবে নিয়মিত গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করুন। ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পূর্ণ এই চা আপনার হাঁটুর ব্যাথাকে পুরোপুরি কমিয়ে দেবে। 


টমেটো: লাল লাল টমেটো নীল নীল হাঁটুর ব্যাথা কমায়। এই সবজিতে লাইকোপিন নামক উপাদান আছে। এই লাইকোপিন হাঁটুর ব্যাথা এবং হাঁটুর ব্যাথার কারণে দেখা দেওয়া জ্বালা কমায় পুরোপুরি। 


মনে রাখবেন উপরের সব খাবারই আপনি চোখ বন্ধ করেই ডায়েটে যোগ করতে পারেন। 


হাঁটুর ব্যথার জন্য কি ঔষুধ খাব?

হাঁটুর ব্যথার জন্য কি ঔষুধ খাবেন সেটা নির্ভর করবে আপনার ডাক্তারের পরামর্শের উপর। বিশেষ করে যারা বড় এক্সিডেন্টে হাঁটুর ব্যাথায় ভুগছেন তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খেতে হবে। তবে সাধারণভাবে ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই হাঁটুর ব্যাথা সারাতে যেসব ঔষধ সেবন করা হয় সেসব ঔষধের নাম হলো: 

  • প্যারাসিটামল: দাম পড়বে ১০/২০ টাকার মতো
  • ইবুপ্রোফেন: দাম পড়বে ৫০/৮০ টাকার মতো 
  • ন্যাপ্রোক্সেন: দাম পড়বে ১৫০/২০০ টাকার মতো
  • ডিক্লোফেনাক: দাম পড়বে ৭০/১২০ টাকার মতো 
  • মেলক্সিক্যাম: দাম পড়বে ১৫০/২০০ টাকার মতো 

ক্রিম বা জেল হিসাবে ম্যাসাজ করার জন্যে ব্যবহার করতে পারেন টপিকাল পেইন রিলিফ ক্রিম। ভোভারোল জেল নামের ক্রিমটি ভালোই কাজ করতে পারে। এই জেল ৫০ গ্রামের দাম পড়বে ২০০/৩০০ টাকা। 


যাদের হাঁটুর ব্যাথা কোনোভাবেই সহ্য করার মতো না তারা হাঁটুর ব্যাথার ইনজেকশন হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন। এই ইনজেকশনের দামটা একটু বেশি। স্থান অনুসারে এর দাম পড়তে পারে ২০০০/৫০০০ টাকা। 


হাঁটুর ব্যথায় কোন ব্রেস ব্যবহার করা ভালো?

হাঁটুর ব্যথা কমানোর উপায় হিসাবে বিভিন্ন ব্রেস ব্যবহার করতে পারেন। আসুন হাঁটুর ব্যথায় কোন ব্রেস ব্যবহার করা ভালো তা বোঝার চেষ্টা করি, জানার চেষ্টা করি: 


হাঁটু স্লিভস: চাপ এবং তাপ পেতে হাঁটুতে এই স্লিভস ব্যবহার করতে পারেন৷ আপনার হাঁটুর ব্যথা এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করবে এই স্লিভস। ব্যায়ামের সময় এটি ব্যবহার করে ভালো ফলাফলের অপেক্ষা করতে পারেন। 


প্যাটেলার স্টেবিলাইজারস: প্যাটেলার স্টেবিলাইজারস স্লিভস বিশেষ করে তারাই ব্যবহার করবেন যারা হাঁটুর ব্যাথায় দাঁড়াতেই পারেন না। অথবা কোনোভাবেই সোজা হয়ে থাকতে পারেন না। 


হিঞ্জড হাঁটু ব্রেস: যারা সরাসরি কোনো না কোনো এক্সিডেন্টের কারণে হাঁটুতে ব্যাথা পেয়েছেন তারা হিঞ্জড হাঁটুর ব্রেস ব্যবহার করতে পারেন৷ মাঝারি থেকে গুরুতর হাঁটু ব্যথা বা আঘাতের জন্য এই ধরণের ব্রেসের জুড়ি মেলা ভার। 


র‍্যাপঅ্যারাউন্ড ব্রেস: যেকোনো ধরণের হাঁটুর ব্যাথার পার্ফেক্ট ব্রেস এটি৷ হাঁটুর উপর ভর করে দাঁড়ানোর জন্যে একটু সাপোর্ট পাওয়া কিংবা ব্যাথা কমার জন্যে একটু চাপ সৃষ্টি করা….সব কাজেই পার্ফেক্ট এই ব্রেস। 


উপরে আমরা বেশকিছু হাঁটুর ব্যাথার ব্রেস নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করেছি। সবগুলোই ব্রেসই আপনি যেকোনো অফলাইন শপে পাবেন। তাছাড়া দারাজে এসব প্রোডাক্টের উপর প্রচুর ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। চাইলে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। 


হাঁটু ব্যথার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা কেমন হয়? 

যারা আয়ুর্বেদিকে বিশ্বাসী তারা হাঁটু ব্যথার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। এই ধরণের চিকিৎসায় সাইড এফেক্টের পরিমাণ অনেক কম। আসুন ব্যাথার ধরণ অনুযায়ী হাঁটু ব্যথার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানি: 


হার্বাল রেমেডি

হার্বাল রেমেডি হলো বহু বছর ধরে ব্যবহার করে আসা অত্যন্ত কার্যকরী আয়ুর্বেদি চিকিৎসা। এই রেমেডি তৈরি করতে যা যা করতে হবে: 


  • পেস্ট আকারে ১ চা চামচ হলুদ নিন
  • আশ্বগন্ধা নিন জ্বালাপোড়া কমাতে 
  • সাথে একটু টুকরো আদা দিয়ে সবকিছু পেস্ট করে জয়েন্টে লাগিয়ে নিন


হার্বাল পেস্ট

হার্বাল পেস্ট হলো হাঁটুর ব্যাথা কমানোর উপায় হিসাবে ব্যবহৃত এক ধরনের আয়ুর্বেদিক ঔষধ। যেখানে ব্যাথা পেয়েছেন সেখানে এই হার্বাল পেস্ট বা পাউলটিস লাগিয়ে দিতে পারলে দেখবেন ২/৩ দিনে ব্যাথা পুরোপুরি সেরে গেছে। 


হাঁটুর ব্যাথা সারানোর হোমিও ঔষধ পরিচিতি

হাঁটুর ব্যাথা সারানোর হোমিও ঔষধ হিসাবে ব্যাথা করছে এমন স্থানে যেসব মেডিসিন ব্যবহার করতে পারেন সেসব মেডিসিন হলো: 


টক্সিকোডেনড্রন: প্রথমবার লাগানোর পর একটু ব্যাথা করবে। দ্বিতীয়বার ব্যাথা কমে আসবে এবং সর্বশেষবার ব্যাথা পুরোপুরি ভ্যানিস হয়ে যাবে। 


ব্রাইওনিয়া Alba: এই জিনিসটি একবারে শুকনো জিনিসের মতো। ব্যাথা করছে এমন স্থানে এটা লাগাতে হয়। 


আর্নিকা মোন্টানা: আঘাত বা অতিরিক্ত ব্যাথা পেলে হাঁটুতে হোমিও মেডিসিন হিসাবে এই আর্নিকা ব্যবহার করতে হয়। 


কালসেরিয়া কার্বোনিকা: হাঁটু ব্যথার সাথে যাদের অনেক দূর্বলতা কাজ করে, হাঁটুতে খুব ঠান্ডা অনুভুত হয় সেই সাথে ব্যাথার কারণে হজমশক্তিও কমে আসে তারা এই মেডিসিন ব্যবহার করতে পারেন। 


কালি কার্বনিকাম: অনেক সময় লক্ষ্য করবেন শীতকালে অনেকের অকারণেই হাঁটু ব্যাথা করে। বিশেষ করে শীতের রাতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এক্ষেত্রে কালি কার্বনিকাম ভালোই কাজে আসে। 


হাঁটু ব্যথায় ঘুমানোর উপায়?

হাঁটু ব্যাথা হলে কি আপনি রাতে ঘুমোতে পারেন না? হুট করেই বাধ্য হয়ে গুগলিং করেন? এই সমস্যার সমাধানও থাকছে হাঁটু ব্যথায় ঘুমানোর উপায় জেনে রাখার মাঝে। চলুন জানি: 


  • হাঁটু একটি বালিশ ব্যবহার করে উঁচুতে রাখুন
  • কোলবালিশ ব্যবহার করে তার উপর পা ছড়িয়ে রাখুন
  • সোজাভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে হাঁটুর নিচে আরেকটি বালিশ দিন
  • বিছানায় প্লাস্টিক বিছিয়ে তার উপর হিটিং প্যাড বা আইস প্যাক ব্যবহার করুন
  • আরামে ঘুমাতে পারেন এমন নরম এবং ফোমি বিছানা ব্যবহার করুন
  • ঘুমানোর আগে একটু ব্যায়াম করে নিন যাতে ভালো ঘুম হয়


বলে রাখা ভালো এসব টিপস কিন্তু কোনো বানানো গল্পের অংশ নয়। সকল পয়েন্টই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি উপরোক্ত হাঁটু ব্যাথা সারানোর উপায়গুলি ফলো করলে আপনি বেশ অল্প সময়েই ভালো রেজাল্ট পাবেন।


Previous Post Next Post

{ads}