অনলাইন বিজনেস প্লান করার আগে যে ১০ টিপস না জানলেই নয়
আজকাল অনলাইন বিজনেস বেশ কমন একটা কনসেপ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে অনলাইন শপিংয়ের জনপ্রিয়তা অন্যদিকে নিজে কিছু শুরু করার অদম্য আগ্রহ! সবমিলিয়ে আজকাল অনলাইন বিজনেস কমন টপিক। এ কারণে আবার কম্পিটিশনও বেড়েছে।
আর এই তুমুল কম্পিটিশনে আপনি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে কিভাবে কি করবেন, কিভাবে অনলাইন বিজনেস প্লান করলে সফল হবেন এবং কি কি করা জরুরি সবকিছুই থাকছে আজকের এই গাইডলাইনটিতে। সাথেই থাকুন।
১. নিশ এবং মার্কেট টার্গেট করুন
অনলাইন বিজনেস প্লান করার প্রথম স্টেপ হলো কি নিয়ে কাজ করবেন সে ব্যাপারে জানা। আপনার আগ্রহ, দক্ষতা এবং মার্কেট ডিমার্ডের উপর নির্ভর করে একটা প্রোডাক্ট, প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি বা নিশ বাছাই করুন। এক্ষেত্রে Google Trends, Keyword Planner কিংবা নিজেই মার্কেটে গিয়ে রিসার্চ করতে পারেন। অনলাইন বিজনেস প্লান করার ক্ষেত্রে নিশ বাছাই করার সময় মনে রাখবেন:
- আপনার আগ্রহ এবং স্কিলকে গুরুত্ব দিন
- মার্কেটে চাহিদা আছে কিনা চেক করে নিন
- আপনার কম্পিটিটররা কিভাবে কাজ করছে দেখুন
- টার্গেটেড অডিয়েন্সরা আপনার প্রোডাক্ট নেবে কিনা ভাবুন
২. স্ট্রং বিজনেস প্লান তৈরি করুন
আপনি ঠিকঠাক একটা অনলাইন বিজনেস প্লান তৈরি করে ফেলেছেন মানেই সফলতার রোডম্যাপ রেডি। এখন আপনাকে সে অনুযায়ী আগাতে হবে। সুতরাং এমন একটা প্ল্যান তৈরি করুন যেখানে বাজেট, প্রোডাক্ট, অডিয়েন্স, গ্রোয়িং স্টেপ সবকিছুই থাকবে। পরবর্তীতে আপনার যদি কোনো ইনভেস্টর লাগে সেই গোছানো-গাছানো প্ল্যানটা দিলেই কাজ শেষ। যাইহোক! বিজনেস প্ল্যান কিভাবে রেডি করে তা যদি বুঝতে না পারেন চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিন অথবা ইউটিউবে সার্চ দিন। পেয়ে যাবেন।
৩. বিজনেস মডেল সেট করুন
অনলাইন বিজনেস প্লান মানেই পুরো প্ল্যানটা হবে অনলাইন কেন্দ্র করে। তবে অনলাইন সেক্টরে কোম্পানির পরিমাণ নেহায়েত কম না। আপনি কোন সেক্টরে ফোকাস করবেন এবং আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স কোন সেক্টরে খুব বেশি এক্টিভ তার উপর ডিপেন্ড আপনাকে বিজনেস মডেল সেট করতে হবে। তবে বর্তমানে যেসব মডেলে কাজ করে অনেকেই সফলতা পাচ্ছে সেসব মডেল হলো:
- ই-কমার্স
- সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- ডিজিটাল প্রোডাক্ট
ই-কমার্সের ক্ষেত্রে আপনি অনলাইন ওয়েবসাইট ডিরেক্ট প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন। আর সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসের মানে হলো বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন বা একাউন্ট লগইন এক্সেস সেল করা৷ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেলের মাধ্যমে আপনি রিসেলার নিয়োগ করে তাদের দিয়ে প্রোডাক্ট সেল করিয়ে নিয়ে পারবেন। আর সবশেষে ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো ই-বুক, সফ্টওয়্যার এবং অনলাইন কোর্সের মতো ডিজিটাল জিনিসপত্র সেল করা। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
৪. প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করুন
এই পর্যায়ে আপনাকে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করিয়ে নিতে হবে। বিজনেসকে প্রিমিয়াম ভাইব দিতে কিন্তু এটা জরুরি। সুতরাং ইগনোর করার কোনো সুযোগ নেই। ওয়েবসাইটটিকে ভালোমতো কাস্টমাইজড করে এর ইউজার ফ্রেন্ডলি ফিচান নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তীতে অর্গানিক ট্র্যাফিক পেতে আপনার ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য (এসইও) অপ্টিমাইজ করিয়ে নেবেন। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০/২০ হাজার টাকা খরচ পড়তে পারে। তবে যারা ফ্রিতে চাচ্ছেন তারা ফ্রিতেও করতে পারেন। সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে ইউটিউব থেকে টুকটাক ধারণা নিয়ে নেবেন। আসুন জেনে নিই অনলাইন বিজনেস প্লান করার সময় একটি ওয়েবসাইটের কি কি নিশ্চিত করতে হবে:
- নেভিগেশন যাতে ক্লিয়ার থাকে
- হাই কোয়ালিটির ইমেজ ব্যবহার করুন
- বিজনেস নিয়ে পরিষ্কার টেক্সট ইউজ করুন
- স্ট্রং কল-টু-অ্যাকশন এড করুন যাতে সেল বাড়ে
- নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবস্থা করুন
- কাস্টমার সার্ভিসের বিষয়টিও নিশ্চিত করুন
৫. স্ট্রং ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করুন
স্ট্রং ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করা মানে হচ্ছে আপনি অন্যান্য কম্পিটিটরদের চাইতে নিজের ব্র্যান্ডকে আলাদাভাবে তুলে ধরছেন। আপনার ইউনিক লোগো, আইকন, বিজনেস কার্ড, টেকনিক সবকিছুই আছে। এই কাজটা করলে আপনার বাদ বাদি ১০ টা কম্পিটিটের চাইতে অডিয়েন্স আপনাকে আলাদাভাবে নেবেন, আলাদাভাবে চিনবে। আসুন জানি কিভাবে এই স্ট্রং ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করবেন সে-সম্পর্কে:
- আপনার ব্র্যান্ডের মিশন, ভিশন সেট করুন
- বিজনেস নেইম এবং লোগো তৈরি করুন
- টাইপোগ্রাফি এবং কালার স্কিম সেট করুন
- ব্র্যান্ড ভয়েস সেট করে নিন
৬. মার্কেটিং টেকনিক সেট করে নিন
এরপর আপনাকে প্ল্যান করতে হবে আপনি কোন টেকনিক ফলো করে মার্কেটিং করবেন সে বিষয়ে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইমেল মার্কেটিং এবং পেইড এডের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং টেকনিক আছে। আপনার অডিয়েন্স কোন ধরণের টেকনিক ফলো করবে তার উপর ডিপেন্ড করে আপনি অনলাইন বিজনেস প্লান করার সময় মার্কেটিং টেকনিকও সেট করে নেবেন। এই পয়েন্টে যদি কেউ সাজেশন চান সেক্ষেত্রে সাজেস্ট করবো ভিডিও মার্কেটিংয়ে ফোকাস করতে হবে। কারণ বর্তমানে ভিডিও মার্কেটিংয়ের সাহায্যে সেল জেনারেট করাটা অনেক ইজি। তবে এক্ষেত্রে খরচটা একটু বেশিই বলা চলে! মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে:
- Facebook, Instagram এবং Twitter সেক্টর ফোকাস করতে পারেন
- ব্লগ পোস্ট, ভিডিও, নরমাল কন্টেন্ট আপলোড করুন
- ইমেল লিষ্ট রেডি করে নিয়মিত নিউজলেটার সেন্ড করুন
- Google Ads, Facebook Ads এ ইনভেস্ট করুন
৭. কাস্টমার সার্ভিসে ফোকাস করুন
প্রত্যেকটা অনলাইন বিজনেস প্লান রেডি করার ক্ষেত্রে এই কাস্টমার সার্ভিসের বিষয়টা এড করা উচিত। কারণ আপনার ইনকাম করবে বাড়তি সেল আসলে। আর এই সেল জেনারেট করতে দরকার কাস্টমার। তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যদি আপনি এগিয়ে আসেন তাহলে দেখবেন কোয়ান্টিটির চাইতে কোয়ালিটিতেই বেশি ফোকাস করা হচ্ছে। সোজা বাংলায় রিপিটেড কাস্টমার বেশি পেতে চাইলে অবশ্যই কাস্টমার সার্ভিসে ফোকাস করুন। এক্ষেত্রে যেসব টিপস ফলো করতে পারেন:
- ইমেল, চ্যাট, ফোনে কন্টাক্ট করুন
- ম্যাসেজ করার ক্ষেত্রে দ্রুত রেসপন্স করুন
- কনভারসেশন করুন পার্সোনালি
- অডিয়েন্সের রিয়াকশন বুঝুন
- সম্ভব হলে গ্যারান্টি
- প্রোডাক্ট রিটার্ন করার ব্যবস্থা করুন
৮. টেকনোলজি এবং এআইয়ের ব্যবহার
মনে রাখবেন আপনার অনলাইন বিজনেস তত দ্রুত রিচ পাবে আপনি যত দ্রুত কোয়ালিটি কন্টেন্ট বেশি পরিমাণে আপলোড করতে পারবেন। আমরা সবাই জানি কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানানোটা কত কঠিন। তাছাড়া অনেকেই বিষয়টা পারে না। এক্ষেত্রে টেকনোলজি এবং এআইয়ের ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া আপনার অনলাইন বিজনেসকে স্মুথলি রান করতে দরকার ওয়েবসাইট অ্যানালিটিক্স, ইমেল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের ব্যবহার। কোন টুলস কখন কিভাবে কাজে লাগাবেন তা জেনে নিন, কাজটাকে সহজ করুন।
৯. বাজেটের দিকে ফোকাস থাকুন
নিয়মিত বাজেটের উপর চোখ রাখবেন। আপনি দিনে কত টাকার সেল করলেন, কত লস করলেন, লাভ কত করলেন, আগের চাইতে লাভের পরিমাণ বাড়লো কিনা সবকিছু নিয়েই ফোকাসড থাকুন। নিয়মিত ক্যাশ ফ্লো মেইনটেইন করতে QuickBooks বা Xero এর সফটওয়্যারগুলি ব্যবহার করতে পারেন। এসব যেমন ব্যবহার করা ইজি ঠিক তেমনই হিসেবেও ভুল হওয়ার চান্স কম। মনে রাখবেন নিয়মিত হিসাব না রাখলে বিজনেস একদিন আপনাকে দেউলিয়া হতে বাধ্য করবে।
১০. নিয়মিত শিখুন ও ট্রাই করুন
শুধুমাত্র অনলাইন বিজনেস শুরু করার সময় যে অনলাইন বিজনেস প্লান করবেন এবং মাত্র ১ বারের জন্য তা কিন্তু নয়। মনে রাখবেন আপনি অনলাইনে বিজনেস করছেন অফলাইনে না! সো আপনাকে ট্রেন্ডের সাথে গা ভাসাতে হবে। ম্যাক্সিমাম অডিয়েন্স কি চাচ্ছে বা তারা নতুন কোনো সিস্টেমে ফোকাস করতে চাইছে কিনা আপনাকে তা বুঝতে হবে। আর বিজনেস গ্রোথের ব্যাপারে নিয়মিত ইউটিউব ভিডিও দেখার অনুরোধ রইলো। দেখবেন সেখান থেকেই দারুণ দারুণ সব মার্কেটিং আইডিয়া জেনারেট হচ্ছে আপনার ব্রেইনে।
ইতি কথা
মোটকথা অনলাইন বিজনেস প্লান করুন বুঝেশুনে। সবাই অনলাইন বিজনেস করছে এবং তা দেখে আপনিও ট্রেন্ডে গা ভাসাতে চাচ্ছেন….এমনটা হলে আপনাকে সিজনাল বিজনেস ওনার বলা যায়। যার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আর যদি বিজনেস করেই নিজের লাইফে পরিবর্তন আনতে চান তবে বলবো অবশ্যই বুঝে শুনে ভালো প্ল্যানিংয়ের সাথে আগান। পাশাপাশি লেগে থাকুন। কমপক্ষে ৩/৪ মাস ধরেও যদি সেল না পান তবুও হাল ছাড়বেন না। আর হ্যাঁ অবশ্যই অনেস্ট থাকার চেষ্টা করুন। ২/৩ টা ফেইক ফিচারের সাহায্য প্রোডাক্টের পোস্ট রেডি না করে অথেন্টিক গুণগুলি নিয়ে কন্টেন্ট বানান। দেখবেন সেল বেড়ে গেছে।