টাকা বেশি নাকি শান্তি? ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেসের [আসল সত্য]
যদি বলি এবার চাকরি ছাড়াই ইনকাম হবে, তবে কি বিশ্বাস করবেন? নাকি গালগল্প ভেবে এখনই ব্যাক বাটন ক্লিক করে পেজ থেকে বেরিয়ে যাবেন?
যেতেই পারেন। তবে যেহেতু খানিকটা সময়ই কেবল ইনভেস্ট করছেন সেহেতু বিষয়খানা জেনে যান। তাছাড়া যারা ইতিমধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অনলাইন বিজনেসের মাঝে অনেকটা কনফিউজড সিচুয়েশনে পড়েছেন তারাও খানিকটা লজিক্যাল পয়েন্টে ব্যাপারে ক্লিয়ার হয়ে নিন।
একটি উদাহরণ দিয়ে আজকের এই লেখা শুরু করা যাক!
ধরুন, আপনার এক বন্ধু ফ্রিল্যান্সিংয়ে দিনে ৫ ঘণ্টা কাজ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করছে। আর আপনি অনলাইন বিজনেসে প্রোডাক্ট সেল করে প্রথম মাসেই ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তবুও কিন্তু আপনার সেই কপাল পোড়া বন্ধুর মুখেই হাসি বেশি? কারণ কি জানেন? কারণ সে বুঝে গেছে অনলাইন বিজনেসের পেইন আর অল্প সময়ে কাজ করে পকেট ভারি করার পার্থক্য। অর্থ্যাৎ টাকা বেশি তো প্যারা তো বেশি!
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেস
বলে রাখা ভালো বাংলাদেশে এখন ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন বিজনেস দুটোই বেশ জনপ্রিয় হয়র উঠেছে। কিন্তু কোনটা আপনার জন্য ভালো তা নির্ভর করবে কিছু রিসার্চের উপর। যা বুঝতে হলে আমাদের সাথে থাকতে হবে। জানার চেষ্টা করতে হবে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন বিজনেসের সুবিধা-অসুবিধা, আয়ের পরিমাণ, টাইম ম্যানেজম্যান্ট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ব্যাপারে।
ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কেন এত জনপ্রিয়?
একেবারে সোজা বাংলায় ফ্রিল্যান্সিং মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। আপনার বস নেই, অফিস নেই। কিন্তু পকেট ভর্তি ইনকাম আছে। ক্লায়েন্টের কাজ করে আয় করাই হলো ফ্রিল্যান্সিংয়ের মূল ধর্ম। যাকে আপনি সার্ভিস বেইজড আয়ের মাধ্যম ধরে নিতে পারেন।
কারা ফ্রিল্যান্সিং করেন?
যারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি টাইমে কাজ করে নিজের খরচ চালাতে বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তারাই মূলত এই সেক্টরের প্রতি আগ্রহী থাকেন। তাছাড়া অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের প্রতি যাদের ঝোঁক তারাও ফ্রিল্যান্সারদের দলের কোনো একজন যোদ্ধা হয়ে উঠেন। আবার আরেক দল ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং করেন। মানে এদের ক্যারিয়ার মানেই ফ্রিল্যান্সিং।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিশেষ সুবিধা কি?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কিংবা সুবিধা হলো ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্য উন্মুক্ত। সময়, দক্ষতা এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এই পেশায় যেকোনো বয়সের মানুষ কাজ শুরু কর দিতে পারেন।
সাফল্যের পরিসংখ্যান
রিসার্চ বলছে Upwork এবং Fiverr-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্স মার্কেটের আকার ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার (২০২৩)।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধা
- কাজের নিশ্চয়তা নেই
- ভালো স্কিল না থাকলে টিকে থাকা কঠিন
- সময় অনুযায়ী আয় সীমাবদ্ধ
অনলাইন বিজনেস কি এবং এর ভবিষ্যৎ কি?
এবার আমি অনলাইন বিজনেসের ব্যাপারে। যেকোনো প্রোডাক্ট বিক্রি বা সার্ভিস দেওয়ার বিজনেসকেই মূলত অনলাইন বিজনেস বলা হয়। যার মূল শর্ত হবে পুরোপুরি অনলাইনে পরিচালিত সেলিং প্রোগ্রাম বা মার্কেটিং প্রোগ্রাম। ই-কমার্স স্টোর বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজই হলো এই ধরণের বিজনেসের মূল সম্বল।
বাংলাদেশের অনলাইন বিজনেসের পরিসংখ্যান
রিসার্চ অনুসারে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স মার্কেটের আকার ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা আরো বেড়েছে! তাছাড়া সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো দেশে ৭৮% মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে করছে এখন।
অনলাইন ব্যবসার সুবিধা
অনলাইন বিজনেসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ছোট বিনিয়োগে বড় মুনাফার সুযোগ! তাছাড়া যেহেতু আপনার ব্যবসা সবসময় খোলা থাকবে সেহেতু সবসময়ই আর্নিংয়ের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি রয়েছে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মার্কেট ধরার সুযোগ।
অনলাইন বিজনেসের অসুবিধা
- প্রোডাক্ট কিনতে টাকা লাগবে
- ওয়েবসাইট তৈরি করতে টাকা লাগবে
- ব্যবসা বড় করতে প্রচুর সময় দিতে হবে
- সেলের জন্য ভালো জন্য মার্কেটিং জানতে হবে [চলবে]
ইতি কথা
আশা করি ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেসের প্রাইমারি কন্সেপ্ট বুঝতে পেরেছেন। লেখাটি অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে আজকের মতো এখানেই অফ রাখছি। তবে মেইন টপিক নিয়ে আলোচনা করা এখনো বাকি। পরবর্তী পর্বে থাকছে রীতিমতো যুদ্ধের আয়োজন। যা প্রমাণ করবে ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেস…কোন আর্নিং সেক্টরখানা জিতবে লজিক্যালি! সুতরাং সাথেই থাকুন।
পরবর্তী পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন৷
লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম