ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেসের ভবিষ্যৎ
যারা এখনো আগের পর্বটি পড়েননি তারা এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন!
এবার আসি ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের ব্যাপারে। মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং ভবিষ্যতে জনপ্রিয় থাকবে। তবে টিকে থাকতে স্কিল আপডেট করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে নিয়মিত স্কিল ডেভলপ করতে হবে।
অন্যদিকে অনলাইন বিজনেসের ভবিষ্যত অনেক শাইনি। লক্ষ্য করলে দেখবেন E-commerce, Dropshipping, এবং Digital Product এর চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে। সবাই অনলাইন শপিংয়েই অনেক বেশি ফোকাস করছে।
ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেস: আপনার জন্য কোনটা ভালো?
চলে এলাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার টিপসে! আপনার পছন্দ ও লক্ষ্য অনুযায়ী চলুন কিছু ছোটখাটো প্রশ্ন এবং উত্তরের সাহায্যে বুঝতে চেষ্টা করি ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেসের মাঝে ঠিক কোনটি আপনার জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত!
আপনি কি দ্রুত আয় চান?
উত্তর: তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করুন! ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি খুব দ্রুত আয় শুরু করতে পারেন। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ পেলেই কিন্তু আপনি প্রথম ইনকাম পেতে পারেন।
আপনার কি বিজনেস মাইন্ডসেট আছে?
উত্তর: তাহলে অনলাইন বিজনেস শুরু করুন। যদি আপনার দীর্ঘমেয়াদী ভালো কোনো বিজনেস প্ল্যান বা বিজনেস আইডিয়া থাকে এবং আপনি ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক হন, তবে অনলাইন বিজনেসই আপনার জন্য ভালো। তবে এখানে শুরুতে বিনিয়োগ এবং প্রচুর সময় দিতে হবে। কিন্তু আপনি একবার সফল হতে পারলেই দেখবেন এই সেক্টর ঠিক কতটা লাভজনক এবং স্কেলেবল!
আপনি কি ভালো স্কেলিং চান?
উত্তর: তাহলে অনলাইন বিজনেসই হতে পারে পার্ফেক্ট অপশন। অনলাইন বিজনেসের বড় সুবিধা হলো এটি খুব সহজে স্কেল করা যায়। আপনি চাইলে নিজের বিজনেস বড় করতে পারবেন, নিজের ইনকাম বাড়াতে পারবেন। যা ফ্রিল্যান্সিং মোটামুটি অসম্ভব। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে ঠিক যতক্ষণ খাটবেন ততক্ষণই ইনকাম আসবে৷ অন্যদিকে একবার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারলেই দেখবেন অনলাইন বিজনেসের আর্নিং বেড়ে গেছে৷
মনে রাখবেন এই সেক্টরে শুরুতেই আপনার পছন্দ ও লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি ইতিমধ্যেই আলোচনা করা এসব প্রশ্ন ও উত্তর এ-ব্যাপারে আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেস সিদ্ধান্ত গ্রহণে টিপস
- ফ্রিল্যান্সিং: যদি আপনি একা কাজ করতে পছন্দ করেন এবং একটি নির্দিষ্ট স্কিলের মাধ্যমে দ্রুত আয় করতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিংই আপনার জন্য পার্ফেক্ট।
- অনলাইন বিজনেস: আর যদি আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে চান এবং কোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত করে বড় আয় করতে চান তাহলে অনলাইন বিজনেস বেছে নিতে পারেন।
মোটামুটি একটি স্বাধীন জীবন এবং ফ্লেক্সিবল সময় পেতে দরকার ফ্রিল্যান্সিং আর ভবিষ্যতে বড় বিজনেস, প্যাসিভ ইনকামে দরকার অনলাইন বিজনেস।
শেষ কথা
আপনার যদি একটি স্বাধীন জীবন এবং ফ্লেক্সিবল সময় পছন্দ হয়, তবে ফ্রিল্যান্সিং। আর যদি আপনি ভবিষ্যতে বড় ব্যবসা এবং প্যাসিভ ইনকাম চান, তবে বেছে নিতে পারেন অনলাইন বিজনেস।
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন বিজনেস কি একসঙ্গে করা যাবে?
হুম যাবে! একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন অনেকেই প্রথমে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে এবং পরবর্তীতে অনলাইন বিজনেসে ফোকাস করতে শুরু করে। আবার এই দুটি কাজ একসঙ্গেও করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান, আবার ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানেও যেতে চান তারা অনলাইন বিজনেসে ফোকাস এবং ফ্রিল্যান্সিং দু'টো সেক্টরে একসাথে কাজ করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন বিজনেস একসঙ্গে করার সুবিধা
বাড়তি ইনকাম: ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আপনি দ্রুত আয় শুরু করতে পারবেন। আবার সেই ইনকাম দিয়ে আপনি আপনার অনলাইন বিজনেসের জন্য প্রয়োজনীয় ইনভেস্টমেন্ট সেরে নিতে পারবেন।
দ্বিতীয় ইনকাম সোর্স: ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন বিজনেস কিন্তু দু'টো সেক্টরই কিন্তু একে অপরকে সাপোর্ট করতে পারে। যখন আপনার অনলাইন বিজনেস চলতে শুরু করবে, তখন দেখবেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের ইনকামও অনেকটা সেভিংসের মতো হয়ে গেছে।
সুন্দর স্কেলিং: ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নেটওয়ার্ক কিন্তু আপনি অনলাইন বিজনেসে কাজে লাগাতে পারবেন। আপনি যদি ডিজাইন, কনটেন্ট বা মার্কেটিং শিখেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য তাহলে দেখবেন সেই স্কিলও আপনার ই-কমার্স ব্র্যান্ডের কাজে লাগছে।
উদাহরণ হিসাবে ধরুন
একজন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার প্রথমে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য ডিজাইন কাজ করেন। এক সময়, তার ডিজাইন রিলেটেড কাজের অভিজ্ঞতা এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তিনি নিজস্ব ই-কমার্স ব্র্যান্ডও শুরু করে দিলেন। যেখানে নিজের ডিজাইন করা প্রোডাক্ট তিনি সেল করেন।
অনলাইন বিজনেসের জন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা
এবার আসি অনলাইন বিজনেসের জন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধার ব্যাপারে! ডিজাইনার, মার্কেটিং এক্সপার্ট, কন্টেন্ট রাইটার বা অন্য যেকোনো ফ্রিল্যান্স পেশার মানুষ কিন্তু নরমাল কোনো একজনের চাইতেও অনেক ভালো অনলাইন বিজনেস করতে পারবেন। কারণ অনলাইন বিজনেসে ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব সার্ভিস কিনে তবেই বিজনেস রান করতেে হচ্ছে।
অন্যদিকে যদি আপনার এই স্কিল থাকে সেক্ষেত্রে দেখবেন খরচের পরিমাণও কমে এসেছে! আবার নিজের বিজনেসের কাজ নিজে করাই গুরুত্বটুকু কিংবা দায়িত্ববোধটুকুও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাছাড়া ডিজাইনার, মার্কেটিং এক্সপার্ট, কন্টেন্ট রাইটার বা অন্য যেকোনো ফ্রিল্যান্স পেশার মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে যে অর্থটুকু পান সেটি অনলাইন বিজনেসে ইনভেস্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইনভেস্টমেন্ট নিয়েও তাদের খুব একটা ভাবতে হয় না।
ইতি কথা
আশা করি ফ্রিল্যান্সিং VS অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে রাফ একটি আইডিয়া দিতে পেরেছি৷ তবে শুরু করার আগে আপনাকে আরো জানতে হবে, আরো বুঝতে হবে, আরো শিখতে হবে। তাছাড়া যারা ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন বিজনেস একসঙ্গে শুরু করতে চান তাদের ভালো টাইম ম্যানেজম্যান্ট সেন্সও থাকতে হবে। সুতরাং আর দেরি না করে ধীরে ধীরে নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরিতে ফোকাস দিন। হ্যাপি আর্নিং!
লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম