১৫ টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া একসাথে
অনলাইন থেকে আয় করার বিষয়টি অতটা সহজ নয়। তবে কঠিন কিছুও নয়। মোটকথা পুরো বিষয়টা নির্ভর করবে আপনার উপর৷ আপনার কতটুকু ক্যাপাবিলিটি আছে, কতদিন লেগে থাকতে পারবেন, পড়াশোনা করে মার্কেটিং বা রিসার্চে নিজেকে কতটা প্রো করতে পারবেন। তবে সঠিক আইডিয়া না থাকলে শুরুটাই অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে।
কিন্তু আইটিনোট বিডি পাশে থাকতে এই কাঠিন্য আপনাকে কোনোভাবেই গ্রাস করতে পারবে না। সো আর দেরি না করে চট করে পড়ে নিন এমনকিছু অনলাইন বিজনেস আইডিয়া যা শুরু করাটা সহজ, আর্নিংয়ের পরিমাণটা আবার অনেক বেশি! তাছাড়া ঘরে বসেই করা যাবে।
ড্রপশিপিং
অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হিসেবে ড্রপশিপিংয়ের পজিশন সবার আগে। এই ধরণের বিজনেসে আপনাকে কোনো ধরণের প্রোডাক্ট স্টক করতে হবে না। সাপ্লায়ার পণ্য দেবে আর আপনি শুধু বিক্রি করবেন। তাছাড়া হাতে যদি মাত্র ৫,০০০-১০,০০০ টাকা থাকে তবে ইজিলি এই বিজনেস শুরু করা যেতে পারে। আর অনলাইন স্টোর হিসাবে Shopify বা WooCommerce ব্যবহার করে সহজেই শুরু করা যায় এই বিজনেস। আপনাকে কেবল লাভজনক এবং ট্রেন্ডিং পণ্য বেছে নিতে হবে, Facebook বা Instagram-এ পেইড মার্কেটিং শুরু করে সেলস আনতে হবে!
ফ্রিল্যান্সিং
যারা ভাবছেন ফ্রিল্যান্সিং কোনো অনলাইন বিজনেস আইডিয়ার মধ্যে পড়ে কিনা তাদের বলে রাখি, এখানে কিন্তু আপনাকে সেলস আনতে হচ্ছে, সেল করতে হচ্ছে। যা যেকোনো বিজনেসের প্রথম শর্ত। তফাৎ হলো আপনি কেবল নিজের স্কিল সেল করছেন। যাইহোক! স্কিল সেল করে টাকা উপার্জন করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। বর্তমানে কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজাইনিং, ডাটা এন্ট্রিসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম আপনার মতোই উদ্যোমী ডিজিটাল জেনজিকে খুঁজছে। আর এই সেক্টরে কাজ পেতে Fiverr, Upwork, Freelancer এর সাহায্য নিতে পারেন। অথবা করতে পারেন পেইড, ফ্রি মার্কেটিং।
ব্লগিং
যারা লেখালেখি পছন্দ করেন, ঘরকুনো এবং ইন্ট্রোভার্ট তারা এই অনলাইন বিজনেস আইডিয়াটি বেছে নিতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটে লেখা পোস্ট করে আয় করার নামই হলো ব্লগিং। যা করতে হলে শুরুতে আপনাকে কিনতে হবে ডোমেইন এবং হোস্টিং মাত্র ৩,০০০-৫,০০০ টাকা দিয়ে৷ এরপর ট্রাভেল, ফুড, টেকনোলজি, ফ্যাশন কিংবা যেকোনো পছন্দের ক্যাটাগরিতে লেখা শুরু করবেন৷ আর ইনকাম করবেন Google AdSense, স্পনসরশিপ বিভিন্ন অ্যাড প্ল্যাটফর্মের হয়ে কাজ করে।
ইউটিউব চ্যানেল
ভিডিও মার্কেটিংও কিন্তু হতে পারে বেস্ট অনলাইন বিজনেস আইডিয়া। কারণ আজকাল অনেকেই ভিডিও তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে ঘরে বসে। অ্যাডসেন্স, স্পনসরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংসহ বিভিন্নভাবে ইনকাম করার সুযোগ আছে এই ইউটিউব থেকে। এক্ষেত্রে টপিক হিসেবে বেছে নিতে পারেন রান্নার ভিডিও, গেমিং, ভ্লগিং কিংবা রিভিউ টাইপস নিশ! মোটামুটি ভালো মানের ভিডিও বানাতে আপনার লাগবে ভালো একটি ক্যামেরা বা স্মার্টফোন, ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
Facebook, Instagram, LinkedIn এর মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করে বেড়ানোকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলা হয়। যদিও এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সেক্টরটি কিন্তু অনেক বড়। পাশাপাশি দরকার পাকাপোক্ত দখলদারিত্ব। যাইহোক যারা এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং থেকে আয় করতে চান তারা প্রতি ক্লায়েন্টের কাজের ধরন এবং অন্যান্য দিক মাথায় রেখে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা চার্জ করতে পারেন।
অনলাইন কোর্স তৈরি করা
অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হিসেবে আপনি চাইলে অনলাইনে কোর্স তৈরি করে তা সেল করতে পারেন। তবে এই সেক্টরে এসে নিজেকে কোনো ভাবে তাবিজ সেলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। বর্তমানে অনেকেই কোনো একটি স্কিল শিখে, নিজে ভালোমতো প্র্যাকটিস না করে বিভিন্ন কোর্স তৈরি করে তা অনলাইনে সেল করছেন। যার কারনে পুরো সেক্টরটি স্ক্যামিংয়ে ভরে গেছে। সুতরাং আপনি যদি নিজেকে স্কিলড মনে করেন এবং নিজেকে যোগ্য মনে করেন সে ক্ষেত্রে সময় নিয়ে কোর্স লেশন তৈরি করা শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে তা সরাসরি Udemy, Skillshare এর মত প্লাটফর্মে সেল করবেন। মনে রাখবেন কোর্স ভালো হলে প্রতি কোর্স ১,০০০-১০,০০০ টাকার বেশিও সেল করতে পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
কোনো কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে কমিশন আয় করার সিস্টেম কে এত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। বর্তমানে Amazon, Daraz, ClickBank এর মতো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি সকলের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাটি উন্মুক্ত রেখেছে। চাইলে আপনিও এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন। ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে নিয়মিত বিভিন্ন রিভিউ টাইপ কন্টেন্ট কিংবা টিপস শেয়ার করে ইজিলি এই সেক্টরে সেলস আনা যায়। তাছাড়া আপনাকে যখন প্রোডাক্ট স্টক করতে হচ্ছে না, তখন বাড়তি প্রোডাক্ট স্টকে এনে তা সেল না হওয়ারও ভয় নেই। পাশাপাশি আমার মতে যারা মার্কেটিং শিখতে চান তাদের জন্য এই অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং বেস্ট একটি অপশন।
পডকাস্টিং
বলে রাখা ভালো বাংলাদেশে কিন্তু এখনো পডকাস্টিং বিজনেস খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। সবাই পডকাস্ট ভিডিও দেখছে তা থেকে শিখছে কিন্তু এর ওপর অনলাইন বিজনেস শুরু করার প্রবণতা এখনো খুব একটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সো এখনই পারফেক্ট সময় গল্প, মোটিভেশনাল টপিক, টেক টিপস বা পছন্দের কোন একটি টপিকের উপর পডকাস্টিং অনলাইন বিজনেস শুরু করে দেওয়ার! স্পনসরশিপ এবং সাবস্ক্রিপশন ফিসহ ইউটিউব এবং ফেইসবুক অ্যাড থেকে এই সেক্টরে ইনকাম করা যায়। আর ইনভেস্ট হিসেবে প্রয়োজন পড়তে পারে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা দামের একটি ভালো মাইক্রোফোন।
ই-বুক লেখা ও বিক্রি করা
আপনি কি বই লিখতে ভালোবাসেন? কিংবা আপনার কি ইংরেজিতে বই লেখার মত অ্যাবিলিটি আছে? যদি থাকে তবে আপনি এই অনলাইন বিজনেস আইডিয়াটি ট্রাই করতে পারেন! ই-বুক লিখে তা Kindle বা নিজের ওয়েবসাইটে সেল করার বিজনেসকেই ই-বুক অনলাইন বিজনেস বলা হয়ে থাকে। ফিকশন, মোটিভেশন, টেকনিক্যাল গাইডসহ পছন্দের যেকোনো টপিকে আনলিমিটেড বই লিখে ইনকাম করতে পারেন আনলিমিটেড ডলার কিংবা টাকা! লেখা ভালো হলে প্রতিটি বই বা কপি অনলাইনে আপনি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় সেল করতে পারবেন!
অনলাইন হ্যান্ডমেড পণ্য বিক্রি
যারা পেইন্টিং পছন্দ করেন কিংবা কাস্টম জুয়েলারি বানাতে পারেন তাদের জন্য এই অনলাইন হ্যান্ডমেড প্রোডাক্ট সেলিং আইডিয়াটি একদম পারফেক্ট। এই ধরনের অনলাইন বিজনেসে আপনাকে নিজের প্রোডাক্ট নিজে তৈরি করে তা Etsy, Facebook Marketplace এ সেল করতে হবে। আর প্রাইজ সিলেক্ট করতে হবে পণ্যের উপর ডিপেন্ড করে।
ই-কমার্স স্টোর
বর্তমানে এই ই-কমার্স স্টোর অনলাইন বিজনেস আইডিয়াটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ধরনের অনলাইন বিজনেসে আপনাকে প্রথমে নিজের প্রোডাক্টের উপর ভিত্তি করে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হবে। সেই ওয়েবসাইটে সকল প্রোডাক্ট লিস্টিং করে পারফেক্টলি মার্কেটিং করতে হবে। আর এই ধরনের অনলাইন বিজনেসে আপনাকে ৩টি সেক্টরে ইনভেস্ট করতে হবে। এগুলি হলো ডোমেইন কিংবা হোস্টিং কেনা এবং প্রোডাক্ট স্টকে তোলা।
স্টক ফটোগ্রাফি
যারা ছবি তুলতে ভালবাসেন তারা এই স্টক ফটোগ্রাফি সেলিংকে বেস্ট অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হিসেবে নিতে পারেন। এই ধরনের অনলাইন বিজনেস এর মেইন কাজই হলো স্টক ফটো ও ভিডিও বিক্রি করে আয় করা। আর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই সেক্টরে ব্যবহার করতে হয় Shutterstock, Adobe Stock কিংবা এই ধরনের স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইট। আপনার ফটোগ্রাফি স্কিল যদি ভালো হয় তবে প্রতি ডাউনলোডে ইজিলি আপনি ১-১০ ডলার আর্ন করতে পারবেন।
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করা মানেই আপনি কোনো এক বিজনেস ওনার কিংবা বিজি থাকা ব্যাক্তির টুকটাক কাজ করে দিচ্ছেন। আর এর বিনিময়ে প্রজেক্ট বেইজড কিংবা মান্থলি বা উইকলি বেইজড চার্জ করছেন। সোজা বাংলায় বিজনেস পরিচালনার বিভিন্ন কাজ করে আয় করা ব্যাক্তিদের বলা হয় ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই অনলাইন বিজনেস আইডিয়াটি বেশ পুরোনো হলেও দিনকে দিন কিন্তু এর চাহিদা বাড়ছে। যার প্রমাণ Upwork, Fiverr এ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের চাহিদা দেখলেই বোঝা যায়। এ-কাজে স্কিল হিসেবে আপনার থাকতে হবে ইমেইল ম্যানেজমেন্ট, ডাটা এন্ট্রির উপর ভালো দখলদারিত্ব। তবেই প্রতি ঘণ্টায় ৫-১৫ ডলার আয় করতে পারবেন আপনিও!
গেম স্ট্রিমিং
শুরুতে বলে রাখি এই অনলাইন বিজনেস আইডিয়াটি কিন্তু বেশ নতুন। অনেকেই জানেও না যে এমন একটি সিস্টেম মার্কেটে এক্সিস্ট করে৷ এই ক্যাটাগরির রিমোট জবে বা অনলাইন বিজনেসে আপনাকে গেম খেলে স্ট্রিমিং করে আয় করতে হবে। আর প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করতে হবে YouTube, Twitch এর মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলি। স্পনসরশিপ, সাবস্ক্রিপশনসহ বিভিন্ন সিস্টেমে এই ক্যাটাগরির বিজনেস থেকে মাসে আপনি ৩০০/৪০০ ডলার ইজিলি ইনকাম করতে পারবেন৷
ডোমেইন এবং ওয়েবসাইট বিক্রি
ডোমেইন এবং ওয়েবসাইট বিক্রিও কিন্তু দারুণ অনলাইন বিজনেস আইডিয়া। যেখানে আপনাকে প্রিমিয়াম ডোমেইন এবং ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় করতে হবে। আর এসব বিক্রি করতে আপনি Flippa প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন৷ ডোমেইনের নামের উপর ভিত্তি করে এই সেক্টরে ইনকাম রেঞ্জ নির্ভর করে।
ইতি কথা
আর এই ছিলো ১৫ টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া! তাও সব একসাথে! যদিও এক আর্টিকেলে প্রত্যেকটির ডিটেইলস আলোচনা করা অসম্ভব। তবুও মোটামুটি আইডিয়া দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যা আপনার ক্যাটাগরি চুজের প্রাইমারি রিসার্চে এতোটুকু হলেও কাজে দেবে। পরবর্তীতে ক্যাটাগরি চুজ করার পর সেই ক্যাটাগরির উপর ফুল ডিটেইলড রিসার্চ করে নেবেন৷ বেস্ট অফ লাক! হ্যাপি আর্নিং! 💪
লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম