ads

চাকরি না ব্যবসা: ৩০ বছর পর নিজের যে সিদ্ধান্ত ভুল মনে হবে 

job-vs-business-decision-you-may-regret-after-30-years.jpg

২৫ বছর বয়সে আপনার মনে হলো, চাকরি করবো! আবার ৩৫ বছর বয়সে মনে হলো, ইশ! ব্যবসা শুরু করলেই ভালো হতো! এদিকে আবার ৪৫ বছর বয়সে ভাবলেন, কেন যে ব্যবসা ধরলাম না! সবশেষে ৫৫ বছর বয়সে এসে বুঝলেন, এখন আর কিছুই করার সময় নেই!

সো চাকরি করবেন, নাকি ব্যবসা? সবচেয়ে বড় কথা এই এক সিদ্ধান্ত আপনার পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে! চলুন, বাস্তবতা দেখে তবেই চিন্তা করি। 

চাকরি করলে ৩০ বছর পর যা মনে হতে পারে

শুরুতে চলুন চাকরির কিছু ভালো দিক দেখি! চাকরির ভালো কিছু দিক হলো এই চাকরি করলে মাস গেলে নিশ্চিত টাকা আসে, ঝুঁকি কম, নিশ্চিন্ত জীবন উপভোগ করা যায়, সোশ্যাল স্ট্যাটাস ঠিক থাকে, আত্মীয়রা অনেক দাম দেয় এবং খুশি হয়, বেশি চিন্তা না করেও জীবন চালানো যায়। 

শুধু কি ভালো দিক নিয়েই কথা বললে চলবে? এবার চলুন কিছু খারাপ দিক নিয়েও কথা বলি। আপনি আজ চাকরি করলে দেখবেন, ৩০ বছর পর মনে হচ্ছে, জীবনে বড় কিছু করলাম না! তাছাড়া চাকরি করলে বস যা বলবে, সেটাই করতে হবে। মোদ্দাকথা নিজের স্বাধীনতা নেই। এদিকে আবার অনেক বছর চাকরি করলেও আপনাকে একজন কর্মচারী হিসাবেই থেকে যেতে হবে। সবশেষে দেখবেন ৬০ বছর বয়সে চাকরি শেষ! এরপর? এরপর আফসোস শুরু! 

ব্যবসা করলে ৩০ বছর পর যা মনে হতে পারে

চাকরির ভালো দিকগুলির মতো শুরুতে এবারও আমরা ব্যবসার ভালো দিক নিয়ে আলোচনা করবো৷ যেমন ধরুন নিজের বস নিজেই বনে যাওয়া, কেউ ধমক দিতে না পারা, সঠিকভাবে করলে ৩০ বছর পরও ইনকামের পসিবিলিটি থাকা, চাকরি শেষে যেখানে মানুষ টেনশনে থাকে সেখানে টেনশন ফ্রি হয়ে আনলিমিটেড ইনকামের সুযোগ পাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কিন্তু তার মানে এই না যে, ব্যবসার কোনো খারাপ দিক নেই। ব্যবসার খারাপ দিকগুলোর মাঝে আমরা বলতে পারি প্রথম কয়েক বছর অনেক পরিশ্রম করার বিষয়টি। পাশাপাশি থাকে ঝুঁকিও। কারণ ব্যবসায় ভুল সিদ্ধান্ত মানেই বড় ক্ষতি। আবার সবার জন্য ব্যবসা উপযুক্তও না। ধৈর্য ও স্কিল না থাকলে অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়। 

কিন্তু এতো এতো খারাপ দিক থাকার পরও আপনার মনে হবে কেন আরেকটু সাহস করলাম না, কেনো ব্যবসা ধরলাম না! যদি আরেকটু পরিশ্রম করতাম, আজ অনেক বড় কিছু করতে পারতাম। কারণ বস দিনশেষে ব্যবসাতেই আনলিমিটেড ইনকাম। 

তাহলে কি চাকরি বাদ দিয়ে সবার ব্যবসা করা উচিত?

একদম না! অবশ্যই চাকরি দরকার। কারণ সবাই ব্যবসা করতে পারবে না। তাছাড়া ব্যবসা করার জন্য একটা বিশেষ মানসিকতা দরকার। যা সবার থাকে না। তবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে চাকরি করে ধীরে ধীরে ব্যবসার দিকে ফোকাস করা। 

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করার স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করার স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি হিসাবে আপনি চাকরির পাশাপাশি একটা ছোট ব্যবসায় ফোকাস করতে পারেন। পরে সেটাকে ধীরে ধীরে সেটাকে বড় করে তুলতে হবে। যখন ব্যবসা আপনার চাকরির সমান আয় করতে শুরু করবে, ঠিক তখনই চাকরি ছেড়ে দেবেন। 

৩০ বছর পর আপনার কোন সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ভুল মনে হবে? 

আমি কিছুই করিনি…! হ্যাঁ! ঠিকই জেনেছেন! কিছু করতে না করার যে সিদ্ধান্ত আজ আপনি নিয়েছেন, সেটাই ৩০ বছর পর আপনার ওভারথিংকিংয়ের কারণ হবে। মনে রাখবেন শুধু চাকরি করলে, ৩০ বছর পর মনে হতে পারে, আল্লাহ! আরও বড় কিছু করতে পারতাম! আবার শুধু ব্যবসা শুরু করলেও, যদি ধৈর্য না থাকে, তাহলে দেখবেন আপনাকে থেমে যেতে হবে। কিন্তু দু'টো একসাথে যদি শুরু করেন দেখবেন সফলতা হাতের মুঠোয়। 

ইতি কথা

মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি সাহস করে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে দেখবেন ৩০ বছর পর আফসোস করলেও কিছুই বদলানো যাবে না! আপনার বয়স যতই হোক, এখনই সিদ্ধান্ত নিন। চিন্তা করে দেখুন আপনি কি করতে চান, কোনটির প্রতি আপনার মন টানে, কোনটি করলে আপনি পুরোপুরি হাল ছেড়ে দেবেন না। 

আপনার কি মনে হয়? 

আপনার দ্বারা কোনটি হবে?

চাকরি, নাকি ব্যবসা? 

নাকি দুটো একসাথে?

জানিয়ে দিন আইটিনোট বিডিকে! 

লেখা: সুলতানা আফিয়া তাসনিম 

Previous Post Next Post

{ads}