ads

যেসব টিপসে বুঝবেন কাছের মানুষটি একজন সাইকোপ্যাথ 

what-does-psychopath-mean-ways-to-identify-a-psychopath-and-psychopath-treatment.jpg
সাইকোপ্যাথ (Psychopath) শব্দটি অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ বুঝতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। আবার অনেকেই ভাবেন সাইকোপ্যাথ কি মানসিক রোগের মধ্যে পড়ে? 

যারা বুঝতে পারছেন না, সাইকোপ্যাথকে চিনবেন কিভাবে, সাইকোপ্যাথ মানে কি, সাইকোপ্যাথ চেনার উপায় কিংবা সাইকোপ্যাথের চিকিৎসা কি তাদের জন্যই আমার আজকের এই রিসার্চ বেইজড আর্টিকেল। সুতরাং বিস্তারিত জানতে সাথেই থাকুন৷ 

সাইকোপ্যাথ মানে কি?

সাইকোপ্যাথ মানে হলো এমন কোনো ব্যাক্তি যে কিনা সাধারণ মানুষের মতো অনুভূতি বা মমত্ববোধ অনুভব করতে পারে না। সোজা বাংলায় কোনো মানুষের মধ্যে সহানুভূতি, অনুশোচনা বা অন্যদের প্রতি ভালোবাসা বা সমবেদনা না থাকলেই তাকে সাইকোপ্যাথ ভাবতে হবে। 

বিষয়টি যদি আরেকটু খুলে বলি তাহলে বলবো সাইকোপ্যাথদের আচরণ সাধারণত মাদকাসক্তদের মতো। শত্রুতা বা অপরাধমূলক কার্যকলাপ এদের সবচেয়ে পছন্দের এক্টিভিটি। এই ধরণের মানুষের মানসিক অবস্থা সাধারণত বেশ জটিল হয়! আর এরা সহজেই অন্যদের সাথে প্রতারণা বা তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করতে পারে।

সাইকোপ্যাথ কি মানসিক রোগ?

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সাইকোপ্যাথ কি মানসিক রোগের মধ্যে পড়ে? 

হ্যাঁ! এটি একটি মানসিক সমস্যা! যা সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়‘এন্টিসোশিয়াল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’ (Antisocial Personality Disorder) নামে পরিচিত। 

সাইকোপ্যাথরা সাধারণত অন্যদের ক্ষতি করতে, তাদের প্রতারণা করতে বা প্রভাবিত করতে ভালোবাসে। তবে রিসার্চ বলছে সাইকোপ্যাথ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বংশগত বা পরিবেশগত কারণও থাকতে পারে।

সাইকোপ্যাথ চেনার উপায়

এখন আপনি ভাবছেন, সাইকোপ্যাথকে চিনবেন কিভাবে? 

খুব সহজ! সাইকোপ্যাথদের কিছু সাধারণ লক্ষণ বা আচরণ রয়েছে। যা অন্যদের থেকে তাদের আলাদা করে তোলে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র এসব লক্ষণের ভিত্তিতেই আপনি কাউকে সাইকোপ্যাথ বলতে পারবেন না। এক্ষেত্রে মেডিক্যাল এক্সপার্টদের সাহায্য নেওয়া জরুরি। তবুও চলুন কিছু কমন টিপস শেয়ার করি, যার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন অপরপাশের ব্যাক্তিটি সাইকোপ্যাথ কিনা: 

সহানুভূতি বা মমত্ববোধের অভাব

সাইকোপ্যাথরা সাধারণত অন্যদের দুঃখ বা কষ্টের প্রতি কোনো সহানুভূতি অনুভব করেন না। তারা মানুষের অনুভূতিতে মূল্যায়ন না দিয়ে, কেবল নিজের স্বার্থের জন্যই কাজ করে।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী

সাইকোপ্যাথদের মধ্যে সাধারণত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করে। এরা নিজেদের সম্পর্কে বড় ধরনের ধারণা পোষণ তো করেই! তার পাশাপাশি মনে করে যে তারা দুনিয়ার সবকিছুই করতে সক্ষম।

মনস্তাত্ত্বিক প্রতারণা ও মিথ্যাচার

সাইকোপ্যাথরা কিন্তু সহজেই মিথ্যা বলে। শুধু তাই নয়! এরা কিন্তু সহজেই অন্যদের সাথে প্রতারণা করতে পারে। এদের কাছে মিথ্যাচারের কোনো মূল্য নেই, যদি না তা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।

অপরাধপ্রবণতা

সাইকোপ্যাথদের মধ্যে অপরাধমূলক আচরণের প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। এরা সাধারণত আইন বা সামাজিক নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা করে না। আর এ-কাজকে তারা যথেষ্ট স্বাভাবিকভাবেই নেয়। 

আবেগের অভাব

সাইকোপ্যাথরা কখনোই সাধারণ মানুষের মতো আবেগ অনুভব করতে পারে না। কাউকে ভালোবাসা বা ঘৃণা অনুভব করার মতো মেন্টালিটি তাদের মাঝে কাজ করে না। পরিস্থিতির প্রতি তাদের আচরণ থাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক, চঞ্চল ও সরল।

স্বার্থপরতা

সাইকোপ্যাথরা সাধারণত খুবই স্বার্থপর টাইপের হয়। তারা শুধু নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং অন্যদের প্রয়োজন বা অনুভূতি সম্পর্কে কোনো চিন্তাই করে না। 

ধারালো বুদ্ধিমত্তা

অবাক করা বিষয় হলো সাইকোপ্যাথরা সাধারণত অত্যন্ত বুদ্ধিমানের হয়। এই ধরণের ব্যাক্তি মস্তিষ্কের জোরে যেকোনো জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। 

সাইকোপ্যাথের চিকিৎসা

সাইকোপ্যাথের কিছু সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে তো জানলেন! এবার চলুন তবে সাইকোপ্যাথের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলি।

সাইকোপ্যাথির চিকিৎসা মূলত সাইকোলজিক্যাল থেরাপি বা মানসিক চিকিৎসার মাধ্যমে করা হয়। তবে, একে পুরোপুরি নিরাময় করা কঠিন।

কারণ সাইকোপ্যাথরা সাধারণত তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আনতে আগ্রহী থাকে না। তবে কিছু সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যা ফলো করতে পাররে সাইকোপ্যাথরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে! 

কগনিটিভ-বিহেভিয়রাল থেরাপি

এই থেরাপিকে ইংরেজিতে Cognitive Behavioral Therapy বলে। যার মাধ্যমে সাইকোপ্যাথদের চিন্তা-ভাবনা ও আচরণে পরিবর্তন আনা যায়। এই থেরাপির মাধ্যমে তাদের শেখানো হয় কিভাবে নিজের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হয়।

মেডিকেশন

যদিও সাইকোপ্যাথের জন্য কোনো বিশেষ চিকিৎসা নেই! তবে এই ধরণের ব্যাক্তিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু স্পেশাল ঔষুধ ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন: 

  • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস
  • অ্যান্টি-অ্যাংজাইটিরি 

পারিবারিক বা গ্রুপ থেরাপি

সাইকোপ্যাথদের অনেক সময় পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে থেরাপি করতে হতে পারে। আর এই ধরণের থেরাপির সবচেয়ে বড় ফোকাস থাকে যাতে সাইকোপ্যাথ নিজের আচরণকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং তার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে।

অস্তিত্বমূলক থেরাপি 

ইংরেজিতে এই থেরাপিকে বলে Existential Therapy। বলে রাখা ভালো এটি এমন একটি থেরাপি যা জীবনকে সত্যিকারের অর্থ খুঁজে দেবার চেষ্টা করে। যেসব সাইকোপ্যাথ সাধারণত জীবনকে অর্থহীন বা লক্ষ্যবিহীন মনে করে তাদের জন্যে এই থেরাপি ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। 

ইতি কথা

মনে রাখবেন সাইকোপ্যাথ মানেই ব্যাক্তি খারাপ…তা কিন্তু নয়। এটি একটি মানসিক অবস্থা। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাইকোপ্যাথ মানে কি বুঝুন! সাইকোপ্যাথ চেনার উপায় এবং সাইকোপ্যাথের চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন। নিজের এ-সমস্যা থাকরে থেরাপি নিন। 

লেখায় সুলতানা আফিয়া তাসনিম 
Previous Post Next Post

{ads}