ads

বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা: স্কুল সম্পর্কে কিছু কথা

biddaloy-somporke-opostit-boktrita.jpg

তোমরা যারা বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নিতে চাচ্ছো কিন্তু বুঝতে পারছো না এই বক্তৃতা কিভাবে সাজাবে ঠিক তাদের জন্যই আমার আজকের কিছু বেস্ট বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা এক্সাম্পল! আশা করি এসবের যেকোনো একটি তোমার মন কেড়ে নেবে। 

বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা [নরমাল]

প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী এবং অতিথিবৃন্দ,

আজ আমি আপনাদের সামনে আমার প্রিয় বিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের জীবনে বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসাবে কাজ করে। আমাদের চিন্তা-ভাবনা, মননশীলতা এবং নৈতিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠান। যেখানে আমরা শুধু বইয়ের পাঠই শিখি না! বরং জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ এবং দক্ষতাও অর্জন করি।

মূলত যেকোনো একটি বিদ্যালয়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। যার মাঝে রয়েছে পাঠদান, সহপাঠ কার্যক্রম, বিভিন্ন উৎসব, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান! যার সবকিছুই আমাদের উন্নতির পথে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। তাছাড়া বিদ্যালয় আমাদের মাঝে শৃঙ্খলা, দায়িত্ব, সম্মান, এবং সহানুভূতির মতো গুণাবলী অর্জনে সহযোগিতা করে। যা পরবর্তী জীবনে আমাদের সফলতার চাবিকাঠি হিসাবে কাজ করে। 

এছাড়া, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আমাদের মেন্টর বা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। যাদের কাছ থেকে আমরা পড়াশোনা ছাড়াও জীবনের নানা দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকি৷ এই বিনিময়খানা ঠিক এমন, আমরা তাদের কাছে শিখি। আর এর পরিবর্তে তারা আমাদের জীবনে সঠিক পথের সন্ধান দেন। 

এবার আসি আমাদের বিদ্যালয় প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাপারে। আমরা একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সাথে কাজ করার গুরুত্ব শিখতে সাহায্য করি। একই সাথে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কও গড়ে। যা আমাদের ভবিষ্যত জীবনে সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হিসাবে নির্মল থাকে।

শেষে, আমি বলতে চাই, আমাদের বিদ্যালয় আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এক শক্তিশালী পিলার৷ যা কেবল আমাদের পাঠ্যসূচীই সম্পন্ন করতে সাহায্য করে না! বরং এর পাশাপাশি আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও প্রদান করে থাকে। 

ধন্যবাদ! 

বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা [ফানি]

প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী এবং অতিথিবৃন্দ,

আজ আমি আপনাদের সামনে আমাদের প্রিয় বিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই! যেখানে আমরা নতুন কিছু শেখার পাশাপাশি জীবনের আসল মজাও খুঁজে পাই।

বলে রাখা ভালো আমাদের স্কুলে প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৭০০ প্রশ্ন করা হয়! এবং আশ্চর্যের বিষয় এই যে আমাদের সবার উত্তর হঠাৎ করেই ভুল হয়ে যায়! যতই শিখে রাখি, ভুলে যেতেই হয়। কিন্তু দিনশেষে কিভাবে কিভাবে যেনো শিক্ষকরা সেই প্রশ্নের উত্তর আমাদের থেকে খুঁজে বের করে নেন। 

আরো অবাক করা বিষয় হলো আমাদের বিদ্যালয়ে ছুটির ঘণ্টা শুরু হয়, কিন্তু থামে না। কি? অবাক হচ্ছেন? বিশেষ করে ‘গল্পের সময়’ এবং ‘খেলাধুলার সময়’ এমনটা হয়ে থাকে। আমরা যখন খেলাধুলা করি, তখন মনে হয় যেন পুরো পৃথিবীটা আমাদের জন্য। আর যখন গল্প বলার পালা, তখন তা শেষ হয়না! যেন মনে হয় আজকের এই সময়টাই থেমে গেছে!

শুধু কি মজা? বিদ্যালয়ে আমরা গড়ে প্রতিদিন ৪-৫টি নতুন বন্ধু তৈরি করি। আমি নিশ্চিত, যদি বন্ধুদের গুণমানের একটি রেটিং সিস্টেম থাকতো, আমাদের স্কুলের ছাত্রদের রেটিং হতো মাত্র ১%! সরি! মজা করলাম! একথা সত্য যে, বিদ্যালয়ে আমরা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আটকে থাকি না! বরং বন্ধুদের সাথে আনন্দে ভরপুর কিছু মুহূর্ত কাটাই! 

এত কিছু বলার পরও আমি আবার বলতে চাই, আমাদের বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়! এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হিসাবে কাজ করে। যেখানে আমরা শিখি, মজা করি এবং সেই সাথে বেড়ে উঠি।

ধন্যবাদ সবাইকে! 

বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা [প্রফেশনাল]

প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী এবং অতিথিবৃন্দ,

আজ আমি আপনার সামনে আমাদের বিদ্যালয়ের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে হাজির হয়েছি। 

একজন শিক্ষার্থীর জীবনে বিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবেই কাজ করে না। বরং এটি আমাদের ভবিষ্যত গঠনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসাবে কাজ করে৷ যেখানে জীবনের নানা দিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং মূল্যবোধ শেখা যায়! 

অতিথিবৃন্দ, জেনে খুশি হবেন যে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যথাযথ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়! যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারে।

আপনি জানেন কি, বাংলাদেশে প্রায় ১৮,০০০ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা প্রদান করা হয়? এই বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয়গুলো, প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে একটি করে নতুন আশা এবং সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। সাহায্য করে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে উঠবার মিশনে! যেখানে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আমাদের পাঠ্যক্রমের বাইরে গিয়ে, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ব এবং সহানুভূতির মতো গুণাবলী শেখান। তাছাড়া তারা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হন।

শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, বিদ্যালয় আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৩০ মিনিটের জন্য যদি আমরা খেলাধুলা করতে পারি, তাহলে তা আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি, খেলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও টিমওয়ার্কও শিখতে পারি আমরা। তাছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যা আমাদের দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করে।

মোটকথা! আমাদের বিদ্যালয় একটি পরিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী একে অপরের সাহায্যে বেড়ে উঠছে। আশা করছি বিদ্যালয়ের এসব কার্যক্রম এবং দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতে আমাদের জীবনে অসীম সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। 

বিদ্যালয় সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতা [মোটিভেশনাল]

প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী এবং অতিথিবৃন্দ,

আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমাদের প্রিয় বিদ্যালয় সম্পর্কে এমনকিছু কথা বলতে যা আমাদের জীবনে চলার পথে এনার্জি বুস্টার হিসাবে কাজ করবে। আমাদের স্বপ্ন দেখানোর, আমাদের লক্ষ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার এবং সফলতার দিকে পথনির্দেশ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হলো আমাদের এই বিদ্যালয়। যেখানে আমরা শিক্ষা লাভ করার পাশাপাশি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠও শিখি। 

আমাদের বিদ্যালয় আমাদের পরবর্তী জীবনের জন্য যে শক্তিশালী ভীত তৈরি করে, আমাদের নতুন ধারণা গ্রহণ করতে শিখায়, এবং প্রতিদিন আমাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস জোগায় তা হয়তো আমরা জীবনের অন্য কোনো পর্যায়ে গেলে উপভোগ করার সুযোগ পাবো না! 

জেনে অবাক হবেন, পৃথিবীজুড়ে অনেক সফল মানুষ তাদের স্কুলের দিনগুলোতে খুব সাধারণ ছিলেন। কিন্তু তারা সেই সময়কে কাজে লাগিয়েছিলেন কঠোরভাবে। আমাদেরও উচিত সেই একইভাবে আমাদের প্রতিদিনের সময়কে মূল্যবান করে তোলা। আমরা বিদ্যালয়ে আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে যে মূল্যবান জ্ঞান এবং অনুপ্রেরণা পাই তা কাজে লাগানো। 

আমাদের মনে রাখতে হবে, আজকের শিক্ষা, আগামীকালের সফলতা! আমাদের স্কুলের এখনকার পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই ভবিষ্যতে আমাদের নিজ স্বপ্ন পূরণের দিকে নিয়ে যাবে। আর প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন আমাদের বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

সুতরাং, এখন থেকেই চলুন আমরা আমাদের লক্ষ্য ঠিক করি এবং প্রতিটি দিনকে সার্থক করে তুলি কাজের মাধ্যমে।

আজকের এই দিনটাতে আসুন আমরা বিদ্যালয়ে শিখি স্বপ্ন দেখি এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলি। 

ধন্যবাদ!

সুলতানা আফিয়া তাসনিম 

Previous Post Next Post

{ads}