বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনী: জ্ঞান ও সৃজনশীলতার এক পরিপূর্ণ বাতিঘর
আপনি কি বইপ্রেমী?
নতুন বইয়ের গন্ধে কি আপনার মন হারিয়ে যায়?
তবে বলবো আপনি হয়তো কোনো এক ভোরে, এক কাপ চা হাতে জানতে চেয়েছেন যে প্রকাশনী থেকে বই কিনছেন সে প্রকাশনী আসলে কেমন!
বাংলাদেশের বই প্রকাশনা শিল্পের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান যুগের পর যুগ ধরে পাঠকদের কাছে মানসম্মত বই সরবরাহ করে আসছে। গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, গবেষণা, অনুবাদ থেকে শুরু করে শিশুতোষ বইসহ সব ক্ষেত্রেই এসব কোম্পানি কাজ করে যাচ্ছে যুগের পর যুগ।
এরই প্রেক্ষীতে আজ আমরা জানব, এমন কিছু বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনী সম্পর্কে, যেসব কোম্পানি শুধু বই-ই প্রকাশ করে না! বরং জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। আসুন শুরু করা যাক!
আগামী প্রকাশনী: Agamee Prakashani
মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল বইয়ের পথিকৃৎ হলো এই আগামী প্রকাশনী। যার ম্যাক্সিমামই কাজই ছিলো মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, সমাজতন্ত্র বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বইয়ের উপর৷ বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনী লিষ্টের শুরুতেই থাকা এই প্রকাশনী ১৯৮৬ সালে তার যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত যার প্রকাশ করা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ২০০০+ টিরও বেশি।
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নামের এই ২ টি বই এখনো পর্যন্ত বেস্ট সেলিং বই হিসাবে বিবেচিত হয়েছে! মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর গভীর গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করে তাক লাগানো এই প্রকাশনী একটা সময় গিয়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত বই বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচাও প্রকাশ করেছে।
দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (UPL)
খানিকটা ফ্যান্সি নাম-সমেত এই বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনীটি মূলত গবেষণা ও একাডেমিক বইয়ের সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসাবে সারাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ১৯৭৫ সালে প্রকাশনীটি যাত্রা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা বইয়ের সংখ্যা ১৫০০+। আর এর মাঝে জনপ্রিয় ২ টি বইয়ের নাম হলো রোড টু বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি! যারা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা বই খুঁজছেন তারা এই দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের বইগুলি ট্রাই করতে পারেন।
সেবা প্রকাশনী (Sheba Prokashoni)
বই ভালোবাসেন কিন্তু কখনো সেবা প্রকাশনীর নাম শুনেননি তা হতেই পারে না! কিশোর থেকে বৃদ্ধ যেকোনো বয়সী পাঠকের জন্যই বই প্রকাশ করেছে এবং করছে এই কোম্পানিটি। বিশেষ করে এই বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনীটির মাসুদ রানা পড়েননি এমন মানুষ খুব একটা খুঁজে পাওয়ায় দুষ্কর।
প্রকাশনীটি মূলত যাত্রা শুরু করে ১৯৬৩ সালে। আর এ-পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫০০০+। আর জনপ্রিয় বইয়ের কাতারে থাকছে মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা এবং অনুবাদ সাহিত্য! জনপ্রিয় গোয়েন্দা, অ্যাডভেঞ্চার ও অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি যাদের ঝোঁক আছে তারা মাস্ট এই প্রকাশনীর বই পড়বেন!
অবসর প্রকাশনা সংস্থা
বিশ্বসাহিত্যের সেরা অনুবাদ ও সৃজনশীলতার নাম্বার ওয়ান ঠিকানা এই বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনীটি! অবসর প্রকাশনা সংস্থা মূলত যাত্রা শুরু করে বহু বছর আগে, ১৯৭০-এর দশকে! যারা রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, দস্তয়েভস্কি বা অর্নেস্ট হেমিংওয়ের বই পছন্দ করেন তাদের জন্যেই এই প্রকাশনীর উপহার! বিভিন্ন ক্লাসিক সাহিত্য অনুবাদ করে এখনো বাংলার সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে এই অবসর প্রকাশনা সংস্থা।
ময়ূরপঙ্খী (Mayurpankhi)
শিশুদের বইয়ের রঙিন জগৎ এই ময়ূরপঙ্খী! আপনার শিশু যদি বই পড়তে পছন্দ করে তবে এই প্রকাশনীর জনপ্রিয় বই, বিশেষ করে শিশুতোষ গল্প ও শিক্ষামূলক বই তার হাতে তুলে দিন। বলে রাখা ভালো ২০১৪ সারে যাত্রা শুরু করা এই বই এতো অল্প সময়ে প্রায় ৫০০+ বই প্রকাশ করেছে। যার মাঝে ৯৯% বই-ই শিশুতোষ গল্প ও শিক্ষামূলক বই!
বাতিঘর
সবশেষে বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনী হিসাবে বলবো বাতিঘরের কথা। অনেকেই জানেন এই নামে দেশে থাকা লাইব্রেরিগুলির ঘ্রাণ মারাত্মক সাহিত্যময়! কিন্তু আপনি কি জানেন এই নামে বই প্রকাশনী কোম্পানিও আছে? একজন নতুন লেখক হিসাবে আপনার জন্যে এই প্রকাশনী হতে পারে আশীর্বাদ! আপনার বই যদি বড় বড় প্রকাশনীতে সুযোগ না পায় সেক্ষেত্রে এই প্রকাশনীটি ট্রাই করতে পারেন।
নতুন ও উদীয়মান লেখকদের সুযোগ তৈরিতে ভালোই ওস্তাদ এই বাতিঘর! আশা করি আপনারও সে সুযোগ হবে! বলে রাখা ভালো এই প্রকাশনী যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালে। তবে এই অল্প সময়ে প্রকাশনীটি প্রায় ১০০০ এরও বেশি বই প্রকাশ করেছে।
ইতি কথা
বাংলাদেশের সেরা বই প্রকাশনী সম্পর্কে তো জানলেন! এবার জানানোর পালা! জানিয়ে দিন কোন প্রকাশনী আপনার পছন্দ?
আপনি কি নতুন লেখকদের বই পড়তে ভালোবাসেন?
নাকি দিনশেষে আপনি গবেষণাধর্মী বই খোঁজে ফেরেন?
তবে হ্যাঁ! মুক্তিযুদ্ধ, গবেষণা, রহস্য, ক্লাসিক সাহিত্য কিংবা শিশুতোষ বই… সব মহারাজদের আগমনই ঘটে দেশের সব সেরা প্রকাশনীর হাত ধরে। তাই এসব প্রকাশনীর ব্যপারেও খোঁজ-খবর রাখাটা আমাদের গুরুদায়িত্ব! যা পালনে অনীহা কাজ করলে ভারী অন্যায় হবে!
লেখায় সুলতানা আফিয়া তাসনিম