ads

এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে?

এআই! যারা এখন পর্যন্ত এই শব্দের মাতামাতি শুনেনি বা জানে না এটা কি…তারাই বস! কারণ বস সবসময় ইউনিক হয়। যাইহোক! বর্তমানে এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার বেশকিছু বিষয়কে সামনে এমনভাবে টেনে আনছে যা কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করার জোঁ নেই। এরই মাঝে সবচেয়ে কমন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে! চলুন তবে আজ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক। 


what-are-the-negative-impacts-of-artificial-intelligence-ai/


১. দক্ষতা বৃদ্ধি কিন্তু মানুষের দক্ষতার হ্রাস

কি? কিছু বুঝলেন? 

মূলত এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে এ প্রশ্নের সবচেয়ে কম উত্তর হলো এই দক্ষতা বৃদ্ধি কিন্তু মানুষের দক্ষতার হ্রাস! আমরা সবাই ইতিমধ্যেই বুঝে গেছি AI মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। মোটকথা AI সময় বাঁচায় এবং মোটেও ভুল করে না। এক্ষেত্রে আমরা এক ধরণের দক্ষতার আন্ডারে রেজাল্ট পাচ্ছি। কম সময়ে নির্ভুল রেজাল্ট। এ-গেলো “দক্ষতা বৃদ্ধি” পার্টখানা! 


রইলো বাকি “মানুষের দক্ষতার হ্রাস”। এখানে মানুষের দক্ষতার হ্রাস বলতে মূল বোঝাতে চাচ্ছি মানুষের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। যেখানে এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার সবকিছু সহজেই ম্যানেজ করে নিচ্ছে সেখানে মানুষ খাঁটিয়ে ধীর গতির কাজ কিংবা ভুলভাল কাজ কেই বা আশা করবে! 


২. সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুপস্থিতি

জানেন কি এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে! এই মাত্রাতিরিক্ত বিষয়খানার কারণে মানুষের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিমাণ কমে আসতে পারে। যদিও এই কাহিনী বহু আগে থেকেই ঘটে আসছে। 


কারণ এআইয়ের অ্যালগরিদম জটিল যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মাত্র ২ সেকেন্ডে। যেমন AI রিপোর্টের কথাই ধরা যাক! যেখানে আগে একটি রিপোর্ট তৈরিতে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেনশনে আমাদের মাথা ঘুরে উঠতো সেখানে এখন সেকেন্ডেই এআইয়ের অ্যালগরিদম জটিল যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বসছে তাও নির্ভুলভাবে! ক্রেজি না? 


৩. মানুষের সৃজনশীলতার উপর প্রভাব

বস, ইদানীং খেয়াল করেছেন, AI ইতিমধ্যেই গান, লেখালেখি এসব বিষয়ের উপর কাজ শুরু করে দিয়েছে? 


OpenAI-এর GPT-এর মতো AI সিস্টেমগুলি এখন কবিতা লিখতে পারে। এর মানে কি বুঝতে পারছেন তো? হতে পারে আগামী ১০০ বছরের মাঝে আমাদের শুধুমাত্র এআই উপন্যাসই গিলতে হবে! আর আমরা হয়ে যাবো AI সিস্টেমের প্যাসিভ ভোক্তা!


৪. চাকরির বাজারে নতুনত্ব

এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে বুঝতে হলে রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল জব সেক্টরগুলিতে চোখ রাখতে পারেন! কেনো বলছি? 


কারণ এখন এসব সেক্টরে নতুনত্বের গন্ধ! মানুষের পরিবর্তে মেশিন দ্বারা কাজ করাতেই এখন উঠে পড়ে লেগেছে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি। যা একেবারে খুব অল্প সময়ে ব্যাপক বেকারত্বের কারণ হয়ে উঠবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম অনুমান করেছে যে ২০২৫ সালের মধ্যে এই AI বাবাজি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮৫ মিলিয়ন চাকরি নিজের করে নেবে। 


এখন প্রশ্ন হলো যাদের চাকরি যাবে তারা কি করবে? 


এক্ষেত্রে একটাই পথ খোলা এবং সেটি হলো যাদের চাকরি যাবে তাদের প্রচুর দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি জানতে হবে এআইকে পাকড়াও করে ভালো রেজাল্ট লুফে নেবার ট্রিক! 


৫. নিজের গোপনীয়তার ক্ষতি

এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে এ-প্রশ্নের আরেকটি কমন উত্তর হলো নিজের গোপনীয়তা কিংবা পার্সোনাল ইনফরমেশন হুমকির মুখে পড়া। তাছাড়া এই এআইয়ের কারণে দিনকে দিন কারো উপর নজরদারির বিষয়খানাও বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


ইতিমধ্যেই মার্কেটে ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা এবং প্রিডিকটিভ পলিসিং টুল বেরিয়েছে। ব্যবহার শুরু হয়েছে এসব AI টুলস। বলে রাখা ভালো এই AI-চালিত ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম সারা শহরের প্রত্যেকটা মানুষ কখন কি করছে তা ট্র্যাক করতে পারে। 


৬. মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সম্পর্ক থেকে ছিঁটকে পড়া 

মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সম্পর্ক থেকে ছিঁটকে পড়ার বিষয়টিও এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে এ-প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তরের আওতায় পড়ে। AI-এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে তেমনটাই ঘটছে। 


সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক সময় দেখা যায় আপনার-আমার মনোযোগ ধরে রাখার জন্য ডিজাইন করা কনটেন্ট আপলোড হচ্ছে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এমনটা কেনো হয়? 


কারণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরগণ এআই দ্বারা চালিত অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আমরা কীভাবে কনটেন্ট দেখি বা কোন ধরণের কন্টেন্ট গ্রহণ করি তা বের করে ফেলে এবং সে অনুযায়ী কন্টেন্ট ডিজাইন করে। 


৭. নৈতিকতার প্রশ্ন এবং সীমাবদ্ধতা

AI-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের নৈতিক এবং সামাজিক সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কিভাবে জানেন?


খেয়াল করুন তো AI যুদ্ধে কীভাবে এবং কখন হামলা করতে হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু AI কি মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে? 


না! কখনোই পারে না! তাছাড়া মানবিক নৈতিকতা এবং সহানুভূতির সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে AI মাঝেমধ্যেই যুক্তি অনুযায়ী তথ্য দিতে থাকে। আর তার দেওয়া এসব তথ্য কখনো কখনো নৈতিকভাবে গ্রহণ করা সঠিক সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে! 


এদিকে অতিরিক্ত AI এর ব্যবহার একটি সমাজের প্রত্যেকটা ক্যাটগরির মানবিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে বাচ্চা দেখাশোনায় কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে সার্ভিস দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে এআইকে! একবার ভাবুন তো রোবট কি কখনও মানবিক সহানুভূতি, আবেগ, মায়া কিংবা মমতা বা স্নেহের বিকল্প হতে পারে?


ইতি কথা

এআই এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের কী হতে পারে তা জানার চাইতে বর্তমানে আমাদের এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। মনে রাখতে হবে AI প্রযুক্তি আমাদের জীবনে বিপ্লব ঘটানোর ক্ষমতা রাখে ঠিকই! কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকতে না পারলে দিনকে দিন আমার এমন পরিস্থিতিতে যাবো যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে হাই জেনারেশনের এআইয়ের সাহায্যেও আমরা ঘুঁরে দাঁড়াতে অক্ষম হয়ে পড়বো! সুতরাং সাবধান! 


লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম

Previous Post Next Post

{ads}